Ornidazole ব্যবহৃত হয়:অ্যামিবিয়াসিস (অন্ত্র ও যকৃতের সংক্রমণ), জিয়ার্ডিয়াসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসিস , ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস , সংবেদনশীল অ্যানায়েরোবিক সংক্রমণের চিকিৎসায় ।
অর্নিডাজল
Generic Medicineফার্মাকোলজি
Ornidazole একটি 5-nitroimidazole ডেরিভেটিভ, যা প্রোটোজোয়া এবং অ্যানায়েরোবিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। এটি শরীরে সক্রিয় রিডাকশন প্রোডাক্টে রূপান্তরিত হয়, যা জীবাণুর DNA-এর সাথে প্রতিক্রিয়া করে DNA-এর গঠন নষ্ট করে এবং স্ট্র্যান্ড ভেঙে দেয়। ফলে প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সংবেদনশীল জীবাণুর মৃত্যু ঘটে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অ্যামিবিয়াসিস:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ৫ দিন পর্যন্ত দিনে ২ বার ৫০০ মি.গ্রা।
- শিশু: প্রতি কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী ১০-২৫ মি.গ্রা, ২ ভাগে বিভক্ত ডোজে।
অ্যামিবিক আমাশয়:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ৩ দিন পর্যন্ত দিনে ১ বার ১.৫ গ্রাম।
- শিশু: প্রতি কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী ৪০ মি.গ্রা, দিনে ১ বার, ৩ দিন পর্যন্ত।
জিয়ার্ডিয়াসিস:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ১-২ দিন পর্যন্ত দিনে ১ বার ১.৫ গ্রাম।
- শিশু: প্রতি কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী ৪০ মি.গ্রা, ২ দিন পর্যন্ত।
ট্রাইকোমোনিয়াসিস: ১.৫ গ্রাম একবারে অথবা ৫ দিন পর্যন্ত দিনে ২ বার ৫০০ মি.গ্রা। যৌন সঙ্গীকেও একই সময়ে চিকিৎসা করতে হবে।
ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস: ৫০০ মি.গ্রা-এর ৩টি ট্যাবলেট একসাথে একক ডোজ হিসেবে অথবা ৫-৭ দিন পর্যন্ত দিনে ১ বার ৫০০ মি.গ্রা-এর ১টি ট্যাবলেট।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অন্যান্য ইমিডাজোল ডেরিভেটিভের মতো, অর্নিডাজল হালকা ডিসালফিরাম-সদৃশ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। মুখে সেবনযোগ্য অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে যকৃতের বিপাক কমে যাওয়ার কারণে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্নিডাজল ৫-ফ্লুরোইউরাসিলের ক্লিয়ারেন্সও কমাতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রতিনির্দেশনা
অর্নিডাজল বা অন্যান্য নাইট্রোইমিডাজোল ডেরিভেটিভের প্রতি পরিচিত অতিসংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের রোগে, বিশেষ করে মৃগী বা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথিতে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
অর্নিডাজলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রধানত পরিপাকতন্ত্রে যেমন বমিভাব, বমি এবং এপিগ্যাস্ট্রিক অস্বস্তি, এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে যেমন মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত। অন্যান্য অনেক নাইট্রোইমিডাজোলের তুলনায় অর্নিডাজল অ্যালকোহলের সাথে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া করে না, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
চিকিৎসাকালীন মাঝে মাঝে লিউকোপেনিয়ার ঘটনা দেখা গেছে। সিএনএস-সম্পর্কিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, তন্দ্রা, ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং অবসাদ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মেট্রোনিডাজলের তুলনায় এসব প্রভাব কম হতে পারে। বর্তমানে প্রাপ্ত গবেষণায় খিঁচুনির কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালিত হয়নি। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে শুধুমাত্র তখনই অর্নিডাজল ব্যবহার করা উচিত, যখন প্রত্যাশিত উপকার ভ্রূণ বা নবজাতকের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়।
সতর্কতা
অ্যাটাক্সিয়া, ভার্টিগো বা মানসিক বিভ্রান্তি রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে অর্নিডাজল সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় মৃদু রক্তজনিত অসামঞ্জস্যতা যেমন লিউকোপেনিয়া বিরলভাবে দেখা যেতে পারে। লিউকোপেনিয়া দেখা দিলে সংক্রমণের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
বৃক্কের অকার্যকারিতা: হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিসের আগে অতিরিক্ত ডোজ (নিয়মিত ডোজের ৫০%) দিতে হবে।
যকৃতের অকার্যকারিতা: গুরুতর যকৃতের সমস্যায় ডোজের মধ্যবর্তী সময় দ্বিগুণ করতে হবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
অ্যামিবিসাইড, অ্যান্টি-ডায়রিয়াল অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল
সংরক্ষণ
কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
অর্নিডাজল কিসের ওষুধ ?
অর্নিডাজল এর কাজ কি?
অর্নিডাজল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
অর্নিডাজল বেশি খেলে কি হয় ?
গর্ভাবস্থায় অর্নিডাজল খাওয়া যাবে কি?