Loading...

সোফোসবুভির

Generic Medicine
নির্দেশনা

সোফোসবুভির হলো একটি নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ NS5B পলিমারেজ ইনহিবিটার, যা দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস সি (CHC) সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত সমন্বিত অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এককভাবে নয়।

সোফোসবুভিরের কার্যকারিতা HCV জেনোটাইপ ১, ২, ৩ ও ৪-এ সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও এটি এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর যারা হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা নিয়ে মিলান ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে লিভার প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন, অথবা যাদের HCV ও HIV-1 একসাথে সংক্রমণ (coinfection) রয়েছে।

সোফোসবুভির দিয়ে চিকিৎসা শুরু করার সময় কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিতঃ

  • সোফোসবুভির এককভাবে (Monotherapy) ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • চিকিৎসার রেজিমেন ও সময়কাল রোগীর ভাইরাল জেনোটাইপ এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
  • চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
ফার্মাকোলজি

সোফোসবুভির একটি নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ ইনহিবিটার, যা বিশেষভাবে HCV NS5B (নন-স্ট্রাকচারাল প্রোটিন 5B) RNA-নির্ভর RNA পলিমারেজ এনজাইমকে বাধা দেয়। এই এনজাইমটি হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের বংশবিস্তার বা প্রতিলিপি তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোষের ভেতরে প্রবেশ করার পর সোফোসবুভির ইনট্রাসেলুলার মেটাবলিজমের মাধ্যমে সক্রিয় রূপ ইউরিডিন অ্যানালগ ট্রাইফসফেট (GS-461203) এ রূপান্তরিত হয়। এই সক্রিয় উপাদানটি ভাইরাসের RNA তৈরির সময় NS5B পলিমারেজের মাধ্যমে ভাইরাল RNA-এর সাথে যুক্ত হয়ে চেইন টার্মিনেটর হিসেবে কাজ করে, ফলে RNA এর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, সোফোসবুভির NS5B পলিমারেজের GDD অ্যাকটিভ সাইটে উপস্থিত দুটি Mg²⁺ আয়নের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে, যার ফলে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানের প্রতিলিপি তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ভাইরাসের বংশবিস্তার রোধ হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রতিদিন একবার ৪০০ মি.গ্রা. এর একটি ট্যাবলেট খেতে হয়। এটি খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াও নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস সি (CHC) সংক্রমণের চিকিৎসায় সোফোসবুভির সাধারণত রিবাভিরিন অথবা পেগিলেটেড ইন্টারফেরন ও রিবাভিরিনের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়।

প্রস্তাবিত সমন্বিত চিকিৎসা (HCV একক সংক্রমণ এবং HCV/HIV-1 সহ-সংক্রমণ উভয়ের ক্ষেত্রেই):

  • জেনোটাইপ ১ বা ৪: সোফোসবুভির + পেগইন্টারফেরন আলফা + রিবাভিরিন — ১২ সপ্তাহ
  • জেনোটাইপ ২: সোফোসবুভির + রিবাভিরিন — ১২ সপ্তাহ
  • জেনোটাইপ ৩: সোফোসবুভির + রিবাভিরিন — ২৪ সপ্তাহ

যেসব জেনোটাইপ ১ আক্রান্ত CHC রোগী ইন্টারফেরন নিতে অযোগ্য, তাদের ক্ষেত্রে সোফোসবুভির ও রিবাভিরিন একসাথে ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

যেসব CHC রোগীর হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা রয়েছে এবং তারা লিভার প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রে সোফোসবুভির রিবাভিরিনের সাথে মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ সপ্তাহ পর্যন্ত বা লিভার প্রতিস্থাপন হওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে ঘটে) ব্যবহার করা যেতে পারে।

তীব্র কিডনি অকার্যকারিতা (severe renal impairment) বা শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ (end-stage renal disease) রয়েছে এমন রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ডোজ সুপারিশ করা যায় না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

