Loading...

ব্লিওমাইসিন সালফেট

Generic Medicine
নির্দেশনা

ব্লিওমাইসিন সালফেট (Bleomycin Sulfate) বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসা ও উপশমে ব্যবহৃত হয়। এটি এককভাবে অথবা সার্জারি ও রেডিয়েশন থেরাপির সহায়ক হিসেবে নিম্নোক্ত রোগগুলোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে:

  • ত্বক, মাথা ও ঘাড় এবং খাদ্যনালীর স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (প্রধান ব্যবহার)
  • ল্যারিংস, লিঙ্গ এবং জরায়ুমুখের স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা
  • ব্রঙ্কাসের স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম দেখা যায়)
  • টেস্টিসের কোরিওকার্সিনোমা এবং এমব্রিওনাল সেল কার্সিনোমা
  • অগ্রসর পর্যায়ের হজকিন রোগ এবং অন্যান্য লিম্ফোমা
  • মাইকোসিস ফাঙ্গয়েডস
ফার্মাকোলজি

ব্লিওমাইসিন সালফেটের সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী পুরোপুরি জানা না গেলেও ধারণা করা হয় যে এটি ডিএনএ-এর একক এবং দ্বৈত স্ট্র্যান্ডে ভাঙন সৃষ্টি করে। এর ফলে ডিএনএ সংশ্লেষণ ব্যাহত হয় এবং কোষ বিভাজন ও টিউমারের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। ব্লিওমাইসিন বিশেষভাবে কোষচক্রের M ফেজ এবং G2 (প্রি-মাইটোটিক) ফেজে থাকা কোষের উপর বেশি কার্যকর। অন্যান্য অনেক ক্যান্সারবিরোধী ওষুধের তুলনায় ব্লিওমাইসিন সাধারণত উল্লেখযোগ্য ইমিউনোসাপ্রেসিভ প্রভাব সৃষ্টি করে না এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর তেমন গুরুতর প্রভাব ফেলে না। ব্লিওমাইসিনকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম একটি এনজাইম স্বাভাবিক ও ক্যান্সার কোষ উভয় ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় এবং এটি বিশেষভাবে লিভারে বেশি পরিমাণে উপস্থিত। তবে এই এনজাইম ফুসফুস ও ত্বকে প্রায় অনুপস্থিত, যার ফলে এই অঙ্গগুলো ব্লিওমাইসিনের বিষক্রিয়ার প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মোট 300,000 IU-এর বেশি ডোজ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রদান করা উচিত। শরীরের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল (body surface area) অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে বা সপ্তাহে দুইবার 10,000 থেকে 20,000 IU/m² প্রদান করা হয়। বিকল্পভাবে, 7 দিন প্রতিদিন 15,000 IU প্রদান করা যেতে পারে, এরপর 3 সপ্তাহ চিকিৎসা বন্ধ রাখা হবে এবং এই পদ্ধতি দুইবার পুনরাবৃত্তি করা হবে, যাতে মোট প্রায় 300,000 IU ডোজ প্রদান করা হয়।

লিম্ফোমা ও টেস্টিকুলার টিউমারের উন্নতি দ্রুত দেখা যায়, অর্থাৎ সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে; তবে স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে প্রায় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মোট ডোজ প্রায় 150,000 IU-এর কাছাকাছি পৌঁছালে চিকিৎসাগত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা উচিত। যদি তা দেখা না যায়, তবে অন্য চিকিৎসা পদ্ধতি বিবেচনা করা উচিত।

Bleomycin ইন্ট্রামাসকুলার, ইন্ট্রাভেনাস, সাবকিউটেনিয়াস অথবা ইনট্রা-আর্টেরিয়াল পদ্ধতিতে প্রদান করা যেতে পারে। অ্যানাফাইল্যাকটয়েড প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনার কারণে লিম্ফোমা রোগীদের প্রথম দুইবার চিকিৎসার ক্ষেত্রে 1–5 ইউনিটের টেস্ট ডোজ দেওয়া উচিত। যদি 4–6 ঘণ্টার মধ্যে কোনো তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া না দেখা যায়, তাহলে অবশিষ্ট ডোজ প্রদান করা যেতে পারে। এরপর কোনো প্রতিক্রিয়া না হলে নিয়মিত ডোজের সময়সূচি অনুসরণ করা যেতে পারে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ব্লিওমাইসিন সালফেট (Bleomycin Sulfate) অন্যান্য কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। বুকে পূর্বে বা একই সময়ে রেডিয়েশন থেরাপি গ্রহণ করলে ব্লিওমাইসিনের কারণে ফুসফুসের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ভিঙ্কা অ্যালকালয়েড জাতীয় ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে রেনোডস সিনড্রোমের মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে, যা শরীরের প্রান্তীয় অংশে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং আঙুল, পায়ের আঙুল বা নাকের ডগায় টিস্যু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া ব্লিওমাইসিন ফেনাইটয়িনের শোষণ কমাতে পারে, ফলে এর কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। ক্লোজাপিনের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর ব্লিওমাইসিনের প্রতি অ্যালার্জি বা অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ব্লিওমাইসিন সালফেট ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া যেসব রোগীর তীব্র ফুসফুসের সংক্রমণ বা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কম তাদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। চিকিৎসাকালে যদি কোনো রোগীর নিউমোনাইটিস বা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তবে পুনরায় এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ব্লিওমাইসিন সালফেট ব্যবহারের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন স্থানে ব্যথা, লালভাব, উষ্ণতা, চুলকানি বা ফোলাভাব। এছাড়াও জ্বর, ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা এবং ওজন কমে যাওয়া দেখা যেতে পারে। এছাড়া ত্বকের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া বা পরিবর্তন, নখের পরিবর্তন এবং টিউমারের কাছাকাছি স্থানে ব্যথা বা চুলকানি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

ব্লিওমাইসিন সালফেট প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি D এর অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ এটি ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মানব দুধে এই ওষুধ নির্গত হয় কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যেহেতু অনেক ওষুধ মাতৃদুগ্ধে প্রবেশ করতে পারে এবং শিশুর জন্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে, তাই ব্লিওমাইসিন চিকিৎসা চলাকালীন স্তন্যদান বন্ধ রাখা উচিত।

সতর্কতা

ব্লিওমাইসিন অবশ্যই ক্যান্সার কেমোথেরাপিতে অভিজ্ঞ যোগ্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য জটিলতা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরীক্ষার সুবিধা থাকা জরুরি। ব্লিওমাইসিন গ্রহণকারী রোগীদের চিকিৎসাকালীন এবং চিকিৎসার পরেও সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ইনজেকশনের পরে এই ওষুধ দ্রুত শরীরে শোষিত হয়ে ত্বক, ফুসফুস এবং সংবেদনশীল টিউমার টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বক ও ফুসফুসে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যদি ফুসফুসে কোনো পরিবর্তন বা বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তবে কারণ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা বন্ধ রাখতে হবে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

সাইটোটক্সিক কেমোথেরাপি

সংরক্ষণ

২°–৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। আলো থেকে দূরে রাখতে হবে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্লিওমাইসিন সালফেট এর কাজ কি?

ব্লিওমাইসিন সালফেট এর ব্যবহার?

ব্লিওমাইসিন সালফেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ?

ব্লিওমাইসিন সালফেট কিভাবে সেবন করতে হয় ?

Bleomycin Sulfate (ব্লিওমাইসিন সালফেট) কি জ্বর সৃষ্টি করতে পারে?

No available drugs found

  View in English