Loading...

রিকম্বিন্যান্ট ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (rFSH)

Generic Medicine
নির্দেশনা

মহিলাদের ক্ষেত্রে:

  • ওভুলেশন ইন্ডাকশন: পূর্বে পিটুইটারি সাপ্রেশন নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে rFSH সাবকিউটেনিয়াসভাবে hCG-এর সাথে ক্রমান্বয়ে ব্যবহার করা হয় ওভুলেশন উদ্দীপনার জন্য।
  • মাল্টি-ফলিকুলার ডেভেলপমেন্ট: ART (সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি) সাইকেলের সময় পূর্বে পিটুইটারি সাপ্রেশন নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে rFSH ও hCG একসাথে ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত ওভারি স্টিমুলেশন এবং একাধিক ফলিকল তৈরি করা হয়।
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS): PCOS-সম্পর্কিত বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে: hCG-এর সাথে মিলিয়ে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজমের কারণে স্পার্ম উৎপাদন কমে যাওয়া পুরুষদের ক্ষেত্রে স্পার্মাটোজেনেসিস উদ্দীপনার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি

রিকম্বিন্যান্ট FSH (rFSH) হলো ফোলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন, যা রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এতে দুটি গ্লাইকোপ্রোটিন সাবইউনিট থাকে—আলফা (α) ও বিটা (β), যা নন-কোভ্যালেন্টভাবে যুক্ত। α সাবইউনিটে ৯২টি এবং β সাবইউনিটে ১১১টি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং এগুলো মানব FSH-এর গঠনগতভাবে অভিন্ন। rFSH জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত চাইনিজ হ্যামস্টার ওভারি (CHO) কোষে বায়োরিয়্যাক্টরে উৎপাদিত হয়। এরপর ইমিউনোক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে FSH-নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে বিশুদ্ধ করা হয়, ফলে উচ্চমাত্রার বিশুদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট কার্যক্ষমতা সম্পন্ন প্রস্তুতি পাওয়া যায়। এর জৈবিক কার্যকারিতা নারী ইঁদুরে ওভারির ওজন বৃদ্ধি দ্বারা নির্ধারণ করা হয় এবং WHO-এর আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড (1995)-এর সাথে মানানসই করে ক্যালিব্রেট করা হয়। rFSH-এর কোনো লুটিনাইজিং হরমোন (LH) কার্যকারিতা নেই।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ইনজেকশনজনিত ব্যথা প্রতিরোধ এবং ইনজেকশন সাইট থেকে লিকেজ কমানোর জন্য rFSH ধীরে ধীরে সাবকিউটেনিয়াসভাবে প্রয়োগ করতে হবে। লিপোঅ্যাট্রোফি প্রতিরোধের জন্য সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশন সাইট পরিবর্তন করতে হবে। কোনো অব্যবহৃত সলিউশন ফেলে দিতে হবে। rFSH এর সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশন রোগী বা তার সঙ্গী দিতে পারে, তবে চিকিৎসকের যথাযথ নির্দেশনা থাকতে হবে। rFSH এর স্ব-প্রয়োগ শুধুমাত্র সেই রোগীদের দ্বারা করা উচিত যারা যথেষ্ট অনুপ্রাণিত, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ আছে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে ডোজ: এক্সোজেনাস গোনাডোট্রফিনের প্রতি ডিম্বাশয়ের প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তি ভেদে এবং একই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপক পার্থক্য থাকে। তাই একটি নির্দিষ্ট ডোজ স্কিম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই ডোজ ডিম্বাশয়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিভেদে সমন্বয় করতে হবে। এর জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং ইস্ট্রাডিওল লেভেল মনিটরিং প্রয়োজন। অনাকাঙ্ক্ষিত ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশনের ঝুঁকি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। rFSH একা অথবা GnRH অ্যানালগের সাথে প্রিম্যাচিউর লুটিনাইজেশন প্রতিরোধে দেওয়া যেতে পারে। পরবর্তী ক্ষেত্রে, বিশেষ করে GnRH অ্যাগোনিস্ট ব্যবহার করলে পর্যাপ্ত ফলিকুলার রেসপন্স পেতে rFSH এর উচ্চতর মোট ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। rFSH এর ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা উভয় ইন্ডিকেশনে সর্বোচ্চ ৩টি চিকিৎসা চক্রের ওপর ভিত্তি করে। IVF এর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রথম চারটি প্রচেষ্টায় চিকিৎসার সাফল্যের হার সাধারণত স্থিতিশীল থাকে এবং এরপর ধীরে ধীরে কমে যায়।

