Loading...

ফসফোমাইসিন সোডিয়াম

Generic Medicine
নির্দেশনা

ফসফোমাইসিন সোডিয়াম IV ইনফিউশন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু (নবজাতকসহ) রোগীদের নিম্নলিখিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়:

  • অস্টিওমাইলাইটিস
  • জটিল মূত্রনালীর সংক্রমণ
  • হাসপাতালে অর্জিত নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
  • ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস
  • উপরের সংক্রমণগুলোর সাথে সম্পর্কিত বা সন্দেহজনক ব্যাকটেরেমিয়া

ফসফোমাইসিন তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন প্রচলিত প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয়, অথবা বিকল্প চিকিৎসা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।

ফার্মাকোলজি

ফসফোমাইসিন সক্রিয়ভাবে বংশবিস্তারকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ানাশক প্রভাব প্রদর্শন করে, কারণ এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের এনজাইম-নির্ভর সংশ্লেষণ প্রতিরোধ করে। এটি পেপটিডোগ্লাইকান গঠন বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরির প্রথম ধাপকে প্রতিহত করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ফসফোমাইসিনের দৈনিক ডোজ নির্ধারণ করা হয় ব্যবহারের নির্দেশনা, সংক্রমণের তীব্রতা ও স্থান, জীবাণু/জীবাণুগুলোর ফসফোমাইসিনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং কিডনির কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডোজ নির্ধারণে বয়স ও শারীরিক ওজনও বিবেচনা করা হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী (>৪০ কেজি): ফসফোমাইসিন প্রধানত অপরিবর্তিত অবস্থায় কিডনির মাধ্যমে নির্গত হয়। যেসব প্রাপ্তবয়স্কের আনুমানিক ক্রিয়াটিনিন ক্লিয়ারেন্স >৮০ মি.লি./মিনিট, তাদের জন্য সাধারণ ডোজ নির্দেশনা নিম্নরূপ:

  • অস্টিওমাইলাইটিস: ১২-২৪ গ্রাম, ২-৩ বিভক্ত মাত্রায়
  • জটিল মূত্রনালীর সংক্রমণ: ১২-১৬ গ্রাম, ৩ বিভক্ত মাত্রায়
  • হাসপাতাল-অর্জিত নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ: ১২-২৪ গ্রাম, ২-৩ বিভক্ত মাত্রায়
  • ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস: ১৬-২৪ গ্রাম, ৩-৪ বিভক্ত মাত্রায়

প্রতিটি একক ডোজ ৮ গ্রাম অতিক্রম করা যাবে না। গুরুতর সংক্রমণ, যা কম সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট বলে জানা যায় বা সন্দেহ করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে ৩ বিভক্ত মাত্রায় উচ্চ-ডোজ রেজিমেন ব্যবহার করতে হবে। বিশেষত ১৬ গ্রাম/দিনের বেশি ডোজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সীমিত। এ ধরনের ডোজ নির্ধারণের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিডনি অকার্যকারিতায় ডোজ: সুপারিশকৃত মাত্রার উচ্চ সীমার ডোজ বিবেচনা করা হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেসব রোগীর কিডনির কার্যকারিতা কম, তাদের ক্ষেত্রে কিডনি অকার্যকারিতার মাত্রা অনুযায়ী ফসফোমাইসিনের ডোজ সমন্বয় করতে হবে।

লিভারের অকার্যকারিতা: লিভারের কার্যকারিতা কম থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন—এমন কোনো তথ্য নেই।

বয়স্ক রোগী: বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সুপারিশকৃত ডোজই ব্যবহার করতে হবে। তবে সুপারিশকৃত মাত্রার উচ্চ সীমার ডোজ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করলে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশু রোগী: ডোজ-সংক্রান্ত সুপারিশ খুব সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

নবজাতক, শিশু ও ১২ বছরের কম বয়সী বাচ্চা (<৪০ কেজি): শিশুদের ক্ষেত্রে ফসফোমাইসিনের ডোজ বয়স ও শারীরিক ওজন (BW)-এর ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে:

  • অপরিণত নবজাতক (বয়স <৪০ সপ্তাহ): ১০০ মি.গ্রা./কেজি BW, ২ বিভক্ত মাত্রায়
  • নবজাতক (বয়স ৪০-৪৪ সপ্তাহ): ২০০ মি.গ্রা./কেজি BW, ৩ বিভক্ত মাত্রায়
  • ১-১২ মাস বয়সী শিশু (১০ কেজি পর্যন্ত BW): ২০০-৩০০ b মি.গ্রা./কেজি BW, ৩ বিভক্ত মাত্রায়
  • ১-১২ বছর বয়সী শিশু (১০-৪০ কেজি BW): ২০০-৪০০ b মি.গ্রা./কেজি BW, ৩-৪ বিভক্ত মাত্রায়

প্রয়োগের পদ্ধতি: ফসফোমাইসিন সোডিয়াম শিরায় প্রয়োগের জন্য নির্ধারিত। ৪ গ্রাম প্যাক সাইজের ক্ষেত্রে ইনফিউশনের সময়কাল কমপক্ষে ৩০ মিনিট হতে হবে। শুধুমাত্র স্বচ্ছ দ্রবণ ব্যবহার করতে হবে।

