ট্রপিকামাইড স্টেরাইল আই ড্রপ চোখের মণি প্রসারিত (বড়) করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে ডাক্তার চোখের পেছনের অংশ দেখতে পারেন। এটি সাইক্লোপ্লেজিক রিফ্র্যাকশন এবং চোখের ফান্ডাস পরীক্ষার মতো চক্ষু পরীক্ষার আগে ব্যবহার করা হয়।
ট্রপিকামাইড আই ড্রপ চোখের অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ট্রপিকামাইড
Generic Medicineনির্দেশনা
ফার্মাকোলজি
ট্রপিকামাইড, যা গঠনগতভাবে কিছুটা অ্যাট্রোপিনের সাথে সম্পর্কিত, প্যারাসিমপ্যাথেটিক সিস্টেমকে অবশ করে মাইড্রিয়াসিস ও সাইক্লোপ্লেজিয়া সৃষ্টি করে। ট্রপিকামাইড একটি প্যারাসিমপ্যাথোলাইটিক এজেন্ট, যা প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে কাজ করে। যেহেতু অ্যাসিটাইলকোলিন প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের রিসেপ্টর সাইটে নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে, তাই ট্রপিকামাইড রিসেপ্টর সাইটে অ্যাসিটাইলকোলিনের সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং এর কার্যকারিতা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ডাইলেটর পিউপিলি পেশির অবাধ কার্যকারিতার কারণে মাইড্রিয়াসিস এবং সাইক্লোপ্লেজিয়া সৃষ্টি হয়।
ট্রপিকামাইড ৫ মিনিটের মধ্যে চোখের মণি দৃশ্যমানভাবে প্রসারিত করে। এটি ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রসারণে পৌঁছে এবং প্রায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এর কার্যকারিতা দ্রুত শুরু হয়, তবে শেষবার ড্রপ প্রয়োগের ৪৫-৬০ মিনিট পরে এর প্রভাব চলে যায়। তাই রেটিনোস্কপির জন্য সর্বোত্তম সময় হলো শেষ ড্রপ প্রয়োগের প্রায় ২০ মিনিট পরে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রিফ্র্যাকশনের জন্য: চোখে ১ অথবা ২ ফোঁটা প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ৫ মিনিট পর পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে। রোগীকে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা না করা হলে মাইড্রিয়াটিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য অতিরিক্ত ১ ফোঁটা প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ফান্ডাস পরীক্ষার জন্য: পরীক্ষার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পূর্বে চোখে ১ ফোঁটা প্রয়োগ করতে হবে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অ্যাট্রোপিন সদৃশ ওষুধ, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, বিভিন্ন H1 অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ, পারকিনসন রোগের ওষুধ, ফেনোথিয়াজিন এবং নিউরোলেপটিক ওষুধ একসাথে ব্যবহার করলে ট্রপিকামাইডের প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লকোমা বা ওষুধের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
চোখে ফেলার পর অল্প সময়ের জন্য জ্বালাপোড়া অনুভূতি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তন, মানসিক অস্বাভাবিকতা এবং বিরল ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি গাড়ি চালানো বা যন্ত্র পরিচালনার সক্ষমতা কমাতে পারে। অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে চোখের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি, অ্যালার্জি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং মাথাব্যথা অন্তর্ভুক্ত।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C। গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে ট্রপিকামাইড ব্যবহার করা উচিত। এটি মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা জানা যায়নি। যেহেতু অনেক ওষুধ দুধের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়, তাই স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
সতর্কতা
প্রয়োজন হলে পরীক্ষার পর মিওটিক অ্যান্টিডোট ব্যবহার করা যেতে পারে। সিস্টেমিক শোষণ কমাতে চোখে ফেলার পর ২–৩ মিনিট চোখের অশ্রুনালী চাপ দিয়ে বন্ধ রাখতে হবে। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মাইড্রিয়াটিক ও সাইক্লোপ্লেজিক ওষুধ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাধিকত্যা
অতিরিক্ত মাত্রার লক্ষণ হিসেবে মুখ লাল হয়ে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম কমে যাওয়া এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হতে পারে। দুর্ঘটনাবশত খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রয়োজনে মিওটিক ওষুধ দিয়ে এর প্রভাব প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
মাইড্রিয়াটিক এবং সাইক্লোপ্লেজিক এজেন্ট
সংরক্ষণ
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন এবং আলো থেকে দূরে রাখুন। বোতল খোলার পর এক মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।
সাধারণ প্রশ্ন
ট্রপিকামাইড কিসের ওষুধ?
ট্রপিকামাইড এর কাজ কি?
ট্রপিকামাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
ট্রপিকামাইড বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় ট্রপিকামাইড খাওয়া যাবে কি?