ফ্লুরোকুইনোলোন শ্রেণির ওষুধের সঙ্গে এমন কিছু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যা অক্ষমতাজনিত এবং কখনও কখনও স্থায়ীও হতে পারে। সাধারণভাবে দেখা যায় এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে টেন্ডিনাইটিস, টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া, জয়েন্টে ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব যেমন হ্যালুসিনেশন, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, তীব্র মাথাব্যথা ও বিভ্রান্তি। এ ধরনের কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রথম লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলেই ডেলাফ্লক্সাসিন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।
ফ্লুরোকুইনোলোন ব্যবহারে সব বয়সের রোগীদের মধ্যে টেন্ডিনাইটিস ও টেন্ডন রাপচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসা শুরু করার কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যেই, এমনকি চিকিৎসা শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি শরীরের উভয় পাশেও হতে পারে। রোগীর টেন্ডনে ব্যথা, ফোলা, প্রদাহ বা ছিঁড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে ডেলাফ্লক্সাসিন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ডেলাফ্লক্সাসিনসহ ফ্লুরোকুইনোলোন ব্যবহারে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ছোট বা বড় অ্যাক্সন আক্রান্ত করে এমন sensory বা sensorimotor axonal polyneuropathy-এর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, যার ফলে ঝিনঝিন অনুভূতি, অনুভূতি কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক অনুভূতি এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে ডেলাফ্লক্সাসিন দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
ডেলাফ্লক্সাসিনসহ ফ্লুরোকুইনোলোনে মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে toxic psychosis, hallucination, paranoia, depression, suicidal thoughts বা আচরণ, delirium, disorientation, confusion, মনোযোগের ব্যাঘাত, উদ্বেগ, অস্থিরতা, স্নায়বিক উত্তেজনা, অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ফ্লুরোকুইনোলোন ব্যবহারে খিঁচুনি, মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি (pseudotumor cerebri-সহ), মাথা ঘোরা এবং কম্পনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। রোগীর এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে ডেলাফ্লক্সাসিন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।
ফ্লুরোকুইনোলোনের neuromuscular blocking activity থাকার কারণে myasthenia gravis রোগীদের পেশী দুর্বলতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের myasthenia gravis-এর পরিচিত ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ডেলাফ্লক্সাসিন ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
ফ্লুরোকুইনোলোন থেরাপির সময় গুরুতর এবং কখনও কখনও প্রাণঘাতী hypersensitivity reaction, যেমন anaphylaxis, রিপোর্ট হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে cardiovascular collapse, চেতনা হারানো, ঝিনঝিন অনুভূতি, গলা বা মুখমণ্ডলে ফোলা, শ্বাসকষ্ট, urticaria এবং চুলকানি দেখা গেছে। ত্বকে র্যাশ বা hypersensitivity-এর অন্য কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ডেলাফ্লক্সাসিন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ডেলাফ্লক্সাসিনসহ প্রায় সব systemic antibacterial ওষুধ ব্যবহারে Clostridium difficile-associated diarrhea (CDAD) রিপোর্ট হয়েছে। এর তীব্রতা হালকা ডায়রিয়া থেকে প্রাণঘাতী colitis পর্যন্ত হতে পারে। ফ্লুরোকুইনোলোন ব্যবহারের পর, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, দুই মাসের মধ্যে aortic aneurysm এবং aortic dissection-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার কথাও রিপোর্ট হয়েছে।
ফ্লুরোকুইনোলোনের সঙ্গে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার অস্বাভাবিকতা, যেমন লক্ষণযুক্ত hyperglycemia এবং hypoglycemia-এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এ সমস্যা সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যারা oral hypoglycemic agent বা insulin একসঙ্গে গ্রহণ করেন। এ ধরনের রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। অন্যান্য ফ্লুরোকুইনোলোনে গুরুতর hypoglycemia-এর কারণে coma বা মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছে। Hypoglycemic reaction ঘটলে ডেলাফ্লক্সাসিন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ডেলাফ্লক্সাসিন সেবনে মাথা ঘোরা বা হালকা ঝিমঝিম ভাব হতে পারে। ওষুধটি আপনার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালানো, যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা, বা মানসিক সতর্কতা ও সমন্বয় প্রয়োজন এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।