এই সমন্বিত নেবুলাইজার সলিউশনটি অবস্ট্রাকটিভ এয়ারওয়ে রোগে সৃষ্ট রিভার্সিবল ব্রঙ্কোস্পাজমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক ব্রঙ্কোডাইলেটর প্রয়োজন হয়।
সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম (সলিউশন ফর ইনহেলেশন)
Generic Medicineবিস্তারিত
এই ইনহেলেশন সলিউশনে দুটি কার্যকর ব্রঙ্কোডাইলেটর রয়েছে: সালবিউটামল সালফেট এবং ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড। সালবিউটামল সালফেট একটি নির্বাচিত বিটা₂-অ্যাড্রেনার্জিক এজেন্ট, যা শ্বাসনালীর মসৃণ পেশী শিথিল করে এবং ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন প্রতিরোধ করে। ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ, যা অ্যাসিটাইলকোলিনের কার্যকারিতা প্রতিহত করে ব্রঙ্কিয়াল মসৃণ পেশীর মুসকারিনিক রিসেপ্টর ব্লক করে এবং এর ফলে ব্রঙ্কোডাইলেশন ঘটে। এর প্রভাব প্রধানত ফুসফুসে সীমাবদ্ধ এবং সিস্টেমিক প্রভাব খুব কম। এই দুটি উপাদানের সমন্বয়ে দ্বৈত প্রক্রিয়ায় কাজ করে উন্নত ব্রঙ্কোডাইলেশন সৃষ্টি করে, যা একক ওষুধের তুলনায় বেশি কার্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করে না।
ফার্মাকোলজি
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড ইনহেলেশনের পর দ্রুত শোষিত হয় এবং এর সিস্টেমিক বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি ১০% এর কম। শিরায় প্রয়োগের পর প্রায় ৪৬% ডোজ কিডনির মাধ্যমে নির্গত হয়। এর টার্মিনাল এলিমিনেশন হাফ-লাইফ প্রায় ১.৬ ঘণ্টা এবং মোট হাফ-লাইফ প্রায় ৩.৬ ঘণ্টা। এটি ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার অতিক্রম করে না।
সালবিউটামল সালফেট ইনহেলেশন বা মুখে গ্রহণের পর দ্রুত ও সম্পূর্ণ শোষিত হয়। ৩ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্বে পৌঁছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরিবর্তিত অবস্থায় প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এর হাফ-লাইফ প্রায় ৪ ঘণ্টা। সালবিউটামল ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার অতিক্রম করতে পারে এবং প্লাজমা ঘনত্বের প্রায় ৫% পর্যন্ত পৌঁছায়।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে একসাথে ব্যবহারে কোনো উপাদানের সিস্টেমিক শোষণ বৃদ্ধি পায় না; বরং ফুসফুসে তাদের সম্মিলিত স্থানীয় প্রভাবের কারণেই এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
স্যালবিউটামল সালফেট ও ইপ্রাট্রপিয়াম ব্রোমাইড ইনহেলেশনের জন্য অ্যাম্পুল সলিউশন উপযুক্ত নেবুলাইজার অথবা ইন্টারমিটেন্ট পজিটিভ প্রেসার ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
- প্রাপ্তবয়স্ক (বয়স্কসহ): দিনে চারবার নেবুলাইজারে একটি ৩ মি.লি. অ্যাম্পুল ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজন হলে দিনে আরও দুটি অতিরিক্ত চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
- শিশু: ব্যবহার ও ডোজ চিকিৎসকের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
যদি অতিরিক্ত ইনহেলেশনেও পর্যাপ্ত উন্নতি না হয় এবং শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যায় বা দ্রুত খারাপ হয়, তাহলে রোগীকে অবিলম্বে চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিতে হবে।
- ধাপ ১: অ্যাম্পুলের উপরের অংশটি ঘুরিয়ে খুলুন। অ্যাম্পুলটি সোজা করে ধরে রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
- ধাপ ২: প্রয়োজনীয় পরিমাণ নেবুলাইজার সলিউশন নেবুলাইজারের চেম্বারে ঢালুন।
- ধাপ ৩: পাতলা করার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অন্যান্য বিটা-মিমেটিক ওষুধ, সিস্টেমিকভাবে শোষিত অ্যান্টিকোলিনার্জিক বা জ্যানথিন ডেরিভেটিভ একসাথে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে। বিটা-অ্যাগোনিস্টজনিত হাইপোক্যালেমিয়া জ্যানথিন ডেরিভেটিভ, গ্লুকোকর্টিকোস্টেরয়েড বা ডাইইউরেটিকের সাথে ব্যবহারে আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে গুরুতর শ্বাসনালী প্রতিবন্ধকতায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে।
