বুডেসোনাইড ইনহেলার প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৬ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশুদের অ্যাজমার দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেসব রোগীর অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ওরাল কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে এটি ধীরে ধীরে ওরাল স্টেরয়েডের প্রয়োজন কমাতে বা বন্ধ করতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি তীব্র ব্রঙ্কোস্পাজমের তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয় না।
বুডেসোনাইড (ইনহেলার)
Generic Medicineফার্মাকোলজি
বুডেসোনাইড ইনহেলার একটি কর্টিকোস্টেরয়েড, যা শক্তিশালী গ্লুকোকর্টিকয়েড কার্যকারিতা এবং দুর্বল মিনারেলোকর্টিকয়েড প্রভাব প্রদর্শন করে। কর্টিকোস্টেরয়েড বিভিন্ন প্রদাহজনিত কোষ (যেমন মাস্ট সেল, ইওসিনোফিল, নিউট্রোফিল, ম্যাক্রোফেজ, লিম্ফোসাইট) এবং মিডিয়েটর (যেমন হিস্টামিন, ইকোসানোয়েড, লিউকোট্রিন, সাইটোকাইন) কে দমন করে প্রদাহ কমায়। এর ফলে এলার্জিক ও নন-এলার্জিক উভয় ধরনের প্রদাহ কমে এবং অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বুডেসোনাইড ইনহেলার ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ উপশমের শুরু এবং মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত, ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড হিসেবে বুডেসোনাইড ইনহেলার দ্রুত কাজ শুরু করে। চিকিৎসা শুরু করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে উন্নতি দেখা যেতে পারে, তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে ১ থেকে ২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। প্রস্তাবিত ডোজের বেশি ব্যবহার করলে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
প্রাপ্তবয়স্ক: শুধুমাত্র ব্রংকোডাইলেটর-
- প্রাথমিক ডোজ: দিনে ২ বার ২০০–৪০০ মাইক্রোগ্রাম
- সর্বোচ্চ ডোজ: দিনে ২ বার ৪০০ মাইক্রোগ্রাম
প্রাপ্তবয়স্ক: ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড**-
- প্রাথমিক ডোজ: দিনে ২ বার ২০০–৪০০ মাইক্রোগ্রাম
- সর্বোচ্চ ডোজ: দিনে ২ বার ৮০০ মাইক্রোগ্রাম
প্রাপ্তবয়স্ক: ওরাল কর্টিকোস্টেরয়েড-
- প্রাথমিক ডোজ: দিনে ২ বার ৪০০–৮০০ মাইক্রোগ্রাম
- সর্বোচ্চ ডোজ: দিনে ২ বার ৮০০ মাইক্রোগ্রাম
শিশু: শুধুমাত্র ব্রংকোডাইলেটর-
- প্রাথমিক ডোজ: দিনে ২ বার ২০০ মাইক্রোগ্রাম
- সর্বোচ্চ ডোজ: দিনে ২ বার ৪০০ মাইক্রোগ্রাম
শিশু: ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড**-
- প্রাথমিক ডোজ: দিনে ২ বার ২০০–৪০০ মাইক্রোগ্রাম
- সর্বোচ্চ ডোজ: দিনে ২ বার ৪০০ মাইক্রোগ্রাম
শিশু: ওরাল কর্টিকোস্টেরয়েড-
- প্রস্তাবিত ডোজ: শিশুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত ডোজ হলো দিনে ২ বার ৪০০ মাইক্রোগ্রাম
**যেসব রোগীর হালকা থেকে মাঝারি অ্যাজমা আছে এবং ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত, তাদের ক্ষেত্রে বুডেসোনাইড ইনহেলার ২০০ মাইক্রোগ্রাম বা ৪০০ মাইক্রোগ্রাম দিনে একবার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সকালে বা সন্ধ্যায় একবার ব্যবহার করা যায়।
যদি দিনে একবার ব্যবহারে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া যায়, তবে মোট দৈনিক ডোজ বাড়াতে হবে বা বিভক্ত ডোজে দিতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী ওরাল কর্টিকোস্টেরয়েড গ্রহণকারী রোগী: শুরুতে রোগীর পূর্ববর্তী সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েডের ডোজের সাথে একসাথে বুডেসোনাইড ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। প্রায় এক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড কমানো শুরু করতে হবে। রোগীর প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে প্রতি ১–২ সপ্তাহ পর ডোজ কমানো হয়। সাধারণত প্রতিবার কমানোর পরিমাণ ২.৫ মি.গ্রা. প্রেডনিসোন বা সমপরিমাণের বেশি হওয়া উচিত নয়। ধীরে ধীরে ডোজ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে রোগীর অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাড্রেনাল অক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে ব্যথা, দুর্বলতা, হতাশা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন রোগীদের বুডেসোনাইড চালিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড সাময়িকভাবে বাড়াতে হতে পারে।
