Alprazolam ব্যবহৃত হয়:
- উদ্বেগজনিত ব্যাধি (Anxiety disorder)
- স্বল্পমেয়াদে উদ্বেগ উপশমে
- বিষণ্নতার সাথে সম্পর্কিত উদ্বেগে
- প্যানিক ডিসঅর্ডার (আগোরাফোবিয়া সহ বা ছাড়া)
Alprazolam ব্যবহৃত হয়:
Alprazolam হলো ১,৪-বেঞ্জোডায়াজেপিন শ্রেণীর একটি ট্রায়াজোল ডেরিভেটিভ। এতে উদ্বেগনাশক, সেডেটিভ-হিপনোটিক এবং খিঁচুনি প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি মূলত মস্তিষ্কের গামা-অ্যামিনোবিউট্রিক অ্যাসিড (GABA) রিসেপ্টর কমপ্লেক্সের সাথে ক্রিয়া করে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। অন্যান্য বেঞ্জোডায়াজেপিনের মতো, Alprazolam ডোজের উপর নির্ভর করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দমন করে, যা হালকা মনোযোগ হ্রাস থেকে শুরু করে গভীর ঘুম পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসা শুরু করতে হবে দিনে তিনবার ০.২৫ থেকে ০.৫ মি.গ্রা. ডোজ দিয়ে। রোগীর প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে প্রতি ৩–৪ দিন অন্তর ডোজ বাড়ানো যেতে পারে, তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ মি.গ্রা. করে বাড়ানো যাবে। সর্বোচ্চ ডোজ প্রতিদিন ৪ মি.গ্রা. অতিক্রম করা উচিত নয়। কিছু প্যানিক ডিসঅর্ডার রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর ফল পেতে প্রতিদিন ১০ মি.গ্রা. পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে নিয়মিত পুনর্মূল্যায়ন ও ডোজ সমন্বয় করা দরকার।
সর্বোচ্চ উপকার পেতে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করতে হবে। শুরুতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ডোজ কমানো যেতে পারে। চিকিৎসা বন্ধ করার সময় প্রতি ৩ দিনে ০.৫ মি.গ্রা. এর বেশি না কমিয়ে ধীরে ধীরে ডোজ কমাতে হবে।
বয়স্ক রোগী বা গুরুতর লিভার রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রারম্ভিক ডোজ ০.২৫ মি.গ্রা. দিনে দুই বা তিনবার এবং প্রয়োজন ও সহনশীলতার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে।
যেসব রোগী Alprazolam ০.২৫/০.৫ মি.গ্রা. একাধিক ডোজে গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য Alprazolam ১ মি.গ্রা. দিনে একবার, সম্ভব হলে সকালে গ্রহণ করা উচিত। ট্যাবলেট সম্পূর্ণ গিলে খেতে হবে; চিবানো, গুঁড়ো করা বা ভাঙা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা সাধারণত চিকিৎসার শুরুতে দেখা যায় এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে কমে যায়। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ঘুম ঘুম ভাব ও মাথা ঘোরা। এছাড়া বিষণ্নতা, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে।
Alprazolam গর্ভাবস্থার ক্যাটাগরি D-তে অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ এটি ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা উচিত। অন্যান্য বেঞ্জোডায়াজেপিনের মতো এটি মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হতে পারে। তাই Alprazolam গ্রহণকারী মায়েদের স্তন্যদান করা উচিত নয়।
Alprazolam মানসিক ও শারীরিক উভয় ধরনের আসক্তি তৈরি করতে পারে। তাই ডোজ বাড়ানো বা হঠাৎ বন্ধ করা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়। চিকিৎসার সময়কাল চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। লিভার বা কিডনি রোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে Alprazolam-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ঘুম, বিভ্রান্তি, সমন্বয়হীনতা, রিফ্লেক্স কমে যাওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কোমা হতে পারে। এ অবস্থায় সহায়ক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে দ্রুত গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ করা উচিত।
বেঞ্জোডায়াজেপিন শ্রেণীর সেডেটিভ ওষুধ।
৩০°সে. এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
আলপ্রাজোলাম কিসের ওষুধ?
আলপ্রাজোলাম এর কাজ কি?
আলপ্রাজোলাম এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
আলপ্রাজোলাম বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় আলপ্রাজোলাম খাওয়া যাবে কি?