ইনফিউশনের জন্য দ্রবণ প্রস্তুতি: ফসফোমাইসিন সোডিয়াম প্রয়োগের আগে অবশ্যই পুনর্গঠন ও পাতলা করতে হবে। পুনর্গঠন ও পাতলাকরণের জন্য Water for Injections এবং Glucose Infusion 50 mg/ml (5%) অথবা Glucose Infusion 100 mg/ml (10%) সলভেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। Sodium Chloride-যুক্ত সলভেন্ট ব্যবহার করা যাবে না।

পুনর্গঠন: পাউডার আলগা করার জন্য পুনর্গঠনের আগে ভায়ালটি ঝাঁকিয়ে নিন। ৪ গ্রাম ভায়াল ২০ মি.লি. সলভেন্ট দিয়ে পুনর্গঠন করুন। দ্রবীভূত করার জন্য ভালোভাবে ঝাঁকান। পাউডার দ্রবীভূত হওয়ার সময় সামান্য উষ্ণতা সৃষ্টি হয়।

পাতলাকরণ: পুনর্গঠিত ৪ গ্রাম ভায়ালের দ্রবণ আরও ৮০ মি.লি. সলভেন্টসহ একটি ইনফিউশন কন্টেইনারে স্থানান্তর করুন। প্রস্তুতকৃত ইনফিউশন দ্রবণটি স্বচ্ছ এবং বর্ণহীন থেকে হালকা হলদে বর্ণের হয়।

চিকিৎসার সময়কাল: চিকিৎসার সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন, সংক্রমণের তীব্রতা এবং চিকিৎসায় রোগীর ক্লিনিক্যাল সাড়া বিবেচনায় নিতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ফসফোমাইসিনের সাথে অন্য ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া নিয়ে কোনো drug-drug interaction study পরিচালিত হয়নি।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর সক্রিয় উপাদান ফসফোমাইসিন বা এর যেকোনো সহায়ক উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ফসফোমাইসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

চিকিৎসাকালীন সবচেয়ে বেশি রিপোর্টকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা এবং ইনজেকশন সাইটে প্রতিক্রিয়া। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে হাইপোক্যালেমিয়া এবং/অথবা হাইপারন্যাট্রেমিয়া।

সতর্কতা
  • ক্রস-রেজিস্ট্যান্সের সম্ভাব্য বিকাশ এড়ানোর জন্য ফসফোমাইসিনের সাথে অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক একত্রে ব্যবহার করাই উত্তম।
  • ফসফোমাইসিন ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত উচ্চ সোডিয়াম লোডের কারণে সিরাম বা প্লাজমায় পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে। চিকিৎসাকালীন কম-সোডিয়ামযুক্ত খাদ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে পটাশিয়াম প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার সময় সিরাম ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা এবং দেহের জলীয় ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে।কার্ডিয়াক ইনসাফিসিয়েন্সি, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপারঅ্যালডোস্টেরোনিজম, হাইপারন্যাট্রেমিয়া অথবা পালমোনারি ইডিমা আছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ফসফোমাইসিন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
  • অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে তীব্র এবং সম্ভাব্য জীবন-সংশয়ী অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া, যেমন অ্যানাফাইল্যাকটিক শক, হতে পারে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার প্রথম লক্ষণ দেখা দিলে, যেমন অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব বা সায়ানোসিস, সঙ্গে সঙ্গে ফসফোমাইসিন ইনফিউশন বন্ধ করতে হবে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন

গর্ভাবস্থায় ফসফোমাইসিন ব্যবহারের বিষয়ে কোনো ক্লিনিক্যাল তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সম্ভাব্য উপকার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ফসফোমাইসিন ব্যবহার করা উচিত নয়। ফসফোমাইসিন প্রয়োগের পর মানবদুগ্ধে অল্প পরিমাণ ফসফোমাইসিন পাওয়া গেছে। তাই সম্ভাব্য উপকার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে স্তন্যদানকালে ফসফোমাইসিন ব্যবহার করা উচিত নয়।

মাত্রাধিকত্যা

ফসফোমাইসিনের অতিরিক্ত মাত্রা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সীমিত। প্যারেন্টেরাল ব্যবহারের পর রিপোর্টকৃত ক্ষেত্রে হাইপোটোনিয়া, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া এবং হাইপোপ্রোথ্রোম্বিনেমিয়া দেখা গেছে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ইন্ট্রাসেলুলার অ্যান্টিবায়োটিক

সংরক্ষণ

৩০°সে.-এর নিচে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সলভেন্টের সাথে মিশ্রণের পর এই ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে হবে, অথবা ২°সে. থেকে ৮°সে. তাপমাত্রায় ফ্রিজে আলো থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন

Fosfomycin Sodium কিসের ঔষধ?

Fosfomycin Sodium কি হার্টের পক্ষে নিরাপদ?

Fosfomycin Sodium এর কাজ কি?

Fosfomycin Sodium ইনফিউশন কত সময় ধরে দিতে হয়?

অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে কি Fosfomycin Sodium ব্যবহার করা ভালো?

No available drugs found

  View in English