Sodium Polystyrene Sulfonate হাইপারকালেমিয়া (রক্তে অতিরিক্ত পটাশিয়াম) চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। হাইপারকালেমিয়ার প্রধান কারণ হলো Acute বা Chronic Kidney Disease। এছাড়া আরও কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে লিভার ফেইলিউর, অ্যাড্রেনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, এবং কিছু ওষুধের ব্যবহার যেমন ARB, ACE inhibitor, beta blocker অথবা অতিরিক্ত পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ।
সোডিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট
Generic Medicineফার্মাকোলজি
Sodium Polystyrene Sulfonate একটি কেশন এক্সচেঞ্জ রেজিন। এটি পাকস্থলীতে সোডিয়াম আয়ন মুক্ত করে এবং তার পরিবর্তে হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে। যখন এটি বৃহদান্ত্রে পৌঁছে, তখন হাইড্রোজেন আয়নের পরিবর্তে ফ্রি পটাশিয়াম আয়ন বিনিময় হয়। এরপর রেজিনটি মলের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে পটাশিয়ামের শোষণ কমে যায় এবং মলের মাধ্যমে পটাশিয়াম নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এতে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক (বয়স্কসহ)
- মুখে সেবনের ডোজ: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গড় দৈনিক ডোজ ১৫ গ্রাম থেকে ৬০ গ্রাম (দিনে ১–৪ বার ১ স্যাশে)।
- রেক্টাল ডোজ: যারা মুখে ওষুধ গ্রহণ করতে অক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে রেক্টাল (এনিমা) ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনে ১–২ বার ৩০ গ্রাম থেকে ৫০ গ্রাম রেজিন দেওয়া হয় (প্রতি ৬ ঘণ্টা বিরতিতে)। প্রতিটি ডোজ শরীরের তাপমাত্রার সমান উষ্ণ ইমালশন আকারে ১৫০–২০০ মি.লি. জলীয় মাধ্যমে (যেমন সাধারণ পানি, ১০% ডেক্সট্রোজ ইন ওয়াটার বা পানি ও ২% মিথাইলসেলুলোজ সাসপেনশনের সমান মিশ্রণ) দেওয়া হয়। দেওয়ার সময় ইমালশনটি আলতোভাবে নাড়াতে হবে। এনিমা যতটা সম্ভব বেশি সময় ধরে রাখতে হবে এবং পরে ক্লিনজিং এনিমা দিতে হবে।
শিশু
- মুখে সেবনের ডোজ: ছোট শিশু ও নবজাতকের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ডোজ দিতে হবে। তীব্র হাইপারকালেমিয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ডোজ ১ গ্রাম/কেজি শরীরের ওজন দৈনিক, ভাগ করে দিতে হবে। মেইনটেন্যান্স থেরাপির জন্য ডোজ কমিয়ে ০.৫ গ্রাম/কেজি শরীরের ওজন দৈনিক করা যেতে পারে।
- রেক্টাল ডোজ: যদি মুখে গ্রহণ করা না যায়, তবে অন্তত মুখে দেওয়া ডোজের সমান পরিমাণ রেক্টালভাবে দিতে হবে। রেজিন ১০% ডেক্সট্রোজ ইন ওয়াটারে সাসপেনশন আকারে দিতে হবে। এনিমা ধরে রাখার পর কোলন ভালোভাবে ধুয়ে (ইরিগেশন) রেজিন সম্পূর্ণ অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
নবজাতক
- রেক্টাল ডোজ: যেহেতু মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়, তাই শুধুমাত্র রেক্টাল পদ্ধতি বিবেচনা করা হবে। রেক্টাল ব্যবহারে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ০.৫ থেকে ১ গ্রাম/কেজি ব্যবহার করতে হবে। সাসপেনশন প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই ডাইলিউট করতে হবে। ব্যবহারের পর কোলন ভালোভাবে ইরিগেশন করে রেজিন অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
মিক্সিং পদ্ধতি: প্রতিটি ডোজ অল্প পরিমাণ পানি বা মিষ্টি তরল/সিরাপের সাথে সাসপেনশন হিসেবে দিতে হবে (কিন্তু পটাশিয়ামযুক্ত ফলের রস যেমন কমলা বা অন্যান্য ফলের রসের সাথে নয়)। তরলের পরিমাণ সাধারণত ২০–১০০ মি.লি. এর মধ্যে হয়, যা ডোজের উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে প্রতি গ্রাম ওষুধের জন্য ৩–৪ মি.লি. তরল ধরা যেতে পারে। প্রস্তুত সাসপেনশন রোগীকে সোজা অবস্থায় রেখে দিতে হবে। রেজিন পেটেও দেওয়া যেতে পারে প্লাস্টিক টিউবের মাধ্যমে। প্রয়োজন হলে কিডনি রোগীর উপযোগী খাদ্যের সাথে মিশিয়েও দেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসার তীব্রতা ও সময়কাল হাইপারকালেমিয়ার মাত্রা ও প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। Sodium Polystyrene Sulfonate গরম করা যাবে না, কারণ এতে এর কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। সাসপেনশন সদ্য প্রস্তুত করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
