এই কম্বিনেশন ট্যাবলেটটি এমন নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাদের তীব্র ব্রণ রয়েছে এবং যা মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য চিকিৎসায় সাড়া দেয় না। এছাড়াও এটি সেবোরিয়া এবং হালকা হিরসুটিজমসহ অ্যান্ড্রোজেন বৃদ্ধিজনিত উপসর্গের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
সাইপ্রোটেরন অ্যাসিটেট + ইথিনাইল এস্ট্রাডিওল
Generic Medicineকম্পোজিশন
প্রতিটি ব্লিস্টার প্যাকে ২১টি ট্যাবলেট থাকে। প্রতিটি ট্যাবলেটে রয়েছে: সাইপ্রোটেরোন অ্যাসিটেট ২ মি.গ্রা. এবং ইথিনাইলইস্ট্রাডিওল ০.০৩৫ মি.গ্রা। চিকিৎসা চক্র ২১ দিন ওষুধ সেবন এবং ৭ দিন বিরতি (৩ সপ্তাহ সেবন, ১ সপ্তাহ বিরতি) অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
ফার্মাকোলজি
সাইপ্রোটেরোন অ্যাসিটেট একটি স্টেরয়েড যৌগ, যার শক্তিশালী অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেনিক, প্রোজেস্টোজেনিক এবং অ্যান্টি-গোনাডোট্রপিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর ব্লক করে এবং হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-ওভেরিয়ান অক্ষের মাধ্যমে অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন কমায়।
ইথিনাইলইস্ট্রাডিওল সেক্স হরমোন-বাইন্ডিং গ্লোবুলিন (SHBG) বাড়ায়, ফলে রক্তে মুক্ত অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। সাইপ্রোটেরোন SHBG কমায় না।
এককভাবে ব্যবহারে মাসিক অনিয়ম হতে পারে, তবে ইথিনাইলইস্ট্রাডিওলের সাথে ব্যবহারে তা প্রতিরোধ হয়। সাইক্লিক ব্যবহারে এটি ডিম্বস্ফোটন বন্ধ করে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে। উভয় উপাদান মুখে খাওয়ার পর দ্রুত শোষিত হয়। সাইপ্রোটেরোনের দীর্ঘ হাফ-লাইফের কারণে ৬–১২ দিনের মধ্যে প্লাজমা লেভেল প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে (৩৬ মাস পর্যন্ত) লিপিড বিপাকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না, তবে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কিছুটা বাড়তে পারে, LDL সামান্য কমে এবং HDL বৃদ্ধি পেতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এই ট্যাবলেটটি শুধুমাত্র গর্ভনিরোধক (contraceptive) হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি রোগীর নিয়মিতভাবে ওষুধ গ্রহণ নিশ্চিত না হয় এবং গর্ভনিরোধক প্রয়োজন হয়, তবে অতিরিক্ত নন-হরমোনাল গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
প্রথম চিকিৎসা কোর্স (First Treatment Course) :রোগীকে নির্দেশ দিতে হবে যে তিনি মাসিকের ১ম দিন থেকে (প্রথম দিন = Day 1) টানা ২১ দিন প্রতিদিন ১টি করে ট্যাবলেট গ্রহণ করবেন। ২১ দিন পর ট্যাবলেট বন্ধ রাখতে হবে ৭ দিন (১ সপ্তাহ)। এই সময় সাধারণত উইথড্রয়াল ব্লিডিং (withdrawal bleeding) হতে পারে। প্রথম সাইকেলটি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ছোট হবে, তবে পরবর্তী সব সাইকেল ৪ সপ্তাহের হবে। রোগীকে প্রতিদিন একই সময়ে ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে এবং ব্লিস্টার প্যাক থেকে সপ্তাহের নির্ধারিত দিনের (যেমন “Mon”) ঘর অনুযায়ী প্রথম ট্যাবলেট নিতে হবে।
পরবর্তী কোর্স (Subsequent Courses): পরবর্তী সব কোর্সেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে: ২১ দিন ট্যাবলেট + ৭ দিন বিরতি। পরবর্তী কোর্স শুরু করতে হবে পূর্বের কোর্স শেষ হওয়ার ৭ দিন পর, সপ্তাহের একই দিনে যেদিন প্রথম কোর্স শুরু করা হয়েছিল।
এই সময়ে উইথড্রয়াল ব্লিডিং চলমান থাকলেও নতুন কোর্স শুরু করতে হবে।
চিকিৎসার সময়কাল: চিকিৎসা কয়েক মাস চালিয়ে যেতে হতে পারে, কারণ উন্নতি সাধারণত অন্তত ৩ মাস পরে দেখা যায়। চিকিৎসক নিয়মিতভাবে থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করবেন। লক্ষণ সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার পর ৩ থেকে ৪ সাইকেল পরে ওষুধ বন্ধ করা উচিত।
