টেইকোপ্লানিন শিরায় (বোলাস ইনজেকশন বা ইনফিউশন হিসেবে) অথবা পেশীতে প্রয়োগ করা যেতে পারে। শিরায় ইনজেকশন ৩ থেকে ৫ মিনিটে বোলাস আকারে অথবা ৩০ মিনিটব্যাপী ইনফিউশন হিসেবে দিতে হবে। নবজাতকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইনফিউশন পদ্ধতিই ব্যবহার করতে হবে। এক বা একাধিক লোডিং ডোজ দেওয়ার পর এটি দিনে একবার প্রয়োগ করতে হবে। সংক্রমণের তীব্রতা এবং চিকিৎসায় রোগীর সাড়ার ওপর ভিত্তি করে টেইকোপ্লানিনের ডোজ নির্ধারণ করতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে (স্বাভাবিক কিডনি কার্যকারিতা):
- প্রথম দিনে শিরায় ৬ মি.গ্রা./কেজি (সাধারণত ৪০০ মি.গ্রা.) ডোজ সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে ডোজ হতে পারে শিরায় ৬ মি.গ্রা./কেজি/দিন (সাধারণত ৪০০ মি.গ্রা.) অথবা শিরায় বা পেশীতে ৩ মি.গ্রা./কেজি/দিন (সাধারণত ২০০ মি.গ্রা.) একক দৈনিক ডোজ হিসেবে। গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ডোজ এবং শিরায় প্রয়োগের পথ সুপারিশ করা হয়।
- জীবন-সংশয়ী সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরু করতে হবে ৬ মি.গ্রা./কেজি (সাধারণত ৪০০ মি.গ্রা.) দিনে ২ বার, ১ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত (লোডিং ডোজ), এবং পরবর্তী দিনগুলোতে শিরায় ৬ মি.গ্রা./কেজি/দিন (মেইনটেন্যান্স ডোজ) চালিয়ে যেতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে (কিডনি বিকলতা): কিডনি বিকলতা আছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার ৪র্থ দিন থেকে নিচের মতো ডোজ সমন্বয় করতে হবে:
- মধ্যম মাত্রার কিডনি বিকলতা (ক্রিয়াটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৪০ থেকে ৬০ মি.লি./মিনিট) থাকলে টেইকোপ্লানিনের দৈনিক ডোজ অর্ধেক করতে হবে অথবা এক দিন পর পর দিতে হবে।
- তীব্র কিডনি বিকলতা (ক্রিয়াটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৪০ মি.লি./মিনিটের কম) এবং হেমোডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে টেইকোপ্লানিনের দৈনিক ডোজ এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে দিতে হবে, অথবা প্রতি ৩ দিন পর পর দিতে হবে।
- যদি ক্রিয়াটিনিন ক্লিয়ারেন্স ২০ মি.লি./মিনিট বা তার কম হয়, তাহলে রক্তে ওষুধের মাত্রা পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে তবেই টেইকোপ্লানিন দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে (স্বাভাবিক কিডনি কার্যকারিতা):
- শিশু (২ মাস থেকে ১২ বছর): চিকিৎসা শুরু করতে হবে ১০ মি.গ্রা./কেজি ডোজে প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর, মোট ৩টি ডোজ দিয়ে; এরপর ৬-১০ মি.গ্রা./কেজি/দিন ডোজে চালিয়ে যেতে হবে। সবচেয়ে গুরুতর সংক্রমণ বা নিউট্রোপেনিয়াযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ডোজ ব্যবহার করতে হবে।
- নবজাতক (২ মাস পর্যন্ত): চিকিৎসা শুরু করতে হবে প্রথম দিনে ১৬ মি.গ্রা./কেজি ডোজ দিয়ে, এরপর ধীরে শিরায় ইনফিউশন (প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী) দ্বারা ৮ মি.গ্রা./কেজি/দিন মেইনটেন্যান্স ডোজ দিতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে (কিডনি বিকলতা): প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই ডোজ সমন্বয় সুপারিশ করা হয়। চিকিৎসাকে যতটা সম্ভব কার্যকর করার জন্য রক্তে টেইকোপ্লানিনের মাত্রা পরিমাপ করা উপকারী হতে পারে।
Clostridium difficile সংক্রমণ-সংশ্লিষ্ট ডায়রিয়া: সুপারিশকৃত ডোজ হলো ১০০-২০০ মি.গ্রা., দিনে ২ বার, ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত।
যেসব সংক্রমণে সর্বোচ্চ ব্যাকটেরিয়ানাশক কার্যকারিতা প্রয়োজন বা যেসব পরিস্থিতিতে গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি উড়িয়ে দেওয়া যায় না (যেমন নিউট্রোপেনিয়াযুক্ত রোগীদের জ্বরে অভিজ্ঞতালব্ধ চিকিৎসা), সেসব ক্ষেত্রে টেইকোপ্লানিনের সাথে অন্য একটি উপযুক্ত ব্যাকটেরিয়ানাশক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া সুপারিশ করা হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই ওষুধের প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে চিকিৎসার মোট সময়কাল নির্ধারণ করা হয় সংক্রমণের ধরন, তীব্রতা এবং চিকিৎসায় রোগীর সাড়ার ভিত্তিতে। এন্ডোকার্ডাইটিস এবং অস্টিওমাইলাইটিসের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ সপ্তাহের চিকিৎসা সুপারিশ করা হয়।