Loading...

ওলাপারিব

Generic Medicine
নির্দেশনা

স্তন ক্যান্সার: ওলাপারিব একক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয় প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, যাদের ক্ষতিকর বা সম্ভাব্য ক্ষতিকর জার্মলাইন BRCA মিউটেশন (gBRCAm) রয়েছে এবং HER2-নেগেটিভ মেটাস্ট্যাটিক স্তন ক্যান্সার আছে। এই রোগীরা আগে নেয়োঅ্যাডজুভেন্ট, অ্যাডজুভেন্ট বা মেটাস্ট্যাটিক পর্যায়ে কেমোথেরাপি গ্রহণ করেছেন। HR-পজিটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপিতে রোগের অগ্রগতি থাকতে হবে বা সেটি উপযুক্ত না হতে হবে। চিকিৎসা শুরুর আগে BRCA মিউটেশন নিশ্চিত করা আবশ্যক।

ডিম্বাশয় ক্যান্সার: ওলাপারিব একক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয় প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, যাদের প্লাটিনাম-সেনসিটিভ রিল্যাপ্সড উচ্চ-গ্রেড এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা প্রাইমারি পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার রয়েছে এবং যারা প্লাটিনাম-ভিত্তিক কেমোথেরাপির পর সম্পূর্ণ বা আংশিক সাড়া পেয়েছেন।

ফার্মাকোলজি

ওলাপারিব একটি সিলেক্টিভ PARP (poly ADP-ribose polymerase) ইনহিবিটর, যা PARP1, PARP2 এবং PARP3 এনজাইমকে বাধা দেয়। এই এনজাইমগুলো DNA মেরামত, জিন ট্রান্সক্রিপশন এবং কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওলাপারিব in vitro পরীক্ষায় টিউমার কোষের বৃদ্ধি কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং মাউস xenograft মডেলে টিউমার বৃদ্ধি হ্রাস করেছে, একক চিকিৎসা হিসেবে এবং প্লাটিনাম-ভিত্তিক কেমোথেরাপির পরেও। বিশেষ করে BRCA ঘাটতিযুক্ত ক্যান্সার মডেলে এর সাইটোটক্সিক ও অ্যান্টিটিউমার কার্যকারিতা বেশি দেখা যায়। এর কার্যপ্রক্রিয়ায় PARP এনজাইমের কার্যকারিতা বন্ধ হয় এবং PARP-DNA কমপ্লেক্স তৈরি হয়, যার ফলে DNA মেরামত ব্যাহত হয়, কোষীয় ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং কোষ ধ্বংস হয়।

শোষণ (Absorption): মুখে সেবনের পর ক্যাপসুল ফর্মে ওলাপারিব দ্রুত শোষিত হয় এবং ১–৩ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ রক্তমাত্রা পৌঁছে। বারবার সেবনে উল্লেখযোগ্য জমা হয় না (accumulation ratio 1.4–1.5), এবং ৩–৪ দিনের মধ্যে steady state তৈরি হয়। ১০০–৪০০ মি.গ্রা. ডোজে রক্তে এর মাত্রা ডোজ অনুযায়ী পুরোপুরি সমানুপাতিকভাবে বাড়ে না। উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার শোষণ কিছুটা বিলম্বিত করে (Tmax প্রায় ২ ঘণ্টা দেরি হয়), তবে মোট শোষণে বড় পরিবর্তন আনে না (AUC প্রায় ২০% বৃদ্ধি পায়)।

বিতরণ (Distribution): গড় (± SD) apparent volume of distribution ১৬৭ ± ১৯৬ লিটার। প্রোটিনের সাথে প্রায় ৮২% যুক্ত থাকে।

মেটাবলিজম (Metabolism): ওলাপারিব প্রধানত CYP3A4/5 এনজাইম দ্বারা বিপাকিত হয়। 14C-ওলাপারিব সেবনের পর রক্তে প্রায় ৭০% রেডিওঅ্যাক্টিভিটি অপরিবর্তিত ওষুধ হিসেবে থাকে। প্রস্রাবে ১৫% এবং মলে ৬% অপরিবর্তিত ওষুধ পাওয়া যায়। প্রধান বিপাক প্রক্রিয়া হলো অক্সিডেশন, এরপর গ্লুকুরোনাইড ও সালফেট কনজুগেশন।