গর্ভাবস্থা (Pregnancy): মাসিক অনুপস্থিত থাকলে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। গর্ভাবস্থার সন্দেহ হলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।
মিসড ডোজ (Missed Dose) :যদি নির্ধারিত সময়ে ট্যাবলেট খেতে ভুলে যায়, তবে ১২ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া যেতে পারে। ১২ ঘণ্টার বেশি দেরি হলে মিসড ট্যাবলেটটি বাদ দিয়ে বাকি ট্যাবলেট যথাসময়ে চালিয়ে যেতে হবে, যাতে এই সাইকেলে আগাম উইথড্রয়াল ব্লিডিং না হয়। এই সময় গর্ভধারণ এড়াতে পুরো প্যাক শেষ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত নন-হরমোনাল গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। গর্ভধারণ হলে চিকিৎসা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
নিম্নলিখিত ওষুধ একসাথে ব্যবহারে এই ট্যাবলেটের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং ব্রেকথ্রু ব্লিডিং বাড়তে পারে: অ্যাম্পিসিলিন, অ্যানালজেসিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিমাইগ্রেন ওষুধ, ক্লোরামফেনিকল, গ্রিসিওফালভিন, আইসোনিয়াজিড, নিউমাইসিন, নাইট্রোফিউরানটয়িন, পেনিসিলিন V, ফেনাইলবুটাজোন, সালফোনামাইড ও টেট্রাসাইক্লিন। অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টের সাথে ব্যবহারে তাদের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
নিম্নলিখিত ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তিত হতে পারে: অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ, বেঞ্জোডায়াজেপিন (অক্সিডেটিভ বিপাকযুক্ত), বিটা-ব্লকার, ক্যাফেইন, কর্টিকোস্টেরয়েড, হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ, ফেনোথিয়াজিন, থিওফাইলিন, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং ভিটামিন।
কার্বামাজেপিন, ফেনোবারবিটাল, ফেনাইটোইন, পিরিমিডিন ডেরিভেটিভ এবং রিফ্যাম্পিসিন লিভার এনজাইম উদ্দীপনার মাধ্যমে ইস্ট্রোজেনের বিপাক বাড়িয়ে এই ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধের ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। ভিটামিন C একসাথে ব্যবহারে ইথিনাইলইস্ট্রাডিওলের প্লাজমা মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
চিকিৎসা শুরুর আগে গর্ভাবস্থা নিশ্চিতভাবে বাদ দিতে হবে। প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে যে অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেনিক প্রভাবের কারণে পুরুষ ভ্রূণে নারীকরণ ঘটতে পারে, যা মানুষের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য।
প্রতিনির্দেশনা
- থ্রম্বোফ্লেবাইটিস, থ্রম্বোএম্বোলিক রোগ বা এসব রোগের ইতিহাস থাকলে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- সেরিব্রোভাসকুলার রোগ।
- হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ।
- সক্রিয় লিভার রোগ, হেপাটিক অ্যাডেনোমা বা ক্যান্সার।
- কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিসের ইতিহাস।
- স্তন ক্যান্সার (নিশ্চিত বা সন্দেহজনক)।
- ইস্ট্রোজেন-নির্ভর টিউমার।
- অজানা যোনি রক্তপাত।
- চোখের রক্তনালিজনিত রোগ।
- গর্ভাবস্থা।
- লিভার টিউমারের ইতিহাস।
- গুরুতর ডায়াবেটিসজনিত ভাসকুলার সমস্যা।
- গর্ভাবস্থায় অবনতি হওয়া ওটোস্ক্লেরোসিসের ইতিহাস।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে রক্তপাত, মাথা ঘোরা, ডিপ্রেশন, ওজন বৃদ্ধি, মাথাব্যথা, শরীরে ফোলা, স্তনে ব্যথা, দুধ নিঃসরণ, রক্ত জমাট বাঁধা এবং পিত্তথলিতে পাথর।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থার শুরুতে ইস্ট্রোজেন/প্রোজেস্টোজেন কম্বিনেশন ব্যবহারে ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে বলে রিপোর্ট রয়েছে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে গর্ভাবস্থা নিশ্চিতভাবে বাদ দিতে হবে। স্তন্যদানকালে এই ওষুধ ব্যবহার সাধারণত পরামর্শযোগ্য নয়, কারণ হরমোন মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়ে দুধের পরিমাণ ও গুণমান কমাতে পারে। শিশুর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অজানা। এটি শরীরে পানি জমাতে পারে, তাই মৃগীরোগসহ কিছু অবস্থায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
