সোডিয়াম পিকোসালফেট, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং অ্যানহাইড্রাস সিট্রিক অ্যাসিড ওরাল সলিউশন/পাউডার প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৯ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশুদের কোলনোস্কোপির পূর্বে অন্ত্র পরিষ্কারের জন্য নির্দেশিত। এটি বারিয়াম এনিমা, এক্স-রে পরীক্ষা বা এমন সার্জিক্যাল প্রক্রিয়ার পূর্বেও ব্যবহৃত হয় যেখানে সম্পূর্ণ পরিষ্কার কোলন প্রয়োজন।
সোডিয়াম পিকোসালফেট + ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড + সাইট্রিক অ্যাসিড
Generic Medicineবিস্তারিত
সোডিয়াম পিকোসালফেট কোলনের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোলাইসিস হয়ে সক্রিয় মেটাবোলাইট বিআইএস-(পি-হাইড্রোক্সিফেনাইল)-পাইরিডিল-২-মিথেন (BHPM) তৈরি করে, যা সরাসরি কোলনের মিউকোসায় কাজ করে পেরিস্টালসিস বাড়ায়। ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সিট্রিক অ্যাসিড একসাথে বিক্রিয়া করে ম্যাগনেসিয়াম সিট্রেট তৈরি করে, যা একটি অসমোটিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে পানি ধরে রাখে।
সোডিয়াম পিকোসালফেটের স্টিমুল্যান্ট কার্য এবং ম্যাগনেসিয়াম সিট্রেটের অসমোটিক কার্য একত্রে শক্তিশালী পিউরগেটিভ প্রভাব সৃষ্টি করে। পর্যাপ্ত তরলসহ গ্রহণ করলে এটি পানিযুক্ত ডায়রিয়া সৃষ্টি করে, যার মাধ্যমে অন্ত্র পরিষ্কার হয়। এই ওষুধ প্রাপ্তবয়স্কদের কোলনোস্কোপির আগে কোলন পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয় যাতে অন্ত্রের দেয়াল পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। এছাড়া ৯ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশুদের ক্ষেত্রেও একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
দুটি ডোজিং রেজিমেন আছে, প্রতিটিতে দুটি আলাদা সময়ে ডোজ নিতে হয়:
স্প্লিট-ডোজ রেজিমেন (প্রেফার্ড পদ্ধতি) স্প্লিট-ডোজ রেজিমেন হলো প্রস্তাবিত পদ্ধতি। রোগীকে নির্দেশ দিতে হবে দুটি আলাদা ডোজ তরলসহ গ্রহণ করতে:
- প্রথম ডোজ (১ বোতল/১ স্যাশে) কোলনোস্কপির আগের দিন সন্ধ্যায় (যেমন ৫:০০–৯:০০ PM) নিতে হবে, এরপর ১২০০ মি.লি. তরল (২৪০ মি.লি. × ৫ গ্লাস) পরিষ্কার তরল পান করতে হবে (সরবরাহকৃত মেজারিং কাপ ব্যবহার করে) ঘুমানোর আগে। ৫ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার তরল গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।
- দ্বিতীয় ডোজ (১ বোতল/১ স্যাশে) পরের দিন কোলনোস্কপির প্রায় ৫ ঘণ্টা আগে নিতে হবে, এরপর কমপক্ষে ৭২০ মি.লি. (২৪০ মি.লি. × ৩ গ্লাস) পরিষ্কার তরল পান করতে হবে। কোলনোস্কপির অন্তত ২ ঘণ্টা আগে ৫ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার তরল গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।
ডে-বিফোর রেজিমেন (বিকল্প পদ্ধতি) ডে-বিফোর রেজিমেন হলো বিকল্প পদ্ধতি, যাদের জন্য স্প্লিট-ডোজ উপযুক্ত নয়। রোগীকে নির্দেশ দিতে হবে দুটি আলাদা ডোজ তরলসহ গ্রহণ করতে:
- প্রথম ডোজ (১ বোতল/১ স্যাশে) কোলনোস্কপির আগের দিন বিকাল বা সন্ধ্যায় (যেমন ৪:০০–৬:00 PM) নিতে হবে, এরপর ১২০০ মি.লি. (২৪০ মি.লি. × ৫ গ্লাস) পরিষ্কার তরল পান করতে হবে পরবর্তী ডোজের আগে। ৫ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার তরল গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।
- দ্বিতীয় ডোজ (১ বোতল/১ স্যাশে) প্রায় ৬ ঘণ্টা পরে রাতের শেষ ভাগে (যেমন ১০:০০ PM–১২:০০ AM) নিতে হবে, এরপর ঘুমানোর আগে কমপক্ষে ৭২০ মি.লি. (২৪০ মি.লি. × ৩ গ্লাস) পরিষ্কার তরল পান করতে হবে। ৫ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার তরল গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।
- উভয় রেজিমেনেই প্রতিটি ডোজের পরে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ করতে হবে।
- রোগীকে নির্দেশ দিতে হবে কোলনোস্কপির আগের দিন শুধুমাত্র পরিষ্কার তরল গ্রহণ করতে (কোনো শক্ত খাবার বা দুধ নয়) এবং কোলনোস্কপির ২ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে হবে। যদি প্রথম ডোজের পর তীব্র পেট ফাঁপা, ফুলে যাওয়া বা পেট ব্যথা হয়, তবে দ্বিতীয় ডোজ বিলম্ব করতে হবে যতক্ষণ না উপসর্গ কমে যায়।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
