Loading...

সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড

Generic Medicine
নির্দেশনা

সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড একটি স্বল্পমেয়াদি ডিপোলারাইজিং নিউরোমাসকুলার ব্লকার, যা অ্যানেস্থেশিয়ায় মাংসপেশি শিথিল করতে ব্যবহৃত হয়:

  • এন্ডোট্র্যাকিয়াল ইনটিউবেশন সহজ করতে
  • মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে সহায়তা করতে
  • বিভিন্ন সার্জারি ও প্রসূতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় পেশী শিথিল রাখতে
ফার্মাকোলজি

সাক্সামেথোনিয়াম একটি ডিপোলারাইজিং মাসল রিল্যাক্সেন্ট, যা নিউরোমাসকুলার জংশনে অ্যাসিটাইলকোলিনের মতো কাজ করে। এটি পেশীর নিকোটিনিক রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে সোডিয়াম চ্যানেল খুলে দেয়, ফলে সোডিয়াম কোষে প্রবেশ করে। এর ফলে মোটর এন্ড প্লেট ডিপোলারাইজ হয় এবং সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে ক্যালসিয়াম বের হয়, যার ফলে প্রথমে পেশীতে ফ্যাসিকুলেশন (ক্ষুদ্র সংকোচন) দেখা যায়। অ্যাসিটাইলকোলিন দ্রুত ভেঙে গেলেও সাক্সামেথোনিয়াম ধীরে প্লাজমা কোলিনেস্টেরেজ দ্বারা ভাঙে, তাই এর প্রভাব বেশি সময় থাকে। এই কারণে পেশী কোষ পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না এবং নতুন সংকেত গ্রহণ করতে পারে না, ফলে পেশী শিথিল হয়ে যায় (ফ্ল্যাসিড প্যারালাইসিস)। ক্যালসিয়াম ধীরে ধীরে কোষে ফিরে গেলে পেশী সম্পূর্ণ শিথিল হয়, যা প্রথমের সংকোচনের পর শিথিলতার কারণ ব্যাখ্যা করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Suxamethonium Chloride সাধারণত IV (শিরায়) বা IM (পেশীতে) বোলাস ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক: ডোজ নির্ভর করে শরীরের ওজন, প্রয়োজনীয় মাংসপেশীর শিথিলতা, প্রয়োগের পদ্ধতি এবং রোগীর প্রতিক্রিয়ার উপর। এন্ডোট্র্যাকিয়াল ইন্টুবেশনের জন্য সাধারণত ১ মিগ্রা/কেজি IV দেওয়া হয়। এতে ৩০–৬০ সেকেন্ডে মাংসপেশী শিথিল হয় এবং কার্যকারিতা ২–৬ মিনিট স্থায়ী হয়। প্রয়োজনে ৫–১০ মিনিট অন্তর প্রাথমিক ডোজের ৫০–১০০% অতিরিক্ত ডোজ দিয়ে স্বল্প সময়ের অপারেশনে শিথিলতা বজায় রাখা যায়। দীর্ঘ অপারেশনের ক্ষেত্রে ০.১%–০.২% সলিউশন (৫% গ্লুকোজ বা আইসোটোনিক স্যালাইনে মিশিয়ে) ২.৫–৪ মিগ্রা/মিনিট হারে ইনফিউশন দেওয়া যায়। ইনফিউশন হার রোগীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে। মোট ডোজ প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ মিগ্রা অতিক্রম করা উচিত নয়।

শিশু: শিশু ও নবজাতকরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি প্রতিরোধী। নবজাতকের জন্য ২ মিগ্রা/কেজি IV এবং বড় শিশুদের জন্য ১ মিগ্রা/কেজি IV সুপারিশ করা হয়। ইনফিউশনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই তবে ওজন অনুযায়ী কম হার ব্যবহার করতে হবে। IM পথে নবজাতকের ক্ষেত্রে ৪–৫ মিগ্রা/কেজি এবং বড় শিশুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪ মিগ্রা/কেজি দেওয়া যায়। এতে প্রায় ৩ মিনিটে মাংসপেশী শিথিল হয়। মোট ডোজ ১৫০ মিগ্রা অতিক্রম করা উচিত নয়।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