করোনারি আর্টারি রোগের ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের ক্ষেত্রে—যেমন ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং বয়স বৃদ্ধি—ইস্ট্রোজেন বা প্রোজেস্টোজেন কম্বিনেশন ব্যবহারে অতিরিক্ত ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সে শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ ঝুঁকি–উপকার বিশ্লেষণের পর এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। ধূমপান এই ওষুধের কারণে হৃদ্রোগ ও রক্তনালীর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। বয়স বাড়ার সাথে এবং বেশি ধূমপান (দিনে ১৫ বা তার বেশি সিগারেট) করলে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি নারীদের ক্ষেত্রে। এই ওষুধ ব্যবহারকারীদের ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।
ইস্ট্রোজেন/প্রোজেস্টোজেন কম্বিনেশন রক্তে লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই পূর্বে হাইপারলিপোপ্রোটিনেমিয়া থাকলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা উচিত। স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস একসাথে থাকলে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হয়, তাই বিকল্প চিকিৎসা বিবেচনা করা উচিত। থ্রম্বোএম্বোলিক বা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা যেমন থ্রম্বোফ্লেবাইটিস, পালমোনারি এম্বোলিজম, স্ট্রোক, হার্টের রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়া, মেসেন্টেরিক থ্রম্বোসিস বা রেটিনাল থ্রম্বোসিস দেখা দিলে ওষুধ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকা, দুর্ঘটনার পর অচলাবস্থা বা বড় অপারেশনের মতো অবস্থায় এই ওষুধ ব্যবহার এড়াতে হবে, কারণ এসব ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। প্রয়োজনে নন-হরমোনাল বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে:
- দৃষ্টি ঝাপসা বা দৃষ্টিশক্তি হারানো,
- প্যাপিলেডেমা, চোখের রক্তনালীর সমস্যা,
- অজানা কারণে তীব্র মাথাব্যথা, মাইগ্রেনের অবনতি,
- জন্ডিস, হেপাটাইটিস
- বা সারা শরীরে চুলকানি।
নিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কেবলমাত্র চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।
নতুন ধরনের বা দীর্ঘস্থায়ী তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন দেখা দিলে চিকিৎসা বন্ধ করে কারণ নির্ণয় করতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে তাদের কার্বোহাইড্রেট বিপাক পরিবর্তনের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। উচ্চ ঝুঁকির রোগীরা শুধুমাত্র কঠোর চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসা নিতে পারেন। নতুন বা নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
মাত্রাধিকত্যা
এই ট্যাবলেটের অতিমাত্রা সেবনের কোনো রিপোর্ট নেই। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। চিকিৎসা হবে উপসর্গভিত্তিক এবং উপাদানগুলোর ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব অনুযায়ী সাপোর্টিভ।
থেরাপিউটিক ক্লাস
মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক প্রস্তুতি, ব্রণ চিকিৎসার জন্য ওরাল হরমোনাল প্রস্তুতি
সংরক্ষণ
৩০°সে. এর নিচে শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। আলো থেকে রক্ষা করতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
Cyproterone Acetate + Ethinyl Estradiol কিসের ওষুধ ?
Cyproterone Acetate + Ethinyl Estradiol এর কাজ কি?
Cyproterone Acetate + Ethinyl Estradiol এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
Cyproterone Acetate + Ethinyl Estradiol বেশি খেলে কি হয় ?
গর্ভাবস্থায় Cyproterone Acetate + Ethinyl Estradiol খাওয়া যাবে কি?
No available drugs found