Loading...

ক্লোপিডোগ্রেল + অ্যাসপিরিন

Generic Medicine
নির্দেশনা

অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (ACS): এই কম্বিনেশনটি নন-ST সেগমেন্ট এলিভেশন ACS (যেমন unstable angina ও NSTEMI) এবং ST সেগমেন্ট এলিভেশন MI (STEMI) রোগীদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (MI) ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়।

সাম্প্রতিক MI, স্ট্রোক বা প্রতিষ্ঠিত পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ: যেসব রোগীর সাম্প্রতিক MI বা স্ট্রোকের ইতিহাস আছে অথবা পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে MI ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এই ওষুধ ব্যবহৃত হয়।

 

ফার্মাকোলজি

ক্লোপিডোগ্রেল একটি প্রোড্রাগ, যা প্লেটলেটের P2Y12 ADP রিসেপ্টরের সাথে অপরিবর্তনীয়ভাবে যুক্ত হয়ে প্লেটলেট অ্যাক্টিভেশন ও অ্যাগ্রেগেশন বন্ধ করে। একবার মুখে গ্রহণের প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে এর প্রভাব শুরু হয়। প্রতিদিন ৭৫ মি.গ্রা. করে গ্রহণ করলে প্রথম দিন থেকেই কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং ৩–৭ দিনের মধ্যে স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে।

অ্যাসপিরিন সাইক্লোঅক্সিজেনেজ (COX) এনজাইমকে অপরিবর্তনীয়ভাবে বাধা দিয়ে থ্রম্বক্সেন A2 উৎপাদন কমায়, যা প্লেটলেট অ্যাগ্রেগেশন ও ভাসোকনস্ট্রিকশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ফার্মাকোকাইনেটিকস: প্রতিদিন ৭৫ মি.গ্রা. ক্লোপিডোগ্রেল গ্রহণের পর মূল ওষুধের প্লাজমা মাত্রা খুব কম থাকে এবং ২ ঘণ্টার মধ্যে পরিমাপযোগ্য সীমার নিচে নেমে যায়। এটি লিভারে ব্যাপকভাবে মেটাবোলাইজ হয়। প্রধান মেটাবোলাইট একটি নিষ্ক্রিয় কার্বক্সিলিক অ্যাসিড ডেরিভেটিভ, যা মোট সঞ্চালিত যৌগের প্রায় ৮৫%। প্রায় ৫০% মেটাবোলাইট প্রস্রাবের মাধ্যমে এবং ৪৬% মল দ্বারা ৫ দিনের মধ্যে নির্গত হয়। এর হাফ-লাইফ প্রায় ৮ ঘণ্টা। খাদ্য গ্রহণে এর বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

শোষণ ও বণ্টন: ক্লোপিডোগ্রেল মুখে গ্রহণের পর দ্রুত শোষিত হয় এবং প্রায় ১ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাজমা মাত্রায় পৌঁছায়। ৫০–১৫০ মি.গ্রা. ডোজের মধ্যে প্লাজমা কনসেন্ট্রেশন ডোজ অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়। প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গমনের ভিত্তিতে কমপক্ষে ৫০% শোষণ নিশ্চিত হয়। ক্লোপিডোগ্রেল ও এর প্রধান মেটাবোলাইট উচ্চমাত্রায় প্রোটিনের সাথে আবদ্ধ থাকে (৯৮% ও ৯৪%)।