কিছু ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ স্বাভাবিক প্লাজমা কোলিনেস্টেরেজ কার্যকলাপ কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে সাক্সামেথোনিয়ামের নিউরোমাসকুলার ব্লকিং প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাইমেটাফান; নির্দিষ্ট অ্যান্টিকোলিনেস্টেরেজ ওষুধ যেমন নিওস্টিগমিন, পাইরিডোস্টিগমিন এবং ফাইসোস্টিগমিন; সাইটোটক্সিক ওষুধ যেমন সাইক্লোফসফামাইড, মেক্লোরেথামিন এবং ট্রাইইথিলিন মেলামিন; এছাড়াও কিছু মানসিক রোগের ওষুধ যেমন প্রোমাজিন ও ক্লোরপ্রোমাজিন, এবং অ্যানেস্থেটিক বা সংশ্লিষ্ট ওষুধ যেমন কেটামিন, মরফিন ও এর অ্যান্টাগনিস্ট, পেথিডিন এবং প্যানকিউরোনিয়াম।

প্রতিনির্দেশনা

সাক্সামেথোনিয়াম চেতনার উপর কোনো প্রভাব ফেলে না; তাই যথাযথ অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়া রোগীকে এটি দেওয়া উচিত নয়। যেসব রোগীর এই ওষুধের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। জন্মগত অস্বাভাবিক প্লাজমা কোলিনেস্টেরেজ ঘাটতি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রেও সাক্সামেথোনিয়াম ব্যবহার করা যাবে না। সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগের পর সাময়িকভাবে সিরাম পটাসিয়ামের মাত্রা (প্রায় ০.৫ mmol/L) বৃদ্ধি পেতে পারে; তবে কিছু রোগগত অবস্থায় এটি অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের অনিয়ম বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটাতে পারে। এজন্য বড় ধরনের আঘাত থেকে সেরে ওঠা রোগী, গুরুতর পোড়া রোগী, গুরুতর পেশী ক্ষয়যুক্ত স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত রোগী এবং পূর্ব থেকেই হাইপারক্যালেমিয়া থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। সাক্সামেথোনিয়াম চোখের ভেতরের চাপ সাময়িকভাবে সামান্য বাড়াতে পারে, তাই খোলা চোখের আঘাত থাকলে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ইনজেকশন নবজাতক, বিশেষ করে অপরিণত বা প্রিম্যাচিউর শিশুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

হৃদযন্ত্র: ধীর বা দ্রুত হার্টবিট, উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
শ্বাসতন্ত্র: ব্রংকোস্পাজম, শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
মাংসপেশী: ফ্যাসিকুলেশন, অপারেশন পর পেশীর ব্যথা, মায়োগ্লোবিনেমিয়া
অন্যান্য: জ্বর, চোখ ও পাকস্থলীর চাপ বৃদ্ধি, র‍্যাশ, অতিরিক্ত লালা

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

সাক্সামেথোনিয়াম খুব বেশি প্লাসেন্টা অতিক্রম করে না, তবে গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা উচিত।

সতর্কতা

এই ওষুধ শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত অ্যানেস্থেটিস্ট দ্বারা বা তার তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে। তাৎক্ষণিক ইন্টিউবেশন ও অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি, বিশেষ করে যদি তারা ডিজিটালিস জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ডিপোলারাইজিং মাসল রিল্যাক্সেন্ট

সংরক্ষণ

২°–৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। ফ্রিজে জমিয়ে রাখা যাবে না।

সাধারণ প্রশ্ন

সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড কিসের ওষুধ?

সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড এর কাজ কি?

সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড বেশি খেলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড খাওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English