Loading...

প্রোপাইলথাইয়োইউরাসিল

Generic Medicine
নির্দেশনা

প্রোপাইলথাইয়োইউরাসিল ট্যাবলেট নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • গ্রেভস’ ডিজিজজনিত হাইপারথাইরয়েডিজম বা টক্সিক মাল্টিনোডুলার গয়টার রোগীদের ক্ষেত্রে, যারা মেথিমাজল সহ্য করতে পারেন না এবং যাদের জন্য সার্জারি বা রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি উপযুক্ত নয়
  • মেথিমাজল সহ্য করতে না পারা রোগীদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড অপারেশন বা রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপির পূর্বে হাইপারথাইরয়েডিজমের উপসর্গ কমাতে
ফার্মাকোলজি

প্রোপাইলথাইয়োইউরাসিল থাইরয়েড হরমোনের সংশ্লেষণ বাধা দেয়, ফলে এটি হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় কার্যকর। এটি থাইরয়েড গ্রন্থিতে পূর্বে তৈরি ও সংরক্ষিত থাইরক্সিন (T4) বা ট্রাইআইডোথাইরোনিন (T3) কে নিষ্ক্রিয় করে না এবং বাহ্যিকভাবে দেওয়া থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতাতেও বাধা দেয় না। এছাড়া এটি T4 থেকে সক্রিয় T3-এ রূপান্তর কমিয়ে দেয়, যার ফলে থাইরয়েড স্টর্মের চিকিৎসায় এটি বিশেষভাবে কার্যকর।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Propylthiouracil মুখে সেবন করা হয়। মোট দৈনিক ডোজ সাধারণত 8 ঘণ্টা অন্তর 3 সমান ভাগে বিভক্ত করে প্রদান করা হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক: প্রাথমিক ডোজ 300 mg দৈনিক। গুরুতর হাইপারথাইরয়ডিজম, বড় গয়টার বা উভয় অবস্থায় প্রাথমিক ডোজ 400 mg দৈনিক পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে; কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শুরুতে 600 থেকে 900 mg দৈনিক প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ 100 থেকে 150 mg দৈনিক।

শিশু রোগী: Propylthiouracil সাধারণত শিশু রোগীদের জন্য সুপারিশ করা হয় না, শুধুমাত্র বিরল ক্ষেত্রে যেখানে অন্য বিকল্প চিকিৎসা উপযুক্ত নয় সেখানে ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ডোজ নির্ধারণের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা নেই, তবে সাধারণভাবে 6 বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে 50 mg দৈনিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে এবং ক্লিনিক্যাল প্রতিক্রিয়া ও TSH এবং free T4 মাত্রা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ডোজ সমন্বয় করতে হবে। যদিও 50 mg/day মাত্রাতেও গুরুতর লিভার ইনজুরির ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে 300 mg/day বা তার বেশি ডোজে এ ধরনের সমস্যা দেখা গেছে।

বয়স্ক রোগী: ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় বয়স্ক ও তরুণ রোগীদের প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। সাধারণভাবে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ নির্বাচন সতর্কতার সাথে করতে হবে, কারণ তাদের মধ্যে লিভার, কিডনি বা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস, সহ-রোগ এবং অন্যান্য ওষুধ ব্যবহারের হার বেশি থাকে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ওষুধের সাথে: ওরাল অ্যান্টিকোঅ্যাগুল্যান্ট (যেমন ওয়ারফারিন) – প্রোপাইলথাইয়োইউরাসিল ভিটামিন K এর কার্যকারিতা কমিয়ে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই PT/INR পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, বিশেষ করে সার্জারির আগে।

বিটা-অ্যাড্রেনার্জিক ব্লকার – হাইপারথাইরয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে এর ক্লিয়ারেন্স বাড়তে পারে; ইউথাইরয়েড অবস্থায় ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

ডিজিটালিস গ্লাইকোসাইড – থাইরয়েড স্বাভাবিক হলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে; ডোজ কমানো লাগতে পারে। থিওফাইলিন – থাইরয়েড স্বাভাবিক হলে ক্লিয়ারেন্স কমে যেতে পারে; ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

খাদ্যের সাথে: নির্দিষ্ট কোনো খাদ্য বর্জনের প্রয়োজন নেই।

প্রতিনির্দেশনা

প্রোপাইলথাইয়োইউরাসিল বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ: র‍্যাশ, চুলকানি, হাইভস, চুল পড়া, ত্বকের রঙ পরিবর্তন, শরীর ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি, পেটের অস্বস্তি, স্বাদ পরিবর্তন, গাঁট ও মাংসপেশির ব্যথা, মাথাব্যথা, শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া, agranulocytosis, হেপাটাইটিস, লিভার ফেইলিউর।

বিরল: অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, ওষুধজনিত জ্বর, লুপাস-সদৃশ সিনড্রোম, গুরুতর লিভার সমস্যা, রক্তপাতজনিত সমস্যা, কিডনি প্রদাহ, ফুসফুসে প্রদাহ, ভাসকুলাইটিস, পলিমায়োসাইটিস।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রোপাইলথাইয়োইউরাসিল প্লাসেন্টা অতিক্রম করতে পারে এবং ভ্রূণের গয়টার ও হাইপোথাইরয়েডিজম সৃষ্টি করতে পারে। ঝুঁকি ও উপকারিতা বিবেচনা করে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করতে হবে। এটি মাতৃদুগ্ধে অল্প পরিমাণে নির্গত হয়, তাই শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

সতর্কতা

গলা ব্যথা, জ্বর, মুখে ঘা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানাতে হবে, কারণ agranulocytosis হতে পারে। CBC পরীক্ষা করা প্রয়োজন এবং নিউট্রোপেনিয়া হলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।

রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ও রক্তপাত হতে পারে, তাই প্রোথ্রম্বিন টাইম পর্যবেক্ষণ জরুরি, বিশেষ করে সার্জারির আগে। গুরুতর লিভার সমস্যা হতে পারে, তাই লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত। কিডনি ও লিভার রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সুপারিশ করা হয় না, শুধুমাত্র মেথিমাজল সহ্য না হলে এবং অন্য চিকিৎসা উপযুক্ত না হলে ব্যবহার করা যেতে পারে। অভিভাবকদের লিভার ফেইলিউরের ঝুঁকি সম্পর্কে জানাতে হবে।

মাত্রাধিকত্যা

বমি বমি ভাব, বমি, পেটের অস্বস্তি, জ্বর, মাথাব্যথা, গাঁট ব্যথা, চুলকানি, শরীর ফুলে যাওয়া এবং রক্তের সব কোষ কমে যাওয়া দেখা দিতে পারে। agranulocytosis সবচেয়ে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সহায়ক চিকিৎসা দিতে হবে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

থাইরয়েড ওষুধ ও হরমোন

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

Propylthiouracil কিসের ওষুধ?

Propylthiouracil এর কাজ কি?

Propylthiouracil এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

Propylthiouracil বেশি খেলে কি হয়?

Propylthiouracil কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?

No available drugs found

  View in English