Loading...

কোলেক্যালসিফেরল [ভিটামিন ডি৩]

Generic Medicine
নির্দেশনা

যেসব ব্যক্তির সূর্যালোকের সংস্পর্শ কম বা খাদ্যে ভিটামিন ডি৩-এর ঘাটতি রয়েছে, তাদের মধ্যে ভিটামিন ডি৩-এর অভাব দেখা দিতে পারে।

  • কোলেক্যালসিফেরল ক্যালসিয়াম ও ফসফেট শোষণের জন্য প্রয়োজনীয়, যা সুস্থ হাড় ও দাঁত বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রিকেটস, অস্টিওম্যালাসিয়া ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে।
  • এটি গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • কোলেক্যালসিফেরল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
ফার্মাকোলজি

ভিটামিন ডি৩-এর সক্রিয় রূপ ক্যালসিট্রিওল, শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে বিদ্যমান ভিটামিন ডি রিসেপ্টর (VDRs)-এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। এটি ফ্যাট-সোলিউবল হওয়ায় এর হাফ-লাইফ প্রায় ৫০ দিন। ভিটামিন ডি৩ ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে শোষিত হয়ে নির্দিষ্ট α-গ্লোবুলিনের সাথে যুক্ত হয়ে লিভারে পৌঁছায়, যেখানে এটি ২৫-হাইড্রক্সি ভিটামিন ডি৩ (ক্যালসিডিওল)-এ রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে কিডনিতে এটি ১,২৫-ডাইহাইড্রক্সি ভিটামিন ডি৩ (ক্যালসিট্রিওল)-এ রূপান্তরিত হয়, যা ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে। অব্যবহৃত ভিটামিন ডি৩ শরীরের ফ্যাট ও মাংসপেশিতে সঞ্চিত থাকে এবং শেষে মল ও প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ক্যাপসুল: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য:

  • ভিটামিন D3 ঘাটতির চিকিৎসা: ৪০০০০ IU প্রতি সপ্তাহে একবার ৭ সপ্তাহ। রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ ১৪০০–২০০০ IU/দিন। ২৫ হাইড্রক্সিভিটামিন D এর লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে ৩–৪ মাস পরে পরীক্ষা করতে হবে।
  • ভিটামিন D3 ঘাটতি প্রতিরোধ: প্রতি ৪ সপ্তাহে ২০০০০ IU। কিছু ক্ষেত্রে বেশি ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
  • অস্টিওপোরোসিস চিকিৎসায় সহায়ক হিসেবে: প্রতি মাসে ২০০০০ IU একবার।

ক্যাপসুল: শিশু (১২–১৮ বছর):

  • ভিটামিন D3 ঘাটতির চিকিৎসা: প্রতি ২ সপ্তাহে ২০০০০ IU, ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত।
  • ভিটামিন D3 ঘাটতি প্রতিরোধ: প্রতি ৬ সপ্তাহে ২০০০০ IU।

ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেট: প্রতিদিন ১০০০ IU (১–২টি ট্যাবলেট) বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী। খাবারের সাথে বা খাবারের ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রহণ করতে হবে।

ওরোফ্ল্যাশ বা চিউয়েবল ট্যাবলেট: প্রতিদিন ১০০০–২০০০ IU বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী। খাবারের সাথে বা খাবারের ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রহণ করতে হবে। ট্যাবলেট মুখে নিয়ে চিবিয়ে তারপর গিলে ফেলতে হবে।

ওরাল সলিউশন:

  • ১ বছর পর্যন্ত: প্রতিদিন ৪০০ IU বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী।
  • ১–১৮ বছর: প্রতিদিন ৬০০ IU বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী।

ইনজেকশন: চিকিৎসার জন্য-

  • রিকেটস: ২ সপ্তাহ অন্তর ১ অ্যাম্পুল ১ মাস, এরপর প্রতি ৪ মাসে ১ অ্যাম্পুল
  • অস্টিওপোরোসিস: ২ সপ্তাহ অন্তর ১ অ্যাম্পুল ৩ মাস
  • অস্টিওমালাসিয়া: ২ সপ্তাহ অন্তর ১ অ্যাম্পুল ৩ মাস
  • হাইপোক্যালসেমিয়া জনিত টেটানি: প্রতি ৪ মাসে ১ অ্যাম্পুল (প্রয়োজনে ২ অ্যাম্পুল পর্যন্ত বাড়ানো যায়)
  • মেনোপজ: প্রতি ৬ মাসে ১ অ্যাম্পুল
  • ভিটামিন D3 ঘাটতি: ১ অ্যাম্পুল ১–৬ মাস পরে পুনরায় দেওয়া যেতে পারে

