হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইড একটি এন্টিকোলিনার্জিক ওষুধ, যার অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটির বিভিন্ন অংশের নরম মাংসপেশীর (স্মুথ মাসল) উপর খিঁচুনিবিরোধী (অ্যান্টিস্পাসমোডিক) ক্রিয়া রয়েছে। হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইড ট্যাবলেট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে অথবা জেনিটো-ইউরিনারি ট্র্যাক্টের ভিসেরাল খিঁচুনিজনিত লক্ষণসমূহে নির্দেশিত। স্পাসমোডিক ডিসমেনোরিয়াতেও এটি নির্দেশিত। হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইড ইনজেকশন গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল খিঁচুনি এবং রেনাল অথবা বিলিয়ারি (পিত্তের) তীব্র ব্যথাতেও নির্দেশিত। রেডিওলজিতে প্রতিবন্ধকতার পার্থক্যমূলক রোগ নির্ণয়ে, পাইলোগ্রাফিতে খিঁচুনি ও ব্যথা কমাতে এবং গ্যাস্ট্রো-ডিওডেনাল এন্ডোস্কোপির মতো রোগ নির্ণয়ের অন্যান্য পদ্ধতিতেও খিঁচুনির সমস্যা দূর করার জন্য হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইড ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।
বিউটাপ্যান
ট্যাবলেট
Also Available As
মাত্রা ও সেবনবিধি
খাওয়ার জন্য:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ২০ মিলিগ্রাম দিনে চার বার। স্পাসমোডিক ডিসমেনোরিয়ার ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব (মেনস্ট্রুয়েশন) শুরুর সম্ভাব্য তারিখের কমপক্ষে দুদিন আগে থেকে চিকিৎসা শুরু করতে হবে এবং স্রাব শুরুর তিনদিন পরে পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতে হবে।
- ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু: ১০ মিলিগ্রাম দিনে তিনবার অথবা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী।
ইনজেকশন হিসেবে:
-
প্রাপ্তবয়স্ক: মাংসপেশীতে বা শিরাপথে প্রয়োগের জন্য সাধারণ মাত্রা হচ্ছে ২০ মিলিগ্রাম (১টি অ্যাম্পুল), প্রয়োজনে যা ৩০ মিনিট পর পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে। এন্ডোস্কোপির ক্ষেত্রে এই মাত্রা আরও ঘন ঘন প্রয়োগ করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব রোগীর প্রোস্টেটিক বৃদ্ধি ঘটেছে তাদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। যেসব রোগী প্যারালাইটিক ইলিয়াস অথবা পাইলোরিক স্টেনোসিসে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রেও ওষুধটির ব্যবহার নিষিদ্ধ। সম্ভাব্য মাইড্রিয়াটিক ক্ষতির কারণে যেসব রোগীর গ্লুকোমা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এটির ব্যবহার নিষিদ্ধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পিউপিলের প্রসারণ, ইন্ট্রা-অকিউলার প্রেসার বৃদ্ধি, ফ্লাশিং, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ব্র্যাডিকার্ডিয়া এবং তারপরেই ট্যাকিকার্ডিয়া ও এরিমিয়া। কখনো কখনো ক্লান্তি, বমি, মাথা ঝিমঝিম এবং স্ট্যাগারিং হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে অন্যান্য ওষুধের মতো একেও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
সাবধানতা: হায়োসিন ঝিমুনি সৃষ্টি করতে পারে ও মানসিক সতর্কতা নিজে করে নিস্তেজ করে দিতে পারে। যেসকল রোগী হায়োসিন দিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে তাদের গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন অথবা মানসিক একাগ্রতার অভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন কোনো যন্ত্রপাতি চালানো উচিত নয়। রোগীদের মদ্যপান করা থেকেও বিরত থাকা উচিত।
সতর্কতা: থাইরোটক্সিকোসিস, কার্ডিয়াক অপর্যাপ্ততা বা ফেইলিওর এবং হৃদপিন্ডে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এই ওষুধ হৃদপিন্ডের গতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে এর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যান্য এন্টিকোলিনার্জিক ওষুধসমূহ যেমন এমানটেডিন, কোনো কোনো এন্টিহিস্টামিন, বিউটাইরোফেনন ও ফেনোথায়াজিন এবং ট্রাইসাইক্লিক এন্টিডিপ্রেসেন্ট হায়োসিনের সাথে একত্রে প্রয়োগের ফলে হায়োসিনের ক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে বিধায় এসব ক্ষেত্রে হায়োসিন ব্যবহার করতে হলে এর মাত্রা কমিয়ে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
এন্টিকোলিনার্জিকস (এন্টিমাসকারিনিকস) / অ্যান্টি-স্পাসমোডিকস
সংরক্ষণ
মেয়াদ উত্তীর্ণের পর ব্যবহার করবেন না। সকল ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কেবলমাত্র নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিতরণযোগ্য।
Common Questions
হায়োসিন বুটাইলব্রোমাইড কিসের ওষুধ?
হায়োসিন বুটাইলব্রোমাইড এর কাজ কি?
হায়োসিন বুটাইলব্রোমাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
হায়োসিন বুটাইলব্রোমাইড বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় হায়োসিন বুটাইলব্রোমাইড খাওয়া যাবে কি?