যেসব ওষুধ আন্ত্রিক P-glycoprotein (P-gp) শক্তভাবে উদ্দীপিত করে, সেগুলোর সাথে সোফোসবুভির একসাথে ব্যবহার করলে এর চিকিৎসাগত কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এর উদাহরণ হলো রিফ্যাম্পিসিন, সেন্ট জন’স ওয়ার্ট, কার্বামাজেপিন, ফেনাইটইন, মোডাফিনিল, ফেনোবারবিটাল, অক্সকারবাজেপিন, রিফাবুটিন ও রিফাপেন্টিন। এসব ওষুধ শরীরে সোফোসবুভিরের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং এর অ্যান্টিভাইরাল কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। যেসব ওষুধ P-gp এবং/অথবা BCRP (Breast Cancer Resistance Protein) ইনহিবিটার, সেগুলোও সোফোসবুভিরের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যামিওডারোন ও অন্য কোনো ডাইরেক্ট-অ্যাক্টিং অ্যান্টিভাইরাল (DAA) এর সাথে একত্রে সোফোসবুভির ব্যবহার করলে গুরুতর উপসর্গযুক্ত ব্র্যাডিকার্ডিয়া (হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে ধীর হয়ে যাওয়া) হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

প্রতিনির্দেশনা

যখন সোফোসবুভির রিবাভিরিন অথবা পেগইন্টারফেরন আলফা/রিবাভিরিন এর সাথে একত্রে ব্যবহার করা হয়, তখন ঐ ওষুধগুলোর জন্য যে বিরুদ্ধ নির্দেশনা (contraindications) রয়েছে, সেগুলোও এই সমন্বিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সোফোসবুভির ও রিবাভিরিন অথবা সোফোসবুভির, পেগইন্টারফেরন আলফা ও রিবাভিরিন একত্রে ব্যবহার গর্ভবতী নারী, যেসব নারী গর্ভবতী হতে পারেন এবং যেসব পুরুষের স্ত্রী গর্ভবতী—তাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কারণ রিবাভিরিনের কারণে ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটি ও ভ্রূণের মৃত্যু হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সোফোসবুভির যখন রিবাভিরিনের সাথে ব্যবহার করা হয়, তখন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রায় ২০% বা তার বেশি রোগীর মধ্যে) হলো ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা। আর সোফোসবুভির, পেগইন্টারফেরন আলফা ও রিবাভিরিন একসাথে ব্যবহার করলে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমিভাব, ঘুমের সমস্যা (অনিদ্রা), রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), চুলকানি, দুর্বলতা, ত্বকে র‍্যাশ, ক্ষুধা কমে যাওয়া, কাঁপুনি, ফ্লু-এর মতো উপসর্গ, জ্বর, ডায়রিয়া, নিউট্রোপেনিয়া, পেশিতে ব্যথা এবং খিটখিটে মেজাজ।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা শ্রেণি B: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সোফোসবুভির ব্যবহারের উপর পর্যাপ্ত ও সু-নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। তাই গর্ভাবস্থায় এটি শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।

স্তন্যদানকারী মা: সোফোসবুভির বা এর মেটাবোলাইট মানব দুধে নিঃসৃত হয় কি না তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে এই ওষুধ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সতর্কতা

অ্যামিওডারোনের সাথে ব্যবহার করলে ব্র্যাডিকার্ডিয়া: যেসব রোগী অ্যামিওডারোন এর সাথে সোফোসবুভির এবং অন্য কোনো ডাইরেক্ট-অ্যাক্টিং অ্যান্টিভাইরাল (DAA) একসাথে গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে গুরুতর উপসর্গসহ ব্র্যাডিকার্ডিয়া (হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে ধীর হয়ে যাওয়া) দেখা দিতে পারে। এই ঝুঁকি বিশেষ করে বেশি হতে পারে যদি রোগী বিটা-ব্লকার গ্রহণ করেন বা তার হৃদরোগ ও/অথবা উন্নত পর্যায়ের লিভার রোগ থাকে। সাধারণত অ্যামিওডারোনকে সোফোসবুভির ও অন্য DAA-এর সাথে একত্রে ব্যবহার করা সুপারিশ করা হয় না। তবে যদি বিকল্প কