Loading...

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড

Generic Medicine
নির্দেশনা

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার (যেমন আইডিওপ্যাথিক বা নিউরোলজিক ডিট্রুসর ওভারঅ্যাকটিভিটি) রোগীদের মধ্যে ইউরজ ইনকন্টিনেন্স (প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা), প্রস্রাবের ঘন ঘন হওয়া এবং তাড়াহুড়ো অনুভূতির উপসর্গমূলক চিকিৎসায় নির্দেশিত।

ফার্মাকোলজি

Trospium একটি মুসকারিনিক অ্যান্টাগনিস্ট। Trospium chloride ব্লাডারসহ কোলিনার্জিক স্নায়ুযুক্ত অঙ্গসমূহে অ্যাসিটাইলকোলিনের মুসকারিনিক রিসেপ্টরের কার্যকারিতা বাধা দেয়। এর প্যারাসিমপ্যাথোলাইটিক প্রভাব মূত্রথলির স্মুথ মাসলের টোন কমিয়ে দেয়। রিসেপ্টর স্টাডিতে দেখা গেছে, থেরাপিউটিক ডোজে ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইডের নিকোটিনিক রিসেপ্টরের প্রতি আকর্ষণ খুবই কম, কিন্তু এটি মুসকারিনিক রিসেপ্টরের উপর বেশি কার্যকর।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সাধারণ ডোজ: ২০ মি.গ্রা. Trospium Chloride ট্যাবলেট দিনে ২ বার গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়মিতভাবে প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর মূল্যায়ন করতে হবে। ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেটটি সম্পূর্ণভাবে এক গ্লাস পানি দিয়ে খালি পেটে, বিশেষ করে খাবারের আগে গ্রহণ করতে হবে।

রেনাল ইম্পেয়ারমেন্ট: গুরুতর কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে (CrCl <30 mL/min) সুপারিশকৃত ডোজ হলো ২০ মি.গ্রা. দিনে ১ বার, রাতে শোয়ার আগে।

জেরিয়াট্রিক রোগী: ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সের রোগীদের ক্ষেত্রে সহনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ডোজ কমিয়ে দিনে ১ বার ২০ মি.গ্রা. দেওয়া যেতে পারে।

পেডিয়াট্রিক ব্যবহার: ১২ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে Trospium Chloride ২০ মি.গ্রা. ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেটের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোনো তথ্য উপলব্ধ নেই।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ফার্মাকোডাইনামিক ইন্টারঅ্যাকশন: নিম্নলিখিত সম্ভাব্য ইন্টারঅ্যাকশন হতে পারে:

  • অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধের (যেমন অ্যামান্টাডিন, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট) প্রভাব বৃদ্ধি
  • ß-সিমপ্যাথোমিমেটিক ওষুধের ট্যাকার্ডিয়া (হার্টবিট বৃদ্ধি) প্রভাব বৃদ্ধি
  • প্রোকাইনেটিক ওষুধের (যেমন মেটোক্লোপ্রামাইড) কার্যকারিতা হ্রাস

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড যেহেতু গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল মুভমেন্ট ও সিক্রেশন প্রভাবিত করতে পারে, তাই একসাথে ব্যবহৃত অন্যান্য ওষুধের শোষণ পরিবর্তিত হতে পারে।

ফার্মাকোকিনেটিক ইন্টারঅ্যাকশন: গুয়ার, কোলেস্টাইরামিন এবং কোলেস্টিপল ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইডের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে, তাই একসাথে ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না। সাইটোক্রোম P450 এনজাইম (1A2, 2A6, 2C9, 2C19, 2D6, 2E1, 3A4)-এর উপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড খুব অল্প পরিমাণে বিপাক হয়, তাই উল্লেখযোগ্য মেটাবলিক ইন্টারঅ্যাকশনের সম্ভাবনা নেই। ডিগক্সিনের ফার্মাকোকিনেটিক্সে প্রভাব না ফেললেও, অ্যাক্টিভ টিউবুলার সিক্রেশনের মাধ্যমে নিঃসৃত অন্যান্য ওষুধের সাথে ইন্টারঅ্যাকশন পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না।

প্রতিনির্দেশনা

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ: ইউরিনারি রিটেনশন (প্রস্রাব আটকে থাকা), গুরুতর গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ (টক্সিক মেগাকোলনসহ), মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা ,ট্যাকার্ডিয়া সহ অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (ট্যাকারিথমিয়া)। এছাড়াও ওষুধের উপাদান বা সহায়ক উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো:

  • গ্যাস্ট্রাইটিস
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকার্ডিয়া, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, উচ্চ রক্তচাপজনিত সংকট
  • স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম, অ্যানাফাইল্যাকটিক প্রতিক্রিয়া, অ্যাঞ্জিওএডিমা
  • মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, হ্যালুসিনেশন, ঘুমঘুম ভাব, ডেলিরিয়াম
  • র‍্যাবডোমায়োলাইসিস (পেশী ভাঙন)
  • ত্বকে র‍্যাশ
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রাণী পরীক্ষায় গর্ভাবস্থা, ভ্রূণের বিকাশ বা জন্ম পরবর্তী বিকাশে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি। প্রাণীতে প্লাসেন্টা অতিক্রম ও মাতৃদুগ্ধে নিঃসরণ দেখা গেছে। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল তথ্য নেই, তাই সতর্কতা প্রয়োজন।

সতর্কতা

নিম্নলিখিত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে:

  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বাধা (যেমন পাইলোরিক স্টেনোসিস)
  • প্রস্রাবের বাধা বা ইউরিনারি রিটেনশনের ঝুঁকি
  • অটোনমিক নিউরোপ্যাথি
  • হাইটাস হার্নিয়া সহ রিফ্লাক্স ইসোফ্যাজাইটিস
  • যেসব ক্ষেত্রে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া ক্ষতিকর (হাইপারথাইরয়েডিজম, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর)

যকৃতের গুরুতর সমস্যায় ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না; হালকা থেকে মাঝারি ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
কিডনির গুরুতর সমস্যায় রক্তে ওষুধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, তাই সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসা শুরুর আগে প্রস্রাবজনিত সমস্যার অন্যান্য কারণ (ইনফেকশন, টিউমার, হার্ট বা কিডনি রোগ) বাদ দিতে হবে।

মাত্রাধিকত্যা

অতিরিক্ত মাত্রার লক্ষণ হতে পারে: মুখ শুষ্ক হওয়া, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবজনিত সমস্যা। গুরুতর বিষক্রিয়া এখনো রিপোর্ট হয়নি।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা:

  • পাকস্থলী পরিষ্কার ও অ্যাক্টিভেটেড চারকোল
  • গ্লুকোমার ক্ষেত্রে পাইলোকার্পিন
  • ইউরিনারি রিটেনশনে ক্যাথেটার
  • গুরুতর ক্ষেত্রে প্যারাসিমপ্যাথোমিমেটিক ওষুধ (যেমন নিওস্টিগমিন)
  • গুরুতর ট্যাকার্ডিয়া বা রক্তসঞ্চালন সমস্যা হলে বিটা-ব্লকার
থেরাপিউটিক ক্লাস

অন্যান্য জেনিটো-ইউরিনারি প্রস্তুতি

সংরক্ষণ

৩০°C-এর নিচে শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড কিসের ওষুধ?

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড এর কাজ কি?

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড বেশি খেলে কি হয়?

ট্রোস্পিয়াম ক্লোরাইড কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?

Tablet
Trospi
Tablet
20 mg
UniMed UniHealth Pharmaceuticals Ltd.
Unit Price: ৳ 9.00
  View in English