Sodium Polystyrene Sulfonate অ্যান্টাসিড, non-absorbable cation-donating অ্যান্টাসিড ও ল্যাক্সেটিভের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়া করতে পারে। এছাড়া ডিজিটালিস, সরবিটল, লিথিয়াম এবং থাইরক্সিনের সাথে ব্যবহারেও ইন্টারঅ্যাকশন হতে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
Sodium Polystyrene Sulfonate নিম্নলিখিত অবস্থায় ব্যবহার নিষিদ্ধ: হাইপোক্যালেমিয়া (রক্তে পটাশিয়াম কম থাকা), পলিস্টাইরিন সালফোনেট রেজিনের প্রতি অ্যালার্জি, অন্ত্রের বাধা (obstructive bowel disease), নবজাতকের অন্ত্রের গতি কম থাকা (অপারেশন পরবর্তী বা ওষুধজনিত) নবজাতকের ক্ষেত্রে মুখে সেবন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
এই ওষুধে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া হতে পারে। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, বমি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য—বিশেষ করে উচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করলে। কিছু ক্ষেত্রে হাইপোক্যালেমিয়া, হাইপোক্যালসেমিয়া এবং সোডিয়াম জমে যাওয়া দেখা যেতে পারে। মাঝে মাঝে ডায়রিয়া হতে পারে। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি ডোজে ফিকাল ইমপ্যাকশন হতে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে কোলন নেক্রোসিস রিপোর্ট করা হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে ব্যবহারে অন্ত্রের বাধা হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থা ক্যাটাগরি C। প্রাণী পরীক্ষায় প্রজনন সংক্রান্ত পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। মানুষের ক্ষেত্রে ভ্রূণের ক্ষতি হবে কি না তা জানা যায়নি। শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা উচিত। এই ওষুধ বুকের দুধে যায় কি না তা জানা যায়নি। যেহেতু অনেক ওষুধ বুকের দুধে যায়, তাই স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
সতর্কতা
যেসব রোগী অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ সহ্য করতে পারেন না (যেমন গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ বা মারাত্মক শোথ), তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে অন্যান্য উৎস থেকে সোডিয়াম গ্রহণ সীমিত করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে যতক্ষণ না স্বাভাবিক পায়খানা হয়। ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত ল্যাক্সেটিভ বা সরবিটল ব্যবহার করা যাবে না।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে: কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নবজাতকদের ক্ষেত্রে মুখে ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রি-ম্যাচিউর বা কম ওজনের শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ অন্ত্রের রক্তক্ষরণ বা কোলন নেক্রোসিসের ঝুঁকি থাকে।
মাত্রাধিকত্যা
অতিরিক্ত সেবনে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে যেমন হাইপোক্যালেমিয়া, হাইপোক্যালসেমিয়া এবং হাইপোম্যাগনেসেমিয়া। লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, পেশি দুর্বলতা এবং রিফ্লেক্স কমে যাওয়া, যা গুরুতর হলে পক্ষাঘাত বা শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ক্যালসিয়াম রেগুলেটর
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে সংরক্ষণ করতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। সাসপেনশনটি সদ্য প্রস্তুত করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না।
সাধারণ প্রশ্ন
Sodium Polystyrene Sulfonate কিসের ওষুধ?
Sodium Polystyrene Sulfonate এর কাজ কি?
Sodium Polystyrene Sulfonate এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
Sodium Polystyrene Sulfonate বেশি খেলে কি হয়?
Sodium Polystyrene Sulfonate কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?
No available drugs found