ইনজেকশন: প্রতিরোধের জন্য-

  • গর্ভাবস্থা: ৬ষ্ঠ বা ৭ম মাসে ১/২ অ্যাম্পুল
  • স্তন্যদানকালীন: প্রতি ৬ মাসে ১/২ অ্যাম্পুল
  • ৫ বছর পর্যন্ত শিশু: প্রতি ৬ মাসে ১ অ্যাম্পুল
  • কিশোর: প্রতি ৬ মাসে ১ অ্যাম্পুল
  • বয়স্ক: প্রতি ৩ মাসে ১/২ অ্যাম্পুল

ইনজেকশনের ব্যবহারবিধি-

মুখে ব্যবহারের জন্য-

  • ধাপ-১: অ্যাম্পুলের উপর আঙুল রেখে উপরের সরু অংশ ভেঙে ফেলুন
  • ধাপ-২: অ্যাম্পুলের দ্রবণ চামচে ঢালুন
  • ধাপ-৩: পানি বা দুধের সাথে মিশিয়ে গ্রহণ করুন

IM ব্যবহারের জন্য-

  • ধাপ-১: অ্যাম্পুল ভেঙে নিন
  • ধাপ-২: এরপর IM ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহার করুন
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ওষুধের সাথে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া: ফেনিটয়িন বা বারবিচুরেট একসাথে ব্যবহার করলে ভিটামিন ডি-এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, কারণ এর মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়। গ্লুকোকর্টিকয়েডও ভিটামিন ডি-এর কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। ক্যালসিয়ামসহ ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে ডিজিটালিস ও অন্যান্য কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইডের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে, তাই ECG ও রক্তের ক্যালসিয়াম পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কোলেস্টাইরামিনের মতো আয়ন-এক্সচেঞ্জ রেজিন বা প্যারাফিন অয়েলের মতো ল্যাক্সেটিভ ভিটামিন ডি-এর অন্ত্রীয় শোষণ কমাতে পারে। অ্যাক্টিনোমাইসিনের মতো সাইটোটক্সিক ওষুধ এবং ইমিডাজোল গ্রুপের অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ভিটামিন ডি-এর সক্রিয় রূপে রূপান্তর বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

হাইপারক্যালসেমিয়ার সাথে সম্পর্কিত অবস্থায় ভিটামিন ডি৩ ব্যবহার করা উচিত নয়। ভিটামিন ডি৩ বা একই শ্রেণির ওষুধ কিংবা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া ভিটামিন ডি টক্সিসিটির প্রমাণ থাকলে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণত পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্টগুলো নিরাপদ ও সহনীয়। তবে অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে হাইপারক্যালসেমিয়া বা ভিটামিন ডি টক্সিসিটি হতে পারে। তীব্র উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেটের অস্বস্তি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় দৈনিক ৪০০০ IU পর্যন্ত ডোজ নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত ৪০০ IU দৈনিক ডোজ সুপারিশ করা হয়, তবে ভিটামিন ডি৩ ঘাটতি থাকলে বেশি ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ গ্রহণ করা উচিত।

ভিটামিন ডি৩ ও এর মেটাবোলাইট বুকের দুধে নিঃসৃত হয়। যদিও স্তন্যপানকারী শিশুর ক্ষেত্রে টক্সিসিটির রিপোর্ট নেই, তবুও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং মোট ভিটামিন ডি গ্রহণ বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

সতর্কতা

উচ্চ ডোজে ভিটামিন ডি৩ গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তের ক্যালসিয়াম পরীক্ষা করা উচিত, বিশেষ করে কিডনি সমস্যা বা গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে। ডিগক্সিন বা থায়াজাইড ডাইইউরেটিক গ্রহণকারী রোগীদের সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। লিভার বা কিডনি রোগ, প্রাইমারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম, লিম্ফোমা, টিউবারকুলোসিস বা গ্রানুলোমাটাস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

মাত্রাধিকত্যা

অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণে হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে, যা সবচেয়ে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। উপসর্গের মধ্যে বমি বমি ভাব, বমি, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, অবসাদ, তৃষ্ণা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত গ্রহণে রক্তনালী ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্যালসিফিকেশন হতে পারে। চিকিৎসায় ভিটামিন ডি বন্ধ করা এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ভিটামিন ইন বোন ফরমেশন, ভিটামিন-ডি প্রিপারেশনস

সংরক্ষণ

২৫°C এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

কোলেক্যালসিফেরল (ভিটামিন ডি৩) কিসের ওষুধ?

কোলেক্যালসিফেরল (ভিটামিন ডি৩) এর কাজ কি?

কোলেক্যালসিফেরল (ভিটামিন ডি৩) এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

কোলেক্যালসিফেরল (ভিটামিন ডি৩) বেশি খেলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় কোলেক্যালসিফেরল (ভিটামিন ডি৩) খাওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English