হাইপোক্যালেমিয়া ডিগক্সিন গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই এ অবস্থায় রক্তের পটাসিয়াম মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
বিটা-ব্লকারের সাথে একযোগে ব্যবহার করলে ব্রঙ্কোডাইলেটর প্রভাব কমে যেতে পারে। মনোঅ্যামিন অক্সিডেজ ইনহিবিটার বা ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে বিটা-অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এর প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।
হ্যালোথেন, ট্রাইক্লোরোইথিলিন এবং এনফ্লুরেনের মতো অ্যানেসথেটিক গ্যাস ব্যবহার করলে বিটা-অ্যাগোনিস্টের কার্ডিওভাসকুলার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
হাইপারট্রফিক অবস্ট্রাকটিভ ট্যাকিআ্যারিদমিয়া রোগী এবং যাদের অ্যাট্রোপিন বা এর ডেরিভেটিভ কিংবা এই ওষুধের কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
অন্যান্য বিটা-অ্যাগোনিস্টযুক্ত ওষুধের মতো, এই সলিউশন ব্যবহারে হাত-পায়ের সূক্ষ্ম কাঁপুনি ও স্নায়বিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় ও মাথাব্যথা হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চ মাত্রায় ব্যবহারে গুরুতর হাইপোক্যালেমিয়া হতে পারে।
অন্যান্য ইনহেলেশন থেরাপির মতো কাশি, স্থানীয় জ্বালা বা মাঝে মাঝে ব্রঙ্কোস্পাজম হতে পারে। এছাড়াও বমি বমি ভাব, বমি, ঘাম, দুর্বলতা ও পেশীর খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে রক্তচাপের পরিবর্তন ও অ্যারিদমিয়া হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে মানসিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে।
অ্যান্টিকোলিনার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও কণ্ঠস্বর পরিবর্তন সাধারণ। চোখে ওষুধ প্রবেশ করলে মাইড্রিয়াসিস, চোখের চাপ বৃদ্ধি, অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লকোমা ও চোখে ব্যথা হতে পারে। হজমজনিত সমস্যা ও মূত্রধারণের সমস্যা বিরল এবং সাধারণত সাময়িক।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের শ্রেণি C। প্রাণী গবেষণায় সালবিউটামল সালফেটের টেরাটোজেনিক প্রভাব দেখা গেছে, তবে মানুষের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট ভ্রূণগত ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে তবেই এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। প্রসবের আগে ব্যবহার করার সময় সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এটি জরায়ুর সংকোচন কমাতে পারে।
সালবিউটামল ও ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড স্তন্যদুগ্ধে নিঃসৃত হতে পারে, তবে নবজাতকের ওপর এর প্রভাব নিশ্চিত নয়। ইনহেলেশনের মাধ্যমে ব্যবহার করলে শোষণ কম হলেও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
সতর্কতা
হঠাৎ বা দ্রুত বেড়ে যাওয়া শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিরল ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহারের পর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া যেমন চুলকানি, ফোলা, র্যাশ, ব্রঙ্কোস্পাজম বা গলা ফুলে যাওয়া দেখা দিতে পারে।
মাত্রাধিকত্যা
অতিরিক্ত মাত্রার প্রভাব প্রধানত সালবিউটামলের কারণে ঘটে, কারণ ইপ্রাট্রোপিয়ামের সিস্টেমিক শোষণ কম।
লক্ষণগুলোর মধ্যে দ্রুত হৃদস্পন্দন, বুকব্যথা, রক্তচাপের ওঠানামা, বুক ধড়ফড়, কাঁপুনি, অ্যারিদমিয়া ও ফ্লাশিং থাকতে পারে।
চিকিৎসায় সাপোর্টিভ কেয়ার, সেডেটিভ বা ট্রাঙ্কুইলাইজার ব্যবহার করা হয়; গুরুতর ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হতে পারে। বিটা₁-সিলেক্টিভ ব্লকার সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
সমন্বিত ব্রঙ্কোডাইলেটর
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম (সলিউশন ফর ইনহেলেশন) কিসের ওষুধ?
সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম এর কাজ কি?
সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম বেশি ব্যবহার করলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম ব্যবহার করা যাবে কি?