পেন্টাজোসিন মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অপারেশনের আগে প্রি-অ্যানেস্থেটিক ওষুধ হিসেবে এবং সার্জিক্যাল অ্যানেস্থেশিয়ার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পেন্টাজোসিন
Generic Medicineফার্মাকোলজি
পেন্টাজোসিন একটি ওপিওয়েড (নারকোটিক) ব্যথানাশক, যা মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে কাজ করে ব্যথার অনুভূতি কমায়। এটি প্রধানত কাপ্পা রিসেপ্টরের উপর অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে এবং মিউ (μ) রিসেপ্টরের উপর দুর্বল প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
কার্যকারিতা শুরু: ইন্ট্রামাসকুলার বা সাবকিউটেনিয়াস দিলে ১৫–২০ মিনিটে ইন্ট্রাভেনাস দিলে ২–৩ মিনিটে
বিতরণ: রক্তের প্রোটিনের সাথে মাঝারি মাত্রায় যুক্ত হয়
বিপাক: প্রধানত লিভারে হয়
নির্গমন: প্রধানত কিডনির মাধ্যমে বের হয়, অর্ধায়ু প্রায় ২–৩ ঘণ্টা
মাত্রা ও সেবনবিধি
অ্যানেস্থেশিয়া ও মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ডোজ: IV, IM বা SC পথে ৩০ মিগ্রা। প্রয়োজনে প্রতি ৩–৪ ঘণ্টা পরপর পুনরায় দেওয়া যেতে পারে। IV পথে ৩০ মিগ্রার বেশি বা IM/SC পথে ৬০ মিগ্রার বেশি ডোজ সুপারিশ করা হয় না। সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ: ৩৬০ মিগ্রা।
প্রসবকালীন ব্যথার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ডোজ: সাধারণত ৩০ মিগ্রা IM একবার দেওয়া হয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রসব ব্যথা শুরু হলে ২০ মিগ্রা IV ডোজে পর্যাপ্ত ব্যথা উপশম পাওয়া যায়। প্রয়োজনে এই ডোজ ২–৩ ঘণ্টা অন্তর ২–৩ বার দেওয়া যেতে পারে।
১ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য ডোজ: IM পথে ০.৫ মিগ্রা/কেজি।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
পেন্টাজোসিন গ্রহণের সময় অ্যালকোহল পান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ একসাথে ব্যবহার করলে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যেসব ওষুধ তন্দ্রা সৃষ্টি করে বা শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর করে, সেগুলোর সাথে ব্যবহার করলে এর প্রভাব বেড়ে যেতে পারে এবং তীব্র তন্দ্রা, মাথা ঘোরা, পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ওষুধ, ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, ভিটামিন ও হারবাল পণ্যের সাথে এর ইন্টারঅ্যাকশন হতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
পেন্টাজোসিনের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, বমি এবং আনন্দ অনুভূতি (ইউফোরিয়া)। এছাড়া ত্বক, শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদযন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C। গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা উচিত। এটি মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা নিশ্চিত নয়।
সতর্কতা
শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে কম ডোজে ও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন। এটি ওপিওয়েডের আংশিক প্রতিরোধক হওয়ায়, আগে ওপিওয়েড গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে উইথড্রয়াল লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যাদের খিঁচুনি হওয়ার ইতিহাস আছে তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য CNS ডিপ্রেসেন্টের সাথে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত CNS ডিপ্রেশন হতে পারে।
মাত্রাধিকত্যা
লক্ষণ: অতিরিক্ত মাত্রার লক্ষণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
চিকিৎসা: অক্সিজেন, স্যালাইন, ভ্যাসোপ্রেসর এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসা দিতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দিতে হবে। নালোক্সোন শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিষেধক।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ওপিওয়েড ব্যথানাশক
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে সংরক্ষণ করতে হবে, আলো থেকে দূরে রাখতে হবে, ফ্রিজে জমিয়ে রাখা যাবে না এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
পেনটাজোসিন কিসের ওষুধ?
পেনটাজোসিন এর কাজ কি?
পেনটাজোসিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
পেনটাজোসিন বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় পেনটাজোসিন খাওয়া যাবে কি?
No available drugs found