নিঃসরণ (Excretion): গড় (± SD) টার্মিনাল হাফ-লাইফ ১১.৯ ± ৪.৮ ঘণ্টা এবং ক্লিয়ারেন্স ৮.৬ ± ৭.১ লিটার/ঘণ্টা। ১৪C-ওলাপারিব গ্রহণের পর ৭ দিনের মধ্যে প্রায় ৮৬% রেডিওঅ্যাক্টিভিটি বের হয়ে যায়, যার ৪৪% প্রস্রাবে এবং ৪২% মলে পাওয়া যায়। অধিকাংশই মেটাবোলাইট আকারে নির্গত হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

গুরুত্বপূর্ণ ডোজ তথ্য: Olaparib ক্যাপসুল (50 mg) কে Olaparib ট্যাবলেট (100 mg এবং 150 mg) এর সাথে মিলিগ্রাম-টু-মিলিগ্রাম ভিত্তিতে প্রতিস্থাপন করা যাবে না, কারণ প্রতিটি ফর্মুলেশনের ডোজ ও বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটিতে পার্থক্য রয়েছে।

প্রস্তাবিত ডোজ: Olaparib এর প্রস্তাবিত ডোজ হলো 400 mg (আটটি 50 mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার মুখে সেবন করতে হবে, খাবারের সাথে বা ছাড়া, মোট দৈনিক ডোজ 800 mg। রোগের অগ্রগতি বা অগ্রহণযোগ্য টক্সিসিটি না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। যদি কোনো ডোজ মিস হয়, তাহলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে পরবর্তী ডোজ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাপসুল সম্পূর্ণ গিলে খেতে হবে। চিবানো, দ্রবীভূত করা বা ক্যাপসুল খোলা যাবে না। বিকৃত বা লিক হওয়ার লক্ষণযুক্ত ক্যাপসুল গ্রহণ করা যাবে না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনার জন্য ডোজ পরিবর্তন: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ করা বা ডোজ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত ডোজ হ্রাস হলো 200 mg (চারটি 50 mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার, মোট দৈনিক ডোজ 400 mg। যদি আরও ডোজ হ্রাস প্রয়োজন হয়, তবে 100 mg (দুটি 50 mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার, মোট দৈনিক ডোজ 200 mg এ নামিয়ে আনতে হবে।

CYP3A ইনহিবিটরের সাথে ব্যবহারের জন্য ডোজ পরিবর্তন: শক্তিশালী এবং মাঝারি CYP3A ইনহিবিটরের সাথে একসাথে ব্যবহার এড়াতে হবে এবং বিকল্প ওষুধ বিবেচনা করতে হবে যেগুলোর CYP3A ইনহিবিশন কম। যদি ইনহিবিটার এড়ানো না যায়, তাহলে শক্তিশালী CYP3A ইনহিবিটরের ক্ষেত্রে Olaparib এর ডোজ 150 mg (তিনটি 50 mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার এবং মাঝারি CYP3A ইনহিবিটরের ক্ষেত্রে 200 mg (চারটি 50 mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার করতে হবে।

কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের জন্য ডোজ পরিবর্তন: হালকা কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের (ClCr 51-80 mL/min) ক্ষেত্রে Olaparib ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। মাঝারি কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের (ClCr 31-50 mL/min) ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ডোজ হ্রাস হলো 300 mg (ছয়টি 50 mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার, মোট দৈনিক ডোজ 600 mg। গুরুতর কিডনি সমস্যা বা end-stage renal disease (ClCr ≤30 mL/min) রোগীদের ক্ষেত্রে Olaparib এর ফার্মাকোকিনেটিক্স মূল্যায়ন করা হয়নি। অথবা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে Olaparib এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অ্যান্টিক্যান্সার ওষুধ: ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে যে ওলাপারিব অন্যান্য মায়েলোসাপ্রেসিভ (bone marrow suppressive) অ্যান্টিক্যান্সার ওষুধ, বিশেষ করে DNA ক্ষতিসাধনকারী ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে অস্থিমজ্জা দমনজনিত বিষক্রিয়া বাড়তে এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ওলাপারিবের মাত্রা বাড়াতে পারে এমন ওষুধ: ওলাপারিব প্রধানত CYP3A এনজাইম দ্বারা বিপাকিত হয়। শক্তিশালী CYP3A ইনহিবিটর itraconazole একসাথে ব্যবহারে ওলাপারিবের AUC প্রায় ১৭০% বৃদ্ধি পায়। মাঝারি CYP3A ইনহিবিটর fluconazole প্রায় ১২১% পর্যন্ত AUC বাড়াতে পারে। তাই itraconazole, ketoconazole, clarithromycin, telithromycin, voriconazole, ritonavir ইত্যাদি শক্তিশালী CYP3A ইনহিবিটর এড়িয়ে চলা উচিত। একইভাবে ciprofloxacin, diltiazem, erythromycin, fluconazole, verapamil ইত্যাদি মাঝারি ইনহিবিটরও সম্ভব হলে এড়াতে হবে। প্রয়োজনে ডোজ কমাতে হবে। এছাড়া গ্রেপফ্রুট ও এর জুস, সেভিল অরেঞ্জ এবং এর জুস এড়িয়ে চলতে হবে।

