Loading...

ডাইনোজেস্ট + এস্ট্রাডিওল ভ্যালিরেট

Generic Medicine
নির্দেশনা

এটি ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত

  • পোস্ট-মেনোপজাল উপসর্গ উপশমের জন্য নির্দেশিত, যার মধ্যে রয়েছে হট ফ্ল্যাশ এবং যোনি শুষ্কতা।
  • এটি সেই নারীদের জন্যও নির্দেশিত, যারা আসন্ন মেনোপজের কারণে মাঝে মাঝে পুনরায় দেখা দেওয়া মাসিক রক্তপাত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে চান।
  • এছাড়াও এটি এমন নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, যাদের মেনোপজজনিত উপসর্গ দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাঘাত ঘটায়।
ফার্মাকোলজি

এটি একটি অ্যান্টিএন্ড্রোজেনিক জেস্টাজেন এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে দুটি নারীর হরমোন রয়েছে—একটি ইস্ট্রোজেন এবং একটি প্রোজেস্টোজেন। এটি এমন পোস্টমেনোপজাল নারীদের জন্য ব্যবহৃত হয় যাদের শেষ স্বাভাবিক মাসিকের পর অন্তত ১২ মাস পার হয়েছে এবং যাদের জরায়ু অক্ষত রয়েছে। এর সক্রিয় উপাদান estradiol valerate এবং dienogest একসাথে কাজ করে মেনোপজ-পরবর্তী উপসর্গ যেমন হট ফ্ল্যাশ, যোনি শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া কমায়।

ইস্ট্রোজেন শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন (গোনাডোট্রপিন, লুটিনাইজিং হরমোন, ফোলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন) নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত, যা মেনোপজের পর বৃদ্ধি পায়। ইস্ট্রোজেন এই হরমোনের মাত্রা কমিয়ে উপসর্গ উপশম করে। Dienogest একটি প্রোজেস্টিন যা প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে এন্ডোমেট্রিয়ামের সিক্রেটরি ফাংশন পরিবর্তন করে এবং এন্ডোমেট্রিয়াল প্রোলিফারেশন থেকে সুরক্ষা দেয়। এই দুই উপাদানের সমন্বয়ে সিকোয়েনশিয়াল হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে দেখা যাওয়া পুনরায় মাসিক রক্তপাত প্রতিরোধ করা যায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রতিদিন একই সময়ে একটি ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে ব্লিস্টার প্যাক থেকে। প্রতিটি ব্লিস্টার প্যাকে ২৮ দিনের চিকিৎসার জন্য ট্যাবলেট থাকে। এটি শুধুমাত্র মুখে (oral) গ্রহণের জন্য। ট্যাবলেটটি কিছু তরল দিয়ে সম্পূর্ণভাবে গিলে খেতে হবে। চিকিৎসা ধারাবাহিকভাবে চলবে, অর্থাৎ কোনো বিরতি ছাড়াই পরবর্তী প্যাকটি শুরু করতে হবে। ট্যাবলেট প্রতিদিন সম্ভব হলে একই সময়ে গ্রহণ করা উচিত। যদি কোনো ট্যাবলেট ভুলে যান, তবে যত দ্রুত সম্ভব তা গ্রহণ করতে হবে। যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত কোনো ট্যাবলেট গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। যদি একাধিক ট্যাবলেট মিস হয়, তবে রক্তপাত (bleeding) হতে পারে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

কিছু ওষুধ এই ট্যাবলেটের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে অনিয়মিত রক্তপাত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • মৃগী রোগের ওষুধ (যেমন phenobarbital, phenytoin, carbamazepine)
  • যক্ষ্মার ওষুধ (যেমন rifampicin, rifabutin)
  • HIV সংক্রমণের ওষুধ (যেমন nevirapine, efavirenz, ritonavir, nelfinavir)
  • সেন্ট জন’স ওয়ার্ট (Hypericum perforatum) যুক্ত হারবাল ওষুধ
প্রতিনির্দেশনা