মহিলাদের Ovulation Induction: rFSH এর প্রাথমিক দৈনিক ডোজ ৭৫ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (IU) সাবকিউটেনিয়াসভাবে কমপক্ষে প্রথম ৭ দিন দেওয়া হয়। ফলিকুলার গ্রোথ এবং/অথবা সিরাম ইস্ট্রাডিওল লেভেল পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া নির্দেশ না করা পর্যন্ত সাপ্তাহিক ব্যবধানে ডোজ ২৫ বা ৭৫ IU করে বৃদ্ধি করা হয়। গ্রহণযোগ্য প্রি-ওভুলেটরি অবস্থা অর্জিত হলে মানব কোরিওনিক গোনাডোট্রফিন (HCG) ৫০০০ থেকে ১০,০০০ IU দিয়ে ফাইনাল ওসাইট ম্যাচুরেশন করা হয়। HCG দেওয়ার আগের দিন থেকে ওভুলেশন স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত মহিলা ও তার সঙ্গীকে প্রতিদিন সহবাস করতে হবে।

সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি (ART): মহিলাদের ক্ষেত্রে rFSH এর প্রাথমিক ডোজ ১৫০ থেকে ৩০০ IU সাবকিউটেনিয়াসভাবে কমপক্ষে প্রথম ৪ দিন দেওয়া হয়। পরবর্তী ডোজ ফলিকুলার গ্রোথ ও সিরাম ইস্ট্রাডিওল লেভেল অনুযায়ী আল্ট্রাসাউন্ডে মূল্যায়নের ভিত্তিতে সমন্বয় করা হয়। HCG ৫০০০–১০,০০০ IU দিয়ে ফাইনাল ওসাইট ম্যাচুরেশন করা হয়। এরপর ৩৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পরে ওসাইট (ডিম্বাণু) সংগ্রহ করা হয়।

PCOS: rFSH ইনজেকশন প্রতিদিন সকালে সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। প্রতিদিন সর্বনিম্ন ডোজ (৭৫ IU) দিয়ে শুরু করা উত্তম। এই ডোজ ৪ থেকে ৬ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। রক্তে ইস্ট্রোজেন লেভেল মেপে ওভারিয়ান রেসপন্স নির্ধারণ করা হয়। ইস্ট্রোজেন বাড়তে শুরু করলে বোঝা যায় rFSH ডিম্বাণু বৃদ্ধি করছে। ৫-৬ দিনের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলে ডোজ বৃদ্ধি করা হয়। সাধারণ ডোজ বৃদ্ধি ৭৫ ইউনিট, ১০০ ইউনিট, ১৫০ ইউনিট এবং ৩০০ ইউনিট। অধিকাংশ রোগী ৭৫ থেকে ১৫০ IU প্রতিদিনে সাড়া দেয়। তবে ডোজ বৃদ্ধি খুব সতর্কতার সাথে করতে হবে।

