Loading...

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট

Generic Medicine
নির্দেশনা

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট হাইপারক্যালেমিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে অ্যানুরিয়া বা তীব্র অলিগুরিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে। এটি রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমাতে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম অপসারণ করতে সাহায্য করে। এটি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি বিকলতা, রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতা, গুরুতর টিস্যু ক্ষতি, বড় ধরনের বার্ন, সার্জিক্যাল শক এবং গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস ও পাইলোনেফ্রাইটিসের মতো সংক্রমণজনিত অবস্থায় সৃষ্ট হাইপারক্যালেমিয়ায় কার্যকর। ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি উপকারী এবং ডায়ালাইসিস চলাকালীন পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফার্মাকোলজি

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট জুড়ে কাজ করে ক্যালসিয়াম আয়নের বিনিময়ে পটাশিয়াম আয়ন বেঁধে ফেলে। এই পটাশিয়াম পরে মলের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ওষুধটি কোলনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় পটাশিয়ামসমৃদ্ধ তরলের সাথে সংস্পর্শে আসে এবং ফলে পটাশিয়াম অপসারণ বৃদ্ধি পায়। শরীরে ওষুধের অবস্থানের সময়কাল এর কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুখে সেবন সাধারণত রেক্টাল ব্যবহারের তুলনায় বেশি কার্যকর, কারণ এতে অন্ত্রে দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধের সংস্পর্শ থাকে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট শুধুমাত্র মুখে বা রেক্টাল পথে ব্যবহারযোগ্য। সিরাম পটাসিয়ামের মাত্রা ৬ mmol/L এর বেশি হলে যত দ্রুত সম্ভব এই রেজিন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্ক (বয়স্কসহ)-

  • মুখে: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ ডোজ ১৫ গ্রাম, দিনে ৩ বা ৪ বার। অল্প পানির সাথে সাসপেনশন হিসেবে মুখে দেওয়া হয় বা স্বাদের উন্নতির জন্য মিষ্টি দ্রবণে পেস্ট তৈরি করা যায়, তবে কমলার রস বা পটাসিয়ামযুক্ত ফলের রস ব্যবহার করা যাবে না। প্রতি গ্রাম রেজিনের জন্য সাধারণত ৩ থেকে ৪ মি.লি তরল প্রয়োজন হয়।
  • রেক্টাল: মুখে দেওয়া সম্ভব না হলে ৩০ গ্রাম রেজিনকে ১০০ মি.লি ২% মিথাইলসেলুলোজ এবং ১০০ মি.লি পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন রিটেনশন এনিমা হিসেবে রেক্টাল পথে দেওয়া যেতে পারে।

শিশু-

  • মুখে: তীব্র হাইপারকালেমিয়ায় শিশুদের শরীরের ওজন অনুযায়ী দৈনিক ১ গ্রাম/কেজি ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট ভাগ করে দিতে হবে। মেইনটেন্যান্স থেরাপিতে ডোজ কমিয়ে দৈনিক ০.৫ গ্রাম/কেজি করা যেতে পারে।
  • রেক্টাল: পানিতে ১০% ডেক্সট্রোজের সাথে অনুপাতে মিশিয়ে রেক্টাল পথে দেওয়া যেতে পারে। এনিমা ধরে রাখার পর কোলন ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে রেজিন সম্পূর্ণ বের হয়ে যায়।

নবজাতক-

  • নবজাতকদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট মুখে দেওয়া নিষিদ্ধ।
  • শুধুমাত্র রেক্টাল পদ্ধতি বিবেচনা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ০.৫ গ্রাম/কেজি থেকে ১ গ্রাম/কেজি ডোজ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো দ্রবীভূত করে দিতে হবে এবং পর্যাপ্ত ইরিগেশন করতে হবে যাতে রেজিন বের হয়ে যায়।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট একসাথে সরবিটল, ডিজিটালিস ওষুধ, ক্যাটায়ন প্রদানকারী এজেন্ট, নন-অ্যাবজরবেবল ক্যাটায়ন এক্সচেঞ্জ অ্যান্টাসিড বা ল্যাক্সেটিভ, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড, লিথিয়াম এবং থাইরক্সিনের সাথে ব্যবহার করা সুপারিশ করা হয় না।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা ৫ mmol/L-এর কম, অথবা হাইপারক্যালসেমিয়া সম্পর্কিত অবস্থা যেমন হাইপারপ্যারাথাইরয়ডিজম, মাল্টিপল মায়েলোমা, সারকয়ডোসিস বা মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। পলিস্টাইরিন সালফোনেট রেজিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা এবং অন্ত্রের অবরোধজনিত রোগ থাকলেও এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। নবজাতকের ক্ষেত্রে মুখে ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমিভাব, বমি, গ্যাস্ট্রিক জ্বালা, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মাঝে মাঝে ডায়রিয়া। এছাড়া মল জমে যাওয়া, অন্ত্র সংকুচিত হওয়া বা ব্লক হওয়া, ইসকেমিয়া, ইসকেমিক কোলাইটিস, রেক্টাল রক্তপাত এবং অন্ত্রে আলসার বা নেক্রোসিস হতে পারে। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা যেমন হাইপোম্যাগনেসেমিয়া এবং হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে তীব্র ব্রংকাইটিস ও ব্রংকোপনিউমোনিয়া দেখা গেছে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট থেকে শোষিত হয় না। তবে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এর নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

সতর্কতা

চিকিৎসাকালে অতিরিক্ত পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সিরাম পটাশিয়াম ৫ mmol/L-এ নেমে এলে চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত যাতে তীব্র হাইপোক্যালেমিয়া না হয়। ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে চিকিৎসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে যতক্ষণ না স্বাভাবিক মলত্যাগ ফিরে আসে। ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার এড়ানো উচিত। ওষুধ সেবনের সময় রোগীর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে যাতে শ্বাসনালীতে প্রবেশের ঝুঁকি না থাকে।

শিশু ও নবজাতক: মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়। এদের ক্ষেত্রে রেক্টাল ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

মাত্রাধিকত্যা

অতিরিক্ত ডোজে হাইপোক্যালেমিয়ার লক্ষণ যেমন বিরক্তি, বিভ্রান্তি, চিন্তাভাবনা ধীর হওয়া, পেশী দুর্বলতা, রিফ্লেক্স কমে যাওয়া এবং পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইসিজিতে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে যা হাইপোক্যালেমিয়া বা হাইপারক্যালসেমিয়ার সাথে সম্পর্কিত, এবং হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন হতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

হাইপারকালেমিয়া প্রোডাক্টস

সংরক্ষণ

৩০°সে এর নিচে শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট কিসের ওষুধ?

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট এর কাজ কি?

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট বেশি খেলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট খাওয়া যাবে কি?

Powder for Suspension
K-Nor
Powder for Suspension
99.934% w/w
Popular Pharmaceuticals Ltd.
Unit Price: ৳ 980.00
  View in English