এই কম্বিনেশনটি সক্রিয় দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক ও ডুওডেনাল আলসারে H. pylori সংক্রমণ নির্মূলের জন্য ব্যবহৃত হয়।
র্যাবিপ্রাজল + এমোক্সিসিলিন + ক্লারিথ্রোমাইসিন
Generic Medicineফার্মাকোলজি
অ্যামোক্সিসিলিন: অ্যামোক্সিসিলিন পেনিসিলিন গ্রুপের একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা সক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন:ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে কাজ করে। এটি রাইবোসোমের ৫০এস সাবইউনিটে যুক্ত হয়ে প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে।
র্যাবিপ্রাজল: র্যাবিপ্রাজল একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর, যা সাবস্টিটিউটেড বেঞ্জিমিডাজল গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এটি পাকস্থলীর প্যারিয়েটাল কোষে H⁺/K⁺-ATPase এনজাইমকে বাধা দিয়ে অ্যাসিড নিঃসরণ কমায়, যা অ্যাসিড উৎপাদনের শেষ ধাপ।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রতি দিন দুইবার এক স্ট্রিপ করে ৭ দিন সেবন করতে হবে। অবস্থার তীব্রতা বেশি হলে প্রতি দিন দুইবার এক স্ট্রিপ করে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত সেবন করা যেতে পারে।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি ও লিভারের অকার্যকারিতা অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে, তাই এসব রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ওষুধ ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ রাখা উচিত।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
থিওফাইলিন গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ব্যবহারে রক্তে থিওফাইলিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিনের সাথে কার্বামাজেপিন, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, হেক্সোবারবিটাল, ফেনাইটয়েন, আলফেন্টানিল, ডিসোপাইরামাইড, লোভাস্ট্যাটিন, ব্রোমোক্রিপটিন, ভ্যালপ্রোয়েট, টারফেনাডিন, সিসাপ্রাইড, পিমোজাইড ও অ্যাস্টেমিজোলের ইন্টারঅ্যাকশনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
প্রতিনির্দেশনা
এই ওষুধটি এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে (<3%) তিনটি উপাদান একসাথে ব্যবহারের সময় যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা গেছে তা নিচে অঙ্গভিত্তিকভাবে উল্লেখ করা হলো:
- পাচনতন্ত্র: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, কালো মল, মুখ শুষ্কতা, গ্লোসাইটিস, ওরাল মনিলিয়াসিস, স্টোমাটাইটিস, জিহ্বার রঙ পরিবর্তন
- মাংসপেশি: মায়ালজিয়া
- স্নায়ুতন্ত্র: বিভ্রান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা
- ত্বক: ত্বকের প্রতিক্রিয়া
- মূত্র-জনন তন্ত্র: ভ্যাজাইনাইটিস, ভ্যাজাইনাল মনিলিয়াসিস
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন সম্ভাব্য উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। অ্যামোক্সিসিলিন খুব অল্প পরিমাণে মাতৃদুগ্ধে নির্গত হয়। স্তন্যদানকারী শিশুর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায়, স্তন্যদান বন্ধ করা বা চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে—মায়ের চিকিৎসার গুরুত্ব বিবেচনা করে।
সতর্কতা
অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহারে গুরুতর এবং কখনও কখনও প্রাণঘাতী অ্যালার্জিক (অ্যানাফাইল্যাকটয়েড) প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের পেনিসিলিন অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে। ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন বিকল্প কোনো চিকিৎসা উপযুক্ত না হয়।
মাত্রাধিকত্যা
র্যাবিপ্রাজলের ওভারডোজের কোনো নির্দিষ্ট রিপোর্ট নেই। অ্যামোক্সিসিলিন ওভারডোজ হলে চিকিৎসা বন্ধ করে লক্ষণভিত্তিক ও সহায়ক চিকিৎসা দিতে হবে। ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ওভারডোজে পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
অ্যান্টি–H. pylori ড্রাগস
সংরক্ষণ
২৫°সে-এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
র্যাবিপ্রাজল + এমোক্সিসিলিন + ক্লারিথ্রোমাইসিন কিসের ওষুধ?
র্যাবিপ্রাজল + এমোক্সিসিলিন + ক্লারিথ্রোমাইসিন এর কাজ কি?
র্যাবিপ্রাজল + এমোক্সিসিলিন + ক্লারিথ্রোমাইসিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
র্যাবিপ্রাজল + এমোক্সিসিলিন + ক্লারিথ্রোমাইসিন বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় র্যাবিপ্রাজল + এমোক্সিসিলিন + ক্লারিথ্রোমাইসিন খাওয়া যাবে কি?
No available drugs found