ক্যাফেইন সাইট্রেট প্রিম্যাচিউর শিশুদের অ্যাপনিয়া (শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ক্যাফেইন সাইট্রেট
Generic Medicineফার্মাকোলজি
ক্যাফেইন গঠনগতভাবে অন্যান্য মিথাইলজ্যান্থিন যেমন থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিনের সাথে সম্পর্কিত। এটি ব্রঙ্কিয়াল স্মুথ মাংসপেশী শিথিলকারী, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম উদ্দীপক, কার্ডিয়াক উদ্দীপক এবং হালকা ডায়িউরেটিক হিসেবে কাজ করে। যদিও প্রিম্যাচিউর অ্যাপনিয়ায় এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে কয়েকটি সম্ভাব্য কার্যপ্রণালী হলোঃ
- শ্বাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে উদ্দীপিত করা
- মিনিট ভেন্টিলেশন বৃদ্ধি করা
- কার্বন ডাই অক্সাইডের প্রতি সংবেদনশীলতার সীমা কমানো
- উচ্চ কার্বন ডাই অক্সাইডের প্রতি প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করা
- কঙ্কাল পেশীর টোন বৃদ্ধি করা
- ডায়াফ্রামের ক্লান্তি কমানো
- মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করা
- অক্সিজেনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা
এই প্রভাবগুলো প্রধানত অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টর (A1 এবং A2) ব্লক করার মাধ্যমে ঘটে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লোডিং ডোজ: ক্যাফেইন সাইট্রেটের ডোজ- ২০ মি.গ্রা/কেজি। প্রয়োগের পথ- ইনট্রাভেনাস ইনফিউশন (৩০ মিনিট ধরে) সিরিঞ্জ ইনফিউশন পাম্প ব্যবহার করে। ফ্রিকোয়েন্সি- একবার।
মেইনটেন্যান্স ডোজ: ক্যাফেইন সাইট্রেটের ডোজ- ৫ মি.গ্রা/কেজি। প্রয়োগের পথ- ইনট্রাভেনাস ইনফিউশন (১০ মিনিট ধরে) সিরিঞ্জ ইনফিউশন পাম্প ব্যবহার করে। ফ্রিকোয়েন্সি- প্রতি ২৪ ঘণ্টা (লোডিং ডোজের ২৪ ঘণ্টা পর থেকে শুরু)।
প্রিম্যাচিউরিটি-জনিত অ্যাপনিয়ার চিকিৎসার সময়কাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১০ থেকে ১২ দিনে সীমাবদ্ধ ছিল। দীর্ঘমেয়াদে ক্যাফেইন সাইট্রেট ব্যবহারের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দৃশ্যমান কণাযুক্ত ভায়াল বাতিল করতে হবে। শুধুমাত্র একবার ব্যবহারের জন্য। অব্যবহৃত কোনো সলিউশন ফেলে দিতে হবে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
প্রিম্যাচিউর নবজাতকের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন সম্পর্কে তথ্য সীমিত। প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওষুধ ক্যাফেইনের নির্গমন কমায় (যেমন সিমেটিডিন, কেটোকোনাজল), সেগুলোর সাথে ব্যবহার করলে ক্যাফেইনের ডোজ কম প্রয়োজন হতে পারে। আবার যেসব ওষুধ ক্যাফেইনের নির্গমন বাড়ায় (যেমন ফেনোবারবিটাল, ফেনাইটইন), সেগুলোর সাথে ব্যবহার করলে ডোজ বাড়াতে হতে পারে। প্রিম্যাচিউর নবজাতকে ক্যাফেইন ও থিওফাইলিন একে অপরের মধ্যে রূপান্তরিত হতে পারে, তাই একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
কিছু ক্ষেত্রে সেপসিস, রক্তক্ষরণ, নেক্রোটাইজিং এন্টারোকোলাইটিস, গ্যাস্ট্রাইটিস, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তক্ষরণ, এসিডোসিস, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে পানি জমা, শুষ্ক ত্বক, র্যাশ, ত্বকের ক্ষতি এবং কিডনি বিকলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C। ক্যাফেইন স্তন্যদুগ্ধে নিঃসৃত হয়। যেসব মা এমন শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান যারা ক্যাফেইন সাইট্রেট গ্রহণ করছে, তাদের ক্যাফেইনযুক্ত খাবার, পানীয় বা ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত।
সতর্কতা
খিঁচুনি, হৃদরোগ বা কিডনি ও লিভারের সমস্যা আছে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন সাইট্রেট সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। রক্তে ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং বিষক্রিয়া এড়াতে ডোজ সমন্বয় করতে হবে।
মাত্রাধিকত্যা
রক্তে ক্যাফেইনের মাত্রা ৫০ mg/L-এর বেশি হলে গুরুতর বিষক্রিয়া হতে পারে। প্রিম্যাচিউর শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোজে জ্বর, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, অনিদ্রা, কাঁপুনি, পেশীর টোন বৃদ্ধি, খিঁচুনি, বমি, রক্তে শর্করা বৃদ্ধি, রক্তে ইউরিয়া নাইট্রোজেন বৃদ্ধি এবং শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। এক্সচেঞ্জ ট্রান্সফিউশনের মাধ্যমে ক্যাফেইনের মাত্রা কমানো যেতে পারে। খিঁচুনি হলে ইনট্রাভেনাস ডায়াজেপাম বা বারবিচুরেট (যেমন পেন্টোবারবিটাল সোডিয়াম) ব্যবহার করা যেতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
পেইনকিলার মাসল রিল্যাক্স্যান্ট
সংরক্ষণ
৩০°সে. তাপমাত্রার নিচে সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে দূরে রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ক্যাফেইন সাইট্রেট কিসের ওষুধ?
ক্যাফেইন সাইট্রেট এর কাজ কি?
ক্যাফেইন সাইট্রেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ক্যাফেইন সাইট্রেট বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন সাইট্রেট খাওয়া যাবে কি?