প্রয়োগ পদ্ধতি
ইনহেলার ব্যবহার করা সহজ মনে হলেও অনেক রোগী সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানেন না। ভুলভাবে ব্যবহার করলে কম ওষুধ ফুসফুসে পৌঁছায়। সঠিক ও নিয়মিত ব্যবহার অ্যাজমার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
ইনহেলার সঠিকভাবে ব্যবহারের ধাপসমূহ:
- ঢাকনা খুলুন।
- প্রতিবার ব্যবহারের আগে ইনহেলারটি ভালোভাবে ঝাঁকান (কমপক্ষে ৬ বার)।
- নতুন হলে বা এক সপ্তাহ ব্যবহার না করলে একবার বাতাসে স্প্রে করুন।
- স্বাভাবিকভাবে শ্বাস ছাড়ুন এবং ইনহেলার সোজা ধরে রাখুন।
- মুখে মাউথপিস নিয়ে ঠোঁট দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করুন।
- ধীরে গভীর শ্বাস নিতে নিতে ক্যানিস্টার চাপুন।
- ইনহেলার মুখ থেকে সরিয়ে ১০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন।
- একাধিক পাফ হলে ১ মিনিট বিরতি দিন।
- পুনরায় ঝাঁকিয়ে একই ধাপ অনুসরণ করুন।
- ব্যবহারের পর ঢাকনা লাগান এবং মুখ ধুয়ে ফেলুন।
- আয়নার সামনে দেখে নিশ্চিত করুন সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা।
ইনহেলার পরিষ্কার করার নিয়ম: সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। ক্যানিস্টার খুলে প্লাস্টিক অংশ পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে আবার লাগান। ধাতব ক্যানিস্টার পানিতে দেবেন না।
প্রতিনির্দেশনা
স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাস বা তীব্র অ্যাজমা আক্রমণের প্রাথমিক চিকিৎসায় বুডেসোনাইড ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে না। যেসব রোগীর বুডেসোনাইডের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সাধারণ: মাথাব্যথা, ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ, ব্যথা, পিঠে ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা।
- শ্বাসতন্ত্র: শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ফ্যারিঞ্জাইটিস, সাইনুসাইটিস, রাইনাইটিস, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, কাশি বৃদ্ধি।
- পরিপাকতন্ত্র: মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিস, হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস, বমিভাব, পেট ব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, বমি।
- মেটাবলিক: ওজন বৃদ্ধি।
- মাসকুলোস্কেলেটাল: হাড় ভাঙা, পেশি ব্যথা, জয়েন্ট ব্যথা।
- স্নায়ুতন্ত্র: অজ্ঞান হওয়া, হাইপারটোনিয়া, মাইগ্রেন।
- ত্বক: কালশিটে পড়া।
- মানসিক: অনিদ্রা।
- সংক্রমণ: সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- বিশেষ অনুভূতি: স্বাদের পরিবর্তন।
সতর্কতা
ওরাল কর্টিকোস্টেরয়েড বন্ধ করার সময় কিছু রোগীর জয়েন্ট বা পেশির ব্যথা, ক্লান্তি বা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যদিও ফুসফুসের কার্যকারিতা বজায় থাকে বা উন্নত হয়। বুডেসোনাইড হাইপোথ্যালামিক-পিটুইটারি-অ্যাড্রেনাল (HPA) অক্ষকে দমন করতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ ডোজে। সিস্টেমিক শোষণ তুলনামূলক কম হলেও সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করা উচিত। কোর্টিসল দমনের প্রতি ব্যক্তিভেদে সংবেদনশীলতা ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশুদের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ধরণ বা তীব্রতায় প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
থেরাপিউটিক ক্লাস
নাসাল ডিকনজেস্ট্যান্টস অ্যান্ড আদার নাসাল প্রিপারেশনস, রেসপিরেটরি কর্টিকোস্টেরয়েডস
সংরক্ষণ
৩০°সে এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বুডেসোনাইড (ইনহেলার) কিসের ওষুধ?
বুডেসোনাইড (ইনহেলার) এর কাজ কি?
বুডেসোনাইড (ইনহেলার) এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
বুডেসোনাইড (ইনহেলার) বেশি নিলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় বুডেসোনাইড (ইনহেলার) ব্যবহার করা যাবে কি?
No available drugs found