Oteseconazole ব্যবহৃত হয় সেই নারীদের মধ্যে পুনরাবৃত্ত ভলভোভ্যাজাইনাল ক্যান্ডিডিয়াসিস (RVVC) এর হার কমাতে, যাদের এই রোগের ইতিহাস আছে এবং যারা প্রজননক্ষম নন। যদি চিকিৎসা শুরুর আগে ফাঙ্গাল কালচার পরীক্ষা করা হয়, তবে ফলাফল আসার আগেই চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীতে রিপোর্ট পাওয়ার পর চিকিৎসা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে।
ওটিসিকোনাজল
Generic Medicineফার্মাকোলজি
Oteseconazole একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ। এর ডোজ-প্রতিক্রিয়া সম্পর্ক এবং ফার্মাকোডাইনামিক প্রভাবের সময়কাল সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। এটি অ্যাজোল শ্রেণীর ওষুধ এবং ফাঙ্গাসের স্টেরল 14α-demethylase (CYP51) এনজাইমকে বাধা দেয়, যা এরগোস্টেরল তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপে কাজ করে। এরগোস্টেরল ফাঙ্গাল কোষের ঝিল্লি গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক। CYP51 বাধাগ্রস্ত হলে বিষাক্ত 14-মিথাইলেটেড স্টেরল জমা হয়, যা ফাঙ্গাল কোষ ধ্বংস করে। টেট্রাজল মেটাল-বাইন্ডিং গ্রুপ থাকার কারণে এটি মানুষের CYP এনজাইমের প্রতি কম সংবেদনশীল, ফলে এটি বেশি নির্বাচনীভাবে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ওটিসেকোনাজল ব্যবহারের দুইটি সুপারিশকৃত ডোজ রেজিমেন রয়েছে:
ওটিসেকোনাজল-শুধু (Oteseconazole-only) রেজিমেন:
- দিন ১-এ: ওটিসেকোনাজল ৬০০ মি.গ্রা. (একক ডোজ) প্রয়োগ করতে হবে, এরপর
- দিন ২-এ: ওটিসেকোনাজল ৪৫০ মি.গ্রা. (একক ডোজ) প্রয়োগ করতে হবে, এরপর
- দিন ১৪ থেকে শুরু করে: ওটিসেকোনাজল ১৫০ মি.গ্রা. সপ্তাহে একবার (প্রতি ৭ দিনে) ১১ সপ্তাহ পর্যন্ত (সপ্তাহ ২ থেকে ১২)।
ফ্লুকোনাজল/ওটিসেকোনাজল রেজিমেনের ক্ষেত্রে ফ্লুকোনাজল নির্ধারণ করে:
- দিন ১, দিন ৪ এবং দিন ৭-এ: ফ্লুকোনাজল ১৫০ মি.গ্রা. মুখে সেবন করতে হবে, এরপর
- দিন ১৪ থেকে ২০ পর্যন্ত: ওটিসেকোনাজল ১৫০ মি.গ্রা. দিনে একবার করে ৭ দিন, এরপর
- দিন ২৮ থেকে শুরু করে: ওটিসেকোনাজল ১৫০ মি.গ্রা. সপ্তাহে একবার (প্রতি ৭ দিনে) ১১ সপ্তাহ পর্যন্ত (সপ্তাহ ৪ থেকে ১৪)।
ওটিসেকোনাজল খাবারের সাথে মুখে সেবন করতে হবে। ক্যাপসুল সম্পূর্ণভাবে গিলে ফেলতে হবে। ক্যাপসুল চিবানো, ভাঙা, গুঁড়ো করা বা খুলে খাওয়া যাবে না।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
Oteseconazole একসাথে BCRP (Breast Cancer Resistance Protein) সাবস্ট্রেট ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে ওই ওষুধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এক্ষেত্রে BCRP সাবস্ট্রেটের সর্বনিম্ন ডোজ দিয়ে শুরু করা উচিত অথবা প্রয়োজনে ডোজ কমিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
Oteseconazole নিষিদ্ধ যেসব ক্ষেত্রে:
- প্রজননক্ষম নারী, গর্ভবতী নারী,
- স্তন্যদানকারী নারী
- এবং যাদের মধ্যে ওষুধটির প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি) রয়েছে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে বেশি দেখা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (২% এর বেশি ক্ষেত্রে) হলো মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
Oteseconazole গর্ভাবস্থা, স্তন্যদানকাল এবং প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ। প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে।
এই ওষুধটি শরীর থেকে বের হতে প্রায় ৬৯০ দিন সময় নিতে পারে, তাই ভ্রূণের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব নয়।
এটি স্তন্যদানকালেও নিষিদ্ধ। মানুষের বা প্রাণীর দুধে এর উপস্থিতি বা দুধ উৎপাদনের উপর প্রভাব সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। সীমিত পর্যবেক্ষণে শিশুদের মধ্যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি, তবে তথ্য পর্যাপ্ত নয়।
সতর্কতা
ভ্রূণ-ক্ষতি ঝুঁকি: Oteseconazole গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান এবং প্রজননক্ষম নারীদের জন্য নিষিদ্ধ কারণ এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। প্রাণী পরীক্ষায় চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ছানি, রেটিনার ক্ষতি, অপটিক নার্ভ ক্ষয় এবং রক্তক্ষরণ দেখা গেছে। ওষুধটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বের হতে প্রায় ৬৯০ দিন সময় লাগে, তাই দীর্ঘমেয়াদি ভ্রূণ ঝুঁকি থাকতে পারে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ব্যবহার: প্রজননক্ষম মেয়েদের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ। প্রাণী পরীক্ষার ভিত্তিতে ভ্রূণ বা স্তন্যপায়ী শিশুর ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে।
বয়স্কদের ব্যবহার: পর্যাপ্ত তথ্য নেই; ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া আছে কিনা নিশ্চিত নয়।
কিডনি সমস্যা: হালকা থেকে মাঝারি কিডনি সমস্যায় ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
লিভার সমস্যা: হালকা লিভার সমস্যায় (Child-Pugh A) ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
থেরাপিউটিক ক্লাস
অন্যান্য অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
২০°C থেকে ২৫°C তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। বাইরের প্যাকেট থেকে বের করার পর আলো থেকে রক্ষা করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ওটিসিকোনাজল কিসের ওষুধ ?
ওটিসিকোনাজল এর কাজ কি?
ওটিসিকোনাজল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ওটিসিকোনাজল বেশি খেলে কি হয় ?
গর্ভাবস্থায় ওটিসিকোনাজল খাওয়া যাবে কি?