পুরুষদের ডোজ: পুরুষদের Spermatogenesis ইনডাকশন: শুধুমাত্র HCG দিয়ে প্রি-ট্রিটমেন্ট (২৫০০ IU সপ্তাহে দুইবার) প্রয়োজন। যদি ৮ সপ্তাহ HCG দেওয়ার পর সিরাম টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ডোজ ৫০০০ IU সপ্তাহে দুইবার করা যেতে পারে। সিরাম টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিক হওয়ার পর rFSH ৩০০ IU প্রতি সপ্তাহে (৩০০ IU সপ্তাহে দুইবার বা ১০০ IU সপ্তাহে তিনবার) সাবকিউটেনিয়াসভাবে HCG প্রি-ট্রিটমেন্টের সাথে দেওয়া হয়।

rFSH ৭ থেকে ১২ দিন প্রয়োগ করলে primary ovarian failure নেই এমন নারীদের ক্ষেত্রে ওভারিয়ান ফলিকুলার গ্রোথ ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে rFSH চিকিৎসা শুধুমাত্র ফলিকুলার গ্রোথ এবং ম্যাচুরেশন ঘটায়। পর্যাপ্ত ফলিকুলার ম্যাচুরেশন হলে ওভুলেশন ইনডিউস করতে HCG দিতে হবে।

প্রতিনির্দেশনা

রিকম্বিন্যান্ট FSH নিম্নলিখিত অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না:

  • ডিম্বাশয়, স্তন, জরায়ু, পিটুইটারি বা হাইপোথ্যালামাসের টিউমার
  • গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকাল
  • অজানা যোনি রক্তপাত
  • ওষুধ বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা
  • প্রাইমারি ওভেরিয়ান ফেইলিউর
  • গর্ভধারণের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ জরায়ুর ফাইব্রয়েড
  • প্রাইমারি টেস্টিকুলার ফেইলিউর
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

রিকম্বিন্যান্ট FSH কখনও কখনও ডিম্বাশয় অতিরিক্ত উদ্দীপিত করতে পারে। এতে পেলভিক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা প্রস্রাব কমে যেতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে ফুসফুসে পানি জমা, অ্যাজমা বেড়ে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর সমস্যা হতে পারে। অন্যান্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে রক্ত জমাট বাঁধা, তীব্র পেলভিক ব্যথা, বুক ব্যথা, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, ফোলাভাব এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। এটি যমজ বা একাধিক গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা ক্যাটাগরি X। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

সতর্কতা
  • থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল বা পিটুইটারি সমস্যা আগে বাদ দিতে হবে।
  • ওভুলেশন ইন্ডাকশনের ফলে একাধিক গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে।
  • অ্যালার্জির ঝুঁকি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় না, যদিও রিপোর্ট কম।
  • প্রথম ইনজেকশন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দিতে হবে।
  • IVF/ART রোগীদের ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগন্যান্সির ঝুঁকি বেশি হতে পারে; আল্ট্রাসাউন্ডে প্রাথমিকভাবে গর্ভের অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।
  • গর্ভপাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
  • ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন আল্ট্রাসাউন্ড ও ইস্ট্রাডিওল টেস্টের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
  • অতিরিক্ত উদ্দীপনা হলে চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে এবং hCG ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪–৬ মাস পর সিমেন অ্যানালাইসিস করা উচিত।
মাত্রাধিকত্যা

মানুষে তীব্র ওভারডোজের তথ্য নেই। প্রাণী পরীক্ষায় কম বিষাক্ততা দেখা গেছে। অতিরিক্ত ডোজে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন হতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

বন্ধ্যাত্বের ওষুধ, ট্রফিক হরমোন ও সম্পর্কিত সিন্থেটিক ওষুধ

সংরক্ষণ

২°C–৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখতে হবে। ডিপ ফ্রিজে রাখা যাবে না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

রিকম্বিন্যান্ট ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (rFSH) কিসের ওষুধ?

রিকম্বিন্যান্ট ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (rFSH) এর কাজ কি?

রিকম্বিন্যান্ট ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (rFSH) এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

রিকম্বিন্যান্ট ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (rFSH) বেশি খেলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় রিকম্বিন্যান্ট ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (rFSH) খাওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English