ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ (ESRD) আক্রান্ত রোগীদের হাইপারফসফাটেমিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যালুমিনিয়ামের শোষণ বৃদ্ধি করে না।
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট
Generic Medicineফার্মাকোলজি
খাবারের সাথে গ্রহণ করলে ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট অন্ত্রে খাদ্যজাত ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ফসফেট তৈরি করে, যা মলের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। ফসফেট বাইন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিরাম ফসফরাসের মাত্রা ৬.০ mg/dl এর নিচে রাখা একটি গ্রহণযোগ্য চিকিৎসাগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। নিরপেক্ষ pH-এ ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট অত্যন্ত দ্রবণীয় হওয়ায় এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাথমিক অংশে ফসফেটের সাথে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারে। মুখে গ্রহণের পর উপবাস অবস্থায় প্রায় ৪০% এবং খাবারের পর প্রায় ৩০% ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট শোষিত হয়। এই তথ্য সুস্থ ব্যক্তি ও ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগীদের উপর পরিচালিত গবেষণা থেকে প্রাপ্ত।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেটের প্রাথমিক প্রস্তাবিত ডোজ হলো প্রতিবার খাবারের সাথে ২টি ট্যাবলেট। সিরাম ফসফেটের মাত্রা ৬ মি.গ্রা/ডি.এল এর নিচে আনতে ডোজ ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে, যতক্ষণ না হাইপারক্যালসেমিয়া দেখা দেয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিবার খাবারের সাথে ৩–৪টি ট্যাবলেট প্রয়োজন হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেটের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে বয়স্ক ও তরুণ রোগীদের মধ্যে নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি, এবং অন্যান্য ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায়ও প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে কিছু বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে অধিক সংবেদনশীলতা থাকতে পারে, যা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা যায় না।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট টেট্রাসাইক্লিনের বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি কমিয়ে দিতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
হাইপারক্যালসেমিয়া থাকলে ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট ব্যবহারে বমিভাব দেখা দিতে পারে। চিকিৎসার সময় হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে। মৃদু হাইপারক্যালসেমিয়া (Ca >10.5 mg/dl) উপসর্গবিহীন হতে পারে বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তীব্র হাইপারক্যালসেমিয়া (Ca >12 mg/dl) বিভ্রান্তি, ডিলিরিয়াম, স্তব্ধতা এবং কোমা সৃষ্টি করতে পারে। মৃদু ক্ষেত্রে ডোজ কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ করলে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তীব্র ক্ষেত্রে জরুরি হেমোডায়ালাইসিস এবং চিকিৎসা বন্ধ করা প্রয়োজন হতে পারে। ডায়ালাইসেটে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমালে হাইপারক্যালসেমিয়ার হার ও তীব্রতা কমানো যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালী বা নরম টিস্যুতে ক্যালসিফিকেশনের উপর এর প্রভাব এখনও নিশ্চিত নয়। বিরল ক্ষেত্রে চুলকানি দেখা গেছে, যা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C। ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট নিয়ে পর্যাপ্ত প্রাণী গবেষণা করা হয়নি। এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে কিনা বা প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে কিনা তা জানা নেই। শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাধিকত্যা
প্রস্তাবিত দৈনিক মাত্রার বেশি গ্রহণ করলে তীব্র হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট কিসের ওষুধ?
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট এর কাজ কি?
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট খাওয়া যাবে কি?