পেথিডিন ব্যবহারের ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়া, কোমা, খিঁচুনি, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং এর বিপাকজাত পদার্থ নরপেথিডিনের মাত্রা বৃদ্ধি সহ গুরুতর বা প্রাণঘাতী প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই সব সতর্কতা ও নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত।
যেসব রোগী সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ডিপ্রেসেন্ট যেমন সেডেটিভ, হিপনোটিক, বারবিচুরেট, বেঞ্জোডায়াজেপিন, ফেনোথিয়াজিন, ট্রাঙ্কুইলাইজার, অ্যানেস্থেটিক, অ্যালকোহল বা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে পেথিডিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এতে অতিরিক্ত ঘুমভাব ও শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা পেথিডিনের উচ্চ মাত্রা সহ্য করতে পারেন, তবে ব্যথা হঠাৎ কমে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বয়স্ক রোগীরা সাধারণত ওপিওইডের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং প্রোটিন বাইন্ডিং পরিবর্তনের কারণে তাদের শরীরে ওষুধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
পেথিডিন লিভারে বিপাকিত হয় এবং কিডনির মাধ্যমে বের হয়ে যায়, তাই লিভার বা কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিষাক্ত নরপেথিডিন জমা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
হৃদযন্ত্রের আউটপুট কমে গেলে লিভারে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, ফলে পেথিডিনের বিপাক কমে এবং শরীরে জমে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
পেথিডিন সাময়িকভাবে রক্তচাপ, রক্তনালীর প্রতিরোধ এবং হৃদস্পন্দন বাড়াতে পারে, তাই হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
ফিওক্রোমোসাইটোমা রোগীদের ক্ষেত্রে পেথিডিন উচ্চ রক্তচাপজনিত সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
যেসব ব্যক্তি ওপিওইডের উপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে ওপিওইড প্রতিরোধক ব্যবহার করলে তীব্র প্রত্যাহার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে খুব সতর্কতার সাথে এবং কম মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।
খিঁচুনি রোগীদের ক্ষেত্রে পেথিডিন খিঁচুনি বাড়াতে পারে। উচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করলে এমনকি পূর্বে খিঁচুনির ইতিহাস না থাকলেও খিঁচুনি হতে পারে।
এক্ল্যাম্পসিয়ার ক্ষেত্রে পেথিডিন ও ফেনোথিয়াজিন একসাথে ব্যবহার করলে খিঁচুনি বাড়তে পারে, তাই এক্ল্যাম্পসিয়া ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় এটি ব্যবহার না করাই উত্তম।
পেথিডিন প্লাসেন্টা অতিক্রম করে এবং প্রসবের সময় ব্যবহারে নবজাতকের শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যেতে পারে। নবজাতকের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ধীরে বিপাকিত হয়, তাই প্রয়োজনে নালোক্সোন ব্যবহার করতে হতে পারে।
পেথিডিন ব্যবহারে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়ার (অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন) সমস্যা দেখা যেতে পারে।
হাইপোথাইরয়েডিজম বা অ্যাডিসন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পেথিডিন সতর্কতার সাথে এবং কম মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত।
প্রোস্টেট বড় হওয়া বা মূত্রনালী সংকীর্ণতার ক্ষেত্রে পেথিডিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
ওপিওইড রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা উচিত।
চোখের উপর পেথিডিনের প্রভাব সম্পর্কে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে চোখের মণি ছোট হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে বড় হয় বা পরিবর্তন হয় না। তাই গ্লুকোমা রোগীদের ক্ষেত্রে চোখের চাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।