এই ওষুধ নিচের অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না:

  • স্তন ক্যান্সার আছে বা সন্দেহ করা হয়
  • ইস্ট্রোজেন-নির্ভর ক্যান্সার (যেমন এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার) আছে বা সন্দেহ
  • অজানা কারণে যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত
  • চিকিৎসাহীন এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লাসিয়া
  • পূর্বে বা বর্তমানে শিরায় রক্ত জমাট (deep vein thrombosis, pulmonary embolism)
  • বর্তমানে বা সম্প্রতি ধমনীতে রক্ত জমাটজনিত রোগ (যেমন angina, myocardial infarction)
  • রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (যেমন protein C, protein S বা antithrombin ঘাটতি)
  • তীব্র লিভার রোগ বা লিভার ফাংশন স্বাভাবিক না হওয়া
  • পোরফাইরিয়া
  • ওষুধের উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

HRT ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে নিচের সমস্যাগুলো HRT না ব্যবহারকারীদের তুলনায় বেশি দেখা যায়: স্তন ক্যান্সার, জরায়ুর আস্তরণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ক্যান্সার (এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লাসিয়া বা ক্যান্সার), ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, পায়ের বা ফুসফুসের শিরায় রক্ত জমাট (ভেনাস থ্রম্বোএম্বোলিজম), হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ৬৫ বছরের পরে HRT শুরু করলে সম্ভাব্য স্মৃতিশক্তি হ্রাস।

সর্বাধিক সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: অপ্রত্যাশিত মাসিকের মতো রক্তপাত, স্তনে ব্যথা বা সংবেদনশীলতা।
চিকিৎসার প্রথম কয়েক মাসে এ ধরনের রক্তপাত হতে পারে। সাধারণত এটি অস্থায়ী এবং চিকিৎসা চালিয়ে গেলে নিজে থেকেই কমে যায়। না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রতি ১০০ জনে ১–১০ জন):

  • মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, মাথা ঘোরা
  • ক্লান্তি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা
  • উচ্চ রক্তচাপ বা বিদ্যমান উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
  • বমিভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া
  • গামা জিটি (লিভার এনজাইম) বৃদ্ধি, জরায়ুর আস্তরণ মোটা হওয়া, যৌনাঙ্গে প্রদাহ
  • স্তন ফুলে যাওয়া, হট ফ্ল্যাশ, শরীরের ওজন পরিবর্তন
  • থ্রাশ (ছত্রাক সংক্রমণ)

কম সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রতি ১০০০ জনে ১–১০ জন):

  • অনিদ্রা, নার্ভাসনেস
  • শিরায় প্রদাহ, রক্ত জমাট (পায়ে ব্যথা), শিরায় ব্যথা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, চুল পড়া
  • ত্বকের সমস্যা (র‍্যাশ, একজিমা, ব্রণের মতো সমস্যা)
  • যোনিপথের স্রাবের পরিবর্তন
  • স্তনে গাঁট/গুটি (ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন), অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, পায়ে পানি জমা
  • রক্তের চর্বির পরিবর্তন, রক্তে শর্করা বৃদ্ধি, যৌন ইচ্ছার পরিবর্তন
  • পেশিতে খিঁচুনি, রক্তস্বল্পতা

দুর্লভ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রতি ১০,০০০ জনে ১–১০ জন): বিষণ্নতা, দৃষ্টির সমস্যা, হৃদকম্পন, বদহজম, লিভার এনজাইমের অস্বাভাবিকতা, ফাইব্রয়েড বড় হওয়া, ক্ষুধা বৃদ্ধি।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

এই ওষুধটি শুধুমাত্র মেনোপজ পরবর্তী নারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। গর্ভধারণ হলে ওষুধ বন্ধ করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি আপনি স্তন্যদানকারী মা হন, তবে ওষুধ বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

সতর্কতা

চিকিৎসা শুরুর আগে যদি আপনার নিচের কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে চিকিৎসার সময় তা পুনরায় দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে। এমন ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও চেকআপ প্রয়োজন:

জরায়ুর ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস, এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লাসিয়া, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি, ইস্ট্রোজেন-নির্ভর টিউমারের ঝুঁকি (যেমন স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস), উচ্চ রক্তচাপ, যকৃতের রোগ (যেমন বিনাইন লিভার টিউমার), ডায়াবেটিস, পিত্তথলির পাথর, মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা, সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাস, মৃগী রোগ, হাঁপানি, অটোস্ক্লেরোসিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকা, হৃদপিণ্ড বা কিডনির সমস্যার কারণে শরীরে পানি জমা, বংশগত অ্যাঞ্জিওএডিমা (ইস্ট্রোজেনযুক্ত ওষুধে উপসর্গ বাড়তে পারে)।

মুখ, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া, গিলতে সমস্যা, বা শ্বাসকষ্টসহ চুলকানি (হাইভস) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

নিচের লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন: জন্ডিস বা লিভারের সমস্যা বৃদ্ধি, রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, নতুন ধরনের মাইগ্রেন মাথাব্যথা, গর্ভধারণ। এছাড়া রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ যেমন পায়ে ব্যথা ও লালচে ফোলা, হঠাৎ বুক ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।

HRT এবং ক্যান্সার জরায়ুর আস্তরণ অস্বাভাবিকভাবে মোটা হওয়া (এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লাসিয়া) এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকতে পারে। ইস্ট্রোজেন-শুধু HRT এই ঝুঁকি বাড়ায়, তবে এই ওষুধে থাকা প্রোজেস্টোজেন এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

অনিয়মিত রক্তপাত চিকিৎসার প্রথম ৩–৬ মাসে অনিয়মিত রক্তপাত বা স্পটিং হতে পারে। যদি ৬ মাসের পরও চলতে থাকে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্তন ক্যান্সার ইস্ট্রোজেন-প্রোজেস্টোজেন HRT এবং সম্ভবত ইস্ট্রোজেন-শুধু HRT স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই ঝুঁকি ব্যবহারের সময়ের ওপর নির্ভর করে এবং কয়েক বছরের মধ্যে দেখা দিতে পারে। তবে বন্ধ করার ৫ বছরের মধ্যে ঝুঁকি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।

রক্ত জমাট (থ্রম্বোসিস)

  •  HRT ব্যবহারকারীদের মধ্যে শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি ১.৩ থেকে ৩ গুণ বেশি, বিশেষ করে প্রথম বছরে। এটি গুরুতর হতে পারে এবং ফুসফুসে গেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
  • নিচের অবস্থায় চিকিৎসককে জানাতে হবে: দীর্ঘ সময় অচল থাকা, অতিরিক্ত ওজন (BMI >30), রক্ত জমাটের রোগ, পারিবারিক ইতিহাস, SLE, বা ক্যান্সার।

হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক) HRT হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে—এমন প্রমাণ নেই। ৬০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে HRT ব্যবহার করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

স্ট্রোক HRT ব্যবহারকারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১.৫ গুণ বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

মাত্রাধিকত্যা

গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ করলেও সাধারণত গুরুতর বিষক্রিয়া হয় না। তবে বমি বমি ভাব, বমি এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তপাত হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই।

থেরাপিউটিক ক্লাস

মেনোপজের উপসর্গের ওষুধ: হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT), নারী যৌন হরমোন।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ডাইনোজেস্ট + এস্ট্রাডিওল ভ্যালিরেট কিসের ওষুধ ?

ডাইনোজেস্ট + এস্ট্রাডিওল ভ্যালিরেট এর কাজ কি?

ডাইনোজেস্ট + এস্ট্রাডিওল ভ্যালিরেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

ডাইনোজেস্ট + এস্ট্রাডিওল ভ্যালিরেট বেশি খেলে কি হয় ?

ডাইনোজেস্ট + এস্ট্রাডিওল ভ্যালিরেট কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?

No available drugs found

  View in English