মেটাবোলিজম ও নির্গমন: ক্লোপিডোগ্রেল দ্রুত হাইড্রোলাইসিসের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় কার্বক্সিলিক অ্যাসিড ডেরিভেটিভে রূপান্তরিত হয়। এর গ্লুকুরোনাইড রূপ প্লাজমা ও প্রস্রাবে পাওয়া যায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Clopidogrel-এর প্রস্তাবিত ডোজ হলো প্রতিদিন একবার ৭৫ মি.গ্রা., খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াই গ্রহণ করা যায়। বয়স্ক রোগী বা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। তীব্র করোনারি সিন্ড্রোম (unstable angina/non-Q-wave MI) রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথমে ৩০০ মি.গ্রা. এককালীন লোডিং ডোজ দিয়ে শুরু করতে হবে এবং এরপর প্রতিদিন একবার ৭৫ মি.গ্রা. চালিয়ে যেতে হবে। Aspirin (প্রতিদিন ৭৫ মি.গ্রা.-৩২৫ মি.গ্রা.) Clopidogrel-এর সাথে একত্রে শুরু ও চালিয়ে যেতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে তীব্র করোনারি সিন্ড্রোমে অধিকাংশ রোগীকেই তাত্ক্ষণিকভাবে heparin দেওয়া হয়েছে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

এই কম্বিনেশনটির সাথে অন্যান্য ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে:

অ্যাসপিরিন: অ্যাসপিরিন ক্লোপিডোগ্রেলের ADP-নির্ভর প্লেটলেট ইনহিবিশনে প্রভাব ফেলে না, তবে ক্লোপিডোগ্রেল অ্যাসপিরিনের কোলাজেন-নির্ভর প্লেটলেট ইনহিবিশন বাড়ায়।

হেপারিন: ক্লোপিডোগ্রেল হেপারিনের ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন করে না এবং হেপারিনের কোয়াগুলেশন প্রভাবেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে না। তবে একসাথে ব্যবহার করলে প্লেটলেট ইনহিবিশন বৃদ্ধি পেতে পারে।

NSAIDs: NSAIDs-এর সাথে ব্যবহার করলে গোপন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

ওয়ারফারিন: ওয়ারফারিনের সাথে একত্রে ব্যবহারের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর ওষুধের কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে অথবা সক্রিয় রোগজনিত রক্তক্ষরণ (যেমন পেপটিক আলসার বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

এই কম্বিনেশনটি সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। প্রয়োজন হলে প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। ক্লোপিডোগ্রেল মায়ের দুধে নিঃসৃত হয় কিনা জানা যায়নি, তবে অ্যাসপিরিন দুধে নিঃসৃত হয়। তাই চিকিৎসাকালীন সময়ে দুগ্ধদান বন্ধ রাখা উচিত।

সতর্কতা

এই ওষুধ রক্তক্ষরণের সময় বাড়াতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে থ্রম্বোটিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পুরপুরা (TTP) দেখা গেছে। ভাইরাল সংক্রমণ বা ফ্লু-জাতীয় উপসর্গে রেয়েস সিনড্রোমের ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া র‍্যাশ, অ্যাঞ্জিওএডিমা এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যাসহ অতিসংবেদনশীলতার প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে যাদের থিয়েনোপাইরিডিনে অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

এই ওষুধ সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ১২ বছরের নিচে, ব্যবহার করা উচিত নয় যদি না উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। অ্যাসপিরিন শিশুদের মধ্যে রেয়েস সিনড্রোমের কারণ হতে পারে।

মাত্রাধিকত্যা

ওভারডোজে প্লেটলেট অ্যাগ্রেগেশন কমে যাওয়ার কারণে রক্তক্ষরণের সময় বেড়ে যেতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, বমি বমি ভাব, বমি এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যা থাকতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, শ্বাস বা রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা এবং কিডনি বিকলতা হতে পারে। চিকিৎসায় সাপোর্টিভ কেয়ার, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে প্লেটলেট ট্রান্সফিউশন বা ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ

সংরক্ষণ

৩০°সে-এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ক্লোপিডোগ্রেল + অ্যাসপিরিন কী?

 ক্লোপিডোগ্রেল + অ্যাসপিরিন কীভাবে কাজ করে?

 ক্লোপিডোগ্রেল + অ্যাসপিরিন কেন ব্যবহার করা হয়?

ক্লোপিডোগ্রেল + অ্যাসপিরিন কীভাবে সংরক্ষণ করব?

শিশুদের ক্ষেত্রে ক্লোপিডোগ্রেল + অ্যাসপিরিন ব্যবহার করা যাবে কি?

No available drugs found

  View in English