এই কম্বিনেশন ট্যাবলেটটি খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পাওয়ার কারণে রক্তে ক্যালসিয়ামের স্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি ক্যালসিয়াম ঘাটতিজনিত রোগ যেমন অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওম্যালেশিয়া, রিকেটস, হাইপোপ্যারাথাইরয়ডিজম এবং ল্যাটেন্ট টেটানি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও পোস্টমেনোপজাল নারীদের মতো কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
ক্যালসিয়াম সিট্রেট + ক্যালসিট্রিয়ল
Generic Medicineকম্পোজিশন
প্রতি ট্যাবলেটে রয়েছে:
- ক্যালসিয়াম সিট্রেট USP ১২০০ মি.গ্রা., যা সমপরিমাণ ২৫২ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম
- ক্যালসিট্রিয়ল EP ০.২৫ মাইক্রোগ্রাম
ফার্মাকোলজি
ক্যালসিয়াম স্নায়ু, পেশী, কোষ এবং হাড়ের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে শরীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম নিয়ে তা পূরণ করে, ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। তাই শক্ত ও সুস্থ হাড় বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। ক্যালসিয়াম সিট্রেট খালি পেটে ভালোভাবে শোষিত হয় এবং এর শোষণ পাকস্থলীর অ্যাসিডের উপর কম নির্ভরশীল, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনাও কম।
ক্যালসিট্রিয়ল হলো ভিটামিন ডি৩-এর সক্রিয় রূপ, যা অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের শোষণ বৃদ্ধি করে। এটি সাধারণত কিডনিতে এর পূর্ববর্তী রূপ ২৫-হাইড্রোক্সিকোলেক্যালসিফেরল থেকে তৈরি হয়। স্বাভাবিক মাত্রায় এটি হাড়ের মিনারেলাইজেশন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। ক্রনিক কিডনি রোগে ক্যালসিট্রিয়লের উৎপাদন কমে গেলে মিনারেল বিপাকের সমস্যা দেখা দেয়।
ক্যালসিট্রিয়লের জৈবিক কার্যকারিতা ভিটামিন ডি রিসেপ্টরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা বিভিন্ন টিস্যুতে উপস্থিত থাকে এবং জিন এক্সপ্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রনিক কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে মুখে ক্যালসিট্রিয়ল গ্রহণ শরীরের কম উৎপাদন পূরণ করে। ফলে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের শোষণ বৃদ্ধি পায় এবং হাইপোক্যালসেমিয়া সংশোধিত হয়, যার মাধ্যমে হাড়জনিত রোগের লক্ষণ কমে।
পোস্টমেনোপজাল অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যালসিট্রিয়ল ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে, রক্তে ক্যালসিট্রিয়লের মাত্রা বাড়ায় এবং মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্লিনিক্যাল অবস্থার উপর নির্ভর করে বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী খাবারের সাথে বা ছাড়া দৈনিক ১-৪টি ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
ক্যালসিয়ামের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে টেট্রাসাইক্লিন, কুইনোলোন এবং ওরাল বিসফসফোনেটের শোষণ কমে যেতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড ক্যালসিয়ামের শোষণ কমাতে পারে। থিয়াজাইড ডাইইউরেটিকস হাইপারক্যালসেমিয়া ও মেটাবলিক অ্যালকালোসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইডের প্রভাব বাড়তে পারে। ক্যালসিয়াম এরলটিনিবের কার্যকারিতা কমাতে পারে। প্যারিক্যালসিটল-এর সাথে ব্যবহার করলে হাইপারক্যালসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এনজাইম-ইনডিউসিং অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধ ভিটামিন ডি-এর বিপাক বৃদ্ধি করতে পারে। কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম সিট্রেট ও অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত প্রিপারেশন একসাথে ব্যবহার করলে অ্যালুমিনিয়ামের মাত্রা বেড়ে এনসেফালোপ্যাথি হতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
হাইপারক্যালসেমিয়া, হাইপারক্যালসিউরিয়া এবং হাইপোফসফাটেমিয়া থাকলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য, বমিভাব, পেটব্যথা, হাইপারক্যালসেমিয়া, হাইপারক্যালসিউরিয়া, মাথাব্যথা এবং পেশী দুর্বলতা।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এই ওষুধ শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
নিম্নোক্ত অবস্থায় এই ওষুধ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে: হাইপারক্যালসেমিয়া, ম্যালঅ্যাবসর্পশন সিনড্রোম, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, কিডনিতে পাথর, ইমিউন সিস্টেমজনিত রোগ (যেমন সারকয়ডোসিস), লিভার রোগ এবং কিছু অন্ত্রের রোগ (যেমন ক্রোন্স ডিজিজ)।
থেরাপিউটিক ক্লাস
স্পেসিফিক মিনারেল & ভিটামিন কম্বাইন্ড প্রিপারেশনস
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে তাপমাত্রায় ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ক্যালসিয়াম সিট্রেট + ক্যালসিট্রিয়ল কিসের ওষুধ?
ক্যালসিয়াম সিট্রেট + ক্যালসিট্রিয়ল এর কাজ কি?
ক্যালসিয়াম সিট্রেট + ক্যালসিট্রিয়ল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ক্যালসিয়াম সিট্রেট + ক্যালসিট্রিয়ল বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম সিট্রেট + ক্যালসিট্রিয়ল খাওয়া যাবে কি?