ফেন্টানাইল সাইট্রেট ক্যান্সার রোগীদের ব্রেকথ্রু পেইন (হঠাৎ তীব্র ব্যথা) নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়, যারা ইতোমধ্যে নিয়মিত ওপিওয়েড থেরাপি গ্রহণ করছেন এবং সেই ওষুধের প্রতি সহনশীল। যেসব রোগী প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০ মি.গ্রা. মুখে খাওয়ার মরফিন, ২৫ মাইক্রোগ্রাম/ঘন্টা ট্রান্সডার্মাল ফেন্টানাইল, ৩০ মি.গ্রা. অক্সিকোডন, ৮ মি.গ্রা. হাইড্রোমরফোন অথবা সমপরিমাণ অন্য ওপিওয়েড এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে গ্রহণ করেন, তাদের ওপিওয়েড সহনশীল হিসেবে ধরা হয়।
ফেন্টানাইল সাইট্রেট
Generic Medicineফার্মাকোলজি
ফেন্টানাইল সাইট্রেট একটি শক্তিশালী ওপিওয়েড ব্যথানাশক, যা প্রধানত মিউ-ওপিওয়েড রিসেপ্টরের উপর কাজ করে এবং পাশাপাশি কাপ্পা ও ডেল্টা রিসেপ্টরের সাথেও যুক্ত হয়। এই রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্ক, স্পাইনাল কর্ড এবং শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে বিস্তৃতভাবে অবস্থান করে। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে কাজ করে শক্তিশালী ব্যথানাশক ও সেডেটিভ প্রভাব সৃষ্টি করে। ফেন্টানাইল ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং ব্যথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়, যদিও ব্যথা পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। ব্যথা কমানোর পাশাপাশি এটি মুড পরিবর্তন (আনন্দ বা অস্বস্তি), তন্দ্রা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া এটি শ্বাসপ্রশ্বাস কমিয়ে দেয়, কাশি প্রতিফলন দমন করে এবং চোখের মণি সংকুচিত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মুখে (Oral)-
- প্রারম্ভিক ডোজ: Fentanyl-এর প্রাথমিক ডোজ ১০০ মাইক্রোগ্রাম।
- একই এপিসোডে পুনরায় ডোজ: যদি একটি ডোজে ব্যথা কম না হয়, তবে একই এপিসোডে ৩০ মিনিট পর একই ডোজ পুনরায় দেওয়া যেতে পারে।
- ডোজ বৃদ্ধি: ১০০ মাইক্রোগ্রাম ট্যাবলেট দিয়ে টাইট্রেশন শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে দুই পাশে ১০০ মাইক্রোগ্রাম করে ট্যাবলেট রাখা যেতে পারে। আরও প্রয়োজন হলে দুই পাশে দুইটি করে (মোট ৪টি) ট্যাবলেট ব্যবহার করা যায়। ৪০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হলে ২০০ মাইক্রোগ্রাম করে বাড়াতে হবে। একসাথে ৪টির বেশি ট্যাবলেট ব্যবহার করা নিয়ে গবেষণা নেই, তাই ওভারডোজ এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে।
- ডোজ সমন্বয়: যদি একাধিক এপিসোডে একাধিক ডোজ লাগে, তবে ডোজ বাড়াতে হবে।
ইনজেকশন-
- Fentanyl ইনজেকশন IV (bolus বা infusion) অথবা IM পদ্ধতিতে দেওয়া যায়। ডোজ রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
- ২০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি ডোজ শুধুমাত্র অ্যানেস্থেশিয়ায় ব্যবহৃত হয়। প্রিমেডিকেশন হিসেবে ১–২ মি.লি. IM ৪৫ মিনিট আগে দেওয়া যায়। IV দেওয়ার পর ২ মি.লি. ডোজ ১০–২০ মিনিট ব্যথা কমাতে পারে। ১০ মি.লি. দিলে প্রায় ১ ঘণ্টা কাজ করে। ৫০ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ডোজ দিলে ৪–৬ ঘণ্টা তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণ হয়।
- ইনফিউশন হিসেবেও দেওয়া যায়। প্রথমে ১ মাইক্রোগ্রাম/কেজি/মিনিট ১০ মিনিট, তারপর ০.১ মাইক্রোগ্রাম/কেজি/মিনিট। রোগীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে। অপারেশনের ৪০ মিনিট আগে ইনফিউশন বন্ধ করতে হয়।
- স্বাভাবিক শ্বাস বজায় রাখতে কম ইনফিউশন হার (০.০৫–০.০৮ mcg/kg/min) প্রয়োজন। হৃদরোগের অস্ত্রোপচারে বেশি ডোজ ব্যবহার হয়।
- বয়স্ক/দুর্বল রোগী: কম ডোজ ব্যবহার করা উচিত।
ট্রান্সডার্মাল-
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ১২–১০০ mcg/hr প্যাচ ব্যবহার করা হয়। ডোজ রোগীর পূর্বের opioid ব্যবহারের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে হবে। প্রতি ৭২ ঘণ্টা পর প্যাচ পরিবর্তন করতে হবে।
- বয়স্ক: কম ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
ট্যাবলেট ব্যবহার: ট্যাবলেট মুখের ভেতরে গাল ও মাড়ির মাঝে রাখতে হবে। এটি চিবানো বা গেলা যাবে না। ১৪–২৫ মিনিটে গলে যায়। ৩০ মিনিট পরে অবশিষ্ট অংশ পানি দিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
কেটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ট্রোলিয়ান্ডোমাইসিন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, নেলফিনাভির এবং নেফাজোডোনের মতো অ্যান্টিফাঙ্গাল, ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক এবং CNS ডিপ্রেসেন্টের সাথে ফেন্টানাইল সাইট্রেট ব্যবহার করলে এর প্রভাব বৃদ্ধি বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এছাড়া অ্যাম্প্রেনাভির, অ্যাপ্রেপিট্যান্ট, ডিলটিয়াজেম, এরিথ্রোমাইসিন, ফ্লুকোনাজোল, ফোসঅ্যাম্প্রেনাভির, গ্রেপফ্রুট জুস এবং ভেরাপামিলের সাথে ব্যবহার করলে রক্তে ফেন্টানাইলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা মারাত্মক শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা সহ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
তীব্র বা অপারেশনের পরবর্তী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় ফেন্টানাইল সাইট্রেট ব্যবহার করা যাবে না। ওপিওয়েড সহনশীল নয় এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া ফেন্টানাইল বা এর উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
অন্যান্য ওপিওয়েডের মতোই গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়া, শ্বাস বন্ধ হওয়া, পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, মায়োক্লোনিক নড়াচড়া এবং ব্র্যাডিকার্ডিয়া। দ্রুত শিরায় দিলে শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থার ক্যাটাগরি C। গর্ভবতী নারীদের উপর পর্যাপ্ত এবং নিয়ন্ত্রিত গবেষণা উপলব্ধ নেই। তাই সম্ভাব্য উপকার ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে তবেই গর্ভাবস্থায় ফেন্টানিল ব্যবহার করা উচিত। ফেন্টানিল মায়ের দুধে নিঃসৃত হয়; তাই শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত তন্দ্রা এবং/অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসের দমনের ঝুঁকির কারণে দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
সতর্কতা
ফেন্টানাইলের মতো ওপিওয়েড পেইনকিলার মানসিক এবং শারীরিক সক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যেমন গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন। রোগীদের এই ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা উচিত এবং উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া উচিত। অন্যান্য সিএনএস-সক্রিয় ওষুধের সঙ্গে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি এবং যত্ন প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের রোগ: ফেন্টানাইল ধীরে ধীরে ব্যবহার করা উচিত তাদের ক্ষেত্রে যারা দীর্ঘস্থায়ী অবরুদ্ধ শ্বাসনালী রোগ বা শ্বাসপ্রশ্বাস হ্রাসের ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক অবস্থায় আছেন।
মাথার আঘাত ও উচ্চ অন্তঃমস্তিষ্কীয় চাপ: ওপিওয়েড রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থা লুকাতে পারে। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত।
হৃদরোগ: ইনট্রাভেনাস ফেন্টানাইল ব্র্যাডিকার্ডিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ব্র্যাডিয়ারিদমিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।
যকৃত ও কিডনি রোগ: ফেন্টানাইল যকৃত ও কিডনির মাধ্যমে বিপাকিত ও নির্গত হয়, তাই এই রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাধিকত্যা
অতিরিক্ত মাত্রায় গভীর অজ্ঞানতা, পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়া এবং সায়ানোসিস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেন দিতে হবে এবং প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করতে হবে। নালোক্সোন ব্যবহার করা যেতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ওপিওয়েড ব্যথানাশক
সংরক্ষণ
২০–২৫°C তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে এবং আলো থেকে দূরে রাখতে হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
ফেন্টানাইল সাইট্রেট কিসের ওষুধ?
ফেন্টানাইল সাইট্রেট এর কাজ কি?
ফেন্টানাইল সাইট্রেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ফেন্টানাইল সাইট্রেট বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় ফেন্টানাইল সাইট্রেট খাওয়া যাবে কি?
No available drugs found