অপিওয়েড অ্যানালজেসিক ওষুধ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, বিশেষ করে অন্যান্য ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করার সময়। অক্সিমরফোন বয়স্ক বা দুর্বল রোগী এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS) ডিপ্রেসেন্টের প্রতি সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ, ফুসফুস, কিডনি বা লিভারের সমস্যা রয়েছে। এছাড়া তীব্র মদ্যপান, কোমা এবং ডেলিরিয়াম ট্রেমেন্স অবস্থায়ও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। হাইপোক্সিয়া, হাইপারক্যাপনিয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত অবস্থায় যেমন অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), অতিরিক্ত স্থূলতা, স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম, মিক্সিডেমা, কাইফোস্কোলিওসিস, CNS ডিপ্রেশন বা কোমা—এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিমরফোন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করতে হবে। অন্যান্য CNS ডিপ্রেসেন্ট (যেমন সেডেটিভ, হিপনোটিক, জেনারেল অ্যানেসথেটিক, ফেনোথিয়াজিন, ট্রাঙ্কুইলাইজার বা অ্যালকোহল) গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিমরফোন সাধারণ ডোজের ১/৩ থেকে ১/২ দিয়ে শুরু করা উচিত, কারণ এতে শ্বাস-প্রশ্বাস কমে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, গভীর সেডেশন, কোমা বা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। হালকা লিভার সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিমরফোন সর্বনিম্ন ডোজ (যেমন ৫ মিগ্রা) দিয়ে শুরু করা উচিত। বয়স্ক (≥৬৫ বছর) রোগীদের ক্ষেত্রে এক্সটেন্ডেড-রিলিজ অক্সিমরফোনের প্লাজমা লেভেল প্রায় ৪০% বেশি থাকে, তাই ৫ মিগ্রা দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইভাবে, মাঝারি ও গুরুতর কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৫৭% ও ৬৫% বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি বৃদ্ধি পায়, তাই তাদের ক্ষেত্রেও ৫ মিগ্রা দিয়ে শুরু করা উচিত। অ্যাড্রিনোকর্টিকাল ইনসাফিসিয়েন্সি (যেমন অ্যাডিসন’স ডিজিজ), প্রোস্টেট বড় হওয়া, ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার, গুরুতর ফুসফুস বা কিডনি সমস্যা এবং টক্সিক সাইকোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। অপিওয়েড অ্যানালজেসিক গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি পরিচালনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
নির্ভরতা (Dependence): অক্সিমরফোন হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসা বন্ধ করার সময় ধীরে ধীরে ডোজ কমাতে হবে, যাতে শারীরিকভাবে নির্ভরশীল রোগীদের মধ্যে প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ না দেখা দেয়।