- যেসব ওষুধ শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, সেগুলোর সাথে এই দ্রবণ ব্যবহার সতর্কতার সাথে করতে হবে। এতে খিঁচুনি, হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন (arrhythmia) এবং QT ইন্টারভাল দীর্ঘ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেসব ওষুধ পটাশিয়াম কমিয়ে দিতে পারে (যেমন ডায়ুরেটিক, কর্টিকোস্টেরয়েড, কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড) বা সোডিয়াম কমাতে পারে, সেগুলোর সাথে সতর্কতা প্রয়োজন। এছাড়া NSAIDs এবং SIADH সৃষ্টিকারী ওষুধ (যেমন ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, SSRI, অ্যান্টিসাইকোটিক, কার্বামাজেপিন) ব্যবহারে পানি জমে যাওয়া ও ইলেক্ট্রোলাইটের সমস্যা বাড়তে পারে।
- টেট্রাসাইক্লিন ও ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, আয়রন, ডিগক্সিন, ক্লোরপ্রোমাজিন এবং পেনিসিলামিন এই দ্রবণ নেওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে অথবা ৬ ঘণ্টা পরে গ্রহণ করা উচিত, কারণ ম্যাগনেসিয়ামের সাথে বন্ধন (chelation) হতে পারে।
- অ্যান্টিবায়োটিক একসাথে বা আগে-পরে ব্যবহার করলে এই ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
নিম্নলিখিত অবস্থায় এই ওষুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ:
- গুরুতর কিডনি সমস্যা (creatinine clearance <30 mL/min), কারণ ম্যাগনেসিয়াম জমে যেতে পারে
- অন্ত্রের বাধা (intestinal obstruction) বা ileus
- অন্ত্র ছিদ্র (bowel perforation)
- টক্সিক কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন
- পাকস্থলীতে খাবার আটকে থাকা (gastric retention)
- ওষুধের যেকোনো উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (>1%) এর মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং বমি। এছাড়া পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা/ক্র্যাম্প, ফুলে যাওয়া এবং পানির মতো ডায়রিয়া হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করতে হবে। প্রাণী পরীক্ষার ফল সবসময় মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। এই ওষুধ বুকের দুধে যায় কি না তা জানা যায়নি। তাই স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
ব্যবহারের আগে, চলাকালীন এবং পরে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইটের সমস্যা না হয়। হার্ট ফেইলিউর রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। বমি বা পানিশূন্যতার লক্ষণ (যেমন দাঁড়িয়ে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা) দেখা দিলে ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন, খিঁচুনি বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে খিঁচুনি (generalized tonic-clonic seizure) দেখা গেছে, যা সাধারণত ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতির সাথে সম্পর্কিত এবং ঠিক করলে উপশম হয়।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে: নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে: কিডনি দুর্বল হলে বা কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন ওষুধ ব্যবহার করলে সতর্কতা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। গুরুতর কিডনি সমস্যায় ম্যাগনেসিয়াম জমে যেতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
এনিমা ও বাওয়েল ক্লিনজিং সলিউশন
সংরক্ষণ
১৫°-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
Sodium Picosulfate + Magnesium Oxide + Citric Acid কিসের ওষুধ?
Sodium Picosulfate + Magnesium Oxide + Citric Acid এর কাজ কি?
Sodium Picosulfate + Magnesium Oxide + Citric Acid এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
Sodium Picosulfate + Magnesium Oxide + Citric Acid বেশি খেলে কি হয়?
Sodium Picosulfate + Magnesium Oxide + Citric Acid কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?
No available drugs found