এই আই ড্রপটি একটি নির্দিষ্ট মাত্রার কম্বিনেশন, যেখানে একটি কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ ইনহিবিটার এবং একটি আলফা-২ অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট রয়েছে। এটি ওপেন-এঙ্গেল গ্লুকোমা বা অকুলার হাইপারটেনশনে আক্রান্ত রোগীদের চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে ব্যবহৃত হয়।
ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট
Generic Medicineফার্মাকোলজি
এই আই ড্রপে ব্রিনজোলামাইড (কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ ইনহিবিটার) এবং ব্রিমোনিডিন টারট্রেট (আলফা-২ অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট) রয়েছে। এই দুটি উপাদানই চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে কাজ করে, যা অপটিক নার্ভের ক্ষতি এবং গ্লুকোমাজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের প্রধান কারণ। ব্রিনজোলামাইড চোখের সিলিয়ারি প্রসেসে কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ ইনহিবিট করে অ্যাকুয়াস হিউমার উৎপাদন কমায়। এর ফলে বাইকার্বোনেট আয়ন গঠন কমে যায় এবং সোডিয়াম ও তরল পরিবহন হ্রাস পায়। এর সর্বোচ্চ প্রভাব সাধারণত ২–৩ ঘণ্টার মধ্যে দেখা যায়।
ব্রিমোনিডিন টারট্রেট দ্বৈত প্রক্রিয়ায় কাজ করে—অ্যাকুয়াস হিউমার উৎপাদন কমায় এবং ইউভিওস্ক্লেরাল আউটফ্লো বাড়ায়। সাধারণত প্রয়োগের প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রভাব দেখা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। আক্রান্ত চোখে দিনে তিনবার ১ ফোঁটা প্রয়োগ করুন। একাধিক টপিক্যাল চক্ষু ওষুধ ব্যবহার করলে প্রতিটির মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ (৫) মিনিট বিরতি রাখতে হবে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
এই আই ড্রপ ব্যবহারের সময় বিরল ক্ষেত্রে কিছু ওষুধের সাথে ইন্টারঅ্যাকশন দেখা গেছে, বিশেষ করে উচ্চ মাত্রার স্যালিসাইলেট, CNS ডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ, কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং MAO ইনহিবিটরের সাথে। তাই এই ওষুধ ব্যবহারের সময় সম্ভাব্য ইন্টারঅ্যাকশন বিবেচনা করা উচিত।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব রোগীর ব্রিনজোলামাইড, ব্রিমোনিডিন টারট্রেট বা এই ওষুধের অন্য কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া নবজাতক ও ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
এই কম্বিনেশন ব্যবহারে সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রায় ৩–৫% রোগীর মধ্যে) হলো দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, চোখে জ্বালা বা অস্বস্তি, স্বাদের পরিবর্তন (ডিসগিউসিয়া), মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং চোখে অ্যালার্জি। একক উপাদানগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিম্নরূপ:
ব্রিনজোলামাইড ১%: সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (৫–১০%) হলো দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া এবং অস্বাভাবিক স্বাদ। কম দেখা যায় এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (১–৫%) এর মধ্যে রয়েছে ব্লেফারাইটিস, ডার্মাটাইটিস, চোখ শুষ্ক হওয়া, চোখে কিছু থাকার অনুভূতি, মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া, নিঃসরণ, অস্বস্তি, কেরাটাইটিস, চোখে ব্যথা, চুলকানি এবং রাইনাইটিস।
ব্রিমোনিডিন টারট্রেট ০.২%: সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (১০–৩০%) এর মধ্যে রয়েছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া, জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, চোখে কিছু থাকার অনুভূতি, ক্লান্তি বা তন্দ্রা, কনজাঙ্কটিভাল ফলিকল, অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া এবং চুলকানি।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট কম্বিনেশনটি Pregnancy Category C-এর অন্তর্ভুক্ত। গর্ভাবস্থায় এটি শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন সম্ভাব্য উপকার ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি। চোখে ব্যবহারের পর এই ওষুধ মানব দুধে নির্গত হয় কিনা তা নিশ্চিত নয়। যেহেতু অনেক ওষুধ দুধে নির্গত হয়ে শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই মায়ের চিকিৎসার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্তন্যদান বন্ধ করা বা ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সতর্কতা
এই কম্বিনেশনে ব্রিনজোলামাইড রয়েছে, যা একটি সালফোনামাইড এবং স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের পরও শরীরে শোষিত হতে পারে। তাই সিস্টেমিক সালফোনামাইডের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস, লিভার নেক্রোসিস, অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এবং অন্যান্য রক্তজনিত সমস্যা (যদিও বিরল)। ব্রিমোনিডিন রক্তনালীর সমস্যার সাথে সম্পর্কিত অবস্থাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডিপ্রেশন, সেরিব্রোভাসকুলার বা করোনারি অপ্রতুলতা, রেনোডস ফেনোমেনন বা অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ব্রিনজোলামাইড ও এর মেটাবোলাইট প্রধানত কিডনির মাধ্যমে নির্গত হয়, তাই কিডনি সমস্যায় এটি ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না। এতে থাকা সংরক্ষণকারী (বেঞ্জালকোনিয়াম ক্লোরাইড) সফট কনট্যাক্ট লেন্স দ্বারা শোষিত হতে পারে, তাই ড্রপ দেওয়ার আগে লেন্স খুলে ফেলতে হবে এবং ১৫ মিনিট পরে পুনরায় পরা যাবে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে: ব্রিনজোলামাইড ৪ সপ্তাহ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এবং ব্রিমোনিডিন ২ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে গবেষণা করা হয়েছে। ২ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত তন্দ্রা ও সতর্কতা কমে যাওয়া দেখা গেছে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই কম্বিনেশনটি নিষিদ্ধ।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি।
মাত্রাধিকত্যা
মানুষের ক্ষেত্রে তথ্য সীমিত হলেও, ব্রিনজোলামাইডের অতিরিক্ত মাত্রায় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস এবং স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রক্তের ইলেকট্রোলাইট (বিশেষ করে পটাশিয়াম) ও pH পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ব্রিমোনিডিন দুর্ঘটনাজনিতভাবে গ্রহণ করলে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসায় সাপোর্টিভ ও উপসর্গভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শ্বাসনালী সচল রাখতে হবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ড্রাগস ফর মায়োটিকস অ্যান্ড গ্লুকোমা
সংরক্ষণ
রুম টেম্পারেচারে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণ করুন। ড্রপার টিপ কোনো কিছুর সাথে স্পর্শ করবেন না। প্রথমবার খোলার এক মাসের বেশি ব্যবহার করবেন না। ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন এবং জমে যাওয়া থেকে রক্ষা করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট কিসের ওষুধ?
ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট এর কাজ কি?
ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট বেশি ব্যবহার করলে কি হয় ?
গর্ভাবস্থায় ব্রিনজোলামাইড + ব্রিমোনিডিন টারট্রেট ব্যবহার করা যাবে কি?
No available drugs found