ওলাপারিবের মাত্রা কমাতে পারে এমন ওষুধ: Rifampicin ওলাপারিবের AUC প্রায় ৮৭% কমায়। Efavirenz প্রায় ৫০% পর্যন্ত AUC কমাতে পারে। phenytoin, carbamazepine, rifampicin, St. John’s Wort ইত্যাদি শক্তিশালী CYP3A ইনডিউসার এড়ানো উচিত। bosentan, modafinil, etravirine ইত্যাদি মাঝারি ইনডিউসারও এড়াতে হবে। এড়ানো সম্ভব না হলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

যাদের ওলাপারিব বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে সাধারণ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো অ্যানিমিয়া। এছাড়া অ্যালার্জিক ডার্মাটাইটিস, নিউট্রোফিল কমে যাওয়া এবং প্লেটলেট কমে যাওয়া বিরলভাবে দেখা যেতে পারে। ওলাপারিব গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪.৯% রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে। অ্যানিমিয়া ও থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া প্রধান কারণ ছিল।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: ওলাপারিব ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে এবং প্রাণী পরীক্ষায় এটি টেরাটোজেনিক ও ভ্রূণ বিষক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত হলে ভ্রূণের ঝুঁকি সম্পর্কে রোগীকে জানাতে হবে।

স্তন্যদান: ওলাপারিব বুকের দুধে যায় কিনা তা জানা যায়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে চিকিৎসার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্তন্যদান বন্ধ করা বা ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সতর্কতা

মাইয়েলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোম/অ্যাকিউট মাইয়েলয়েড লিউকেমিয়া (MDS/AML): ওলাপারিব একক চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল গবেষণায়, দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণসহ, MDS/AML-এর হার ছিল ১.৫% এর কম (১৬৮০ রোগীর মধ্যে ২১ জন), এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ জনের BRCA মিউটেশন নিশ্চিত ছিল, ১ জনের BRCA ওয়াইল্ডটাইপ ছিল এবং ১ জনের ক্ষেত্রে তথ্য অজানা ছিল। কম্বিনেশন থেরাপিতেও অতিরিক্ত কিছু ঘটনা পাওয়া গেছে। ওলাপারিব ব্যবহারের সময়কাল ৬ মাসের কম থেকে ২ বছরের বেশি পর্যন্ত ছিল। অধিকাংশ রোগী আগে প্লাটিনাম-ভিত্তিক কেমোথেরাপি বা অন্যান্য DNA ক্ষতিকর চিকিৎসা যেমন রেডিওথেরাপি গ্রহণ করেছিলেন। কিছু রোগীর পূর্বে ক্যান্সার বা অস্থিমজ্জা সম্পর্কিত রোগও ছিল।

যতক্ষণ না পূর্ববর্তী কেমোথেরাপি-জনিত রক্তজনিত বিষক্রিয়া (≤ Grade 1) থেকে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়, ততক্ষণ ওলাপারিব শুরু করা উচিত নয়। চিকিৎসার শুরুতে এবং এরপর প্রতি মাসে রক্তের পূর্ণ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী রক্তকণিকা কমে গেলে ওষুধ বন্ধ করে সাপ্তাহিকভাবে মনিটর করতে হবে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হলে হেমাটোলজিস্টের পরামর্শ, বোন ম্যারো পরীক্ষা ও জেনেটিক টেস্ট প্রয়োজন। MDS/AML নিশ্চিত হলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।

পালমোনাইটিস: ওলাপারিব ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১% এর কম রোগীর ক্ষেত্রে পালমোনাইটিস দেখা গেছে, যার কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে। শ্বাসকষ্ট, কাশি বা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে বা এক্স-রে তে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। নিশ্চিত হলে ওলাপারিব স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হবে।

মাত্রাধিকত্যা

ওলাপারিব অতিরিক্ত সেবনের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই এবং লক্ষণগুলো সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। অতিরিক্ত সেবনের ক্ষেত্রে সাধারণ সহায়ক ও উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

টার্গেটেড ক্যান্সার থেরাপি

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ওলাপারিব (Olaparib) কিসের ওষুধ?

Olaparib এর কাজ কি?

Olaparib এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

Olaparib বেশি খেলে কি হয়?

Olaparib কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?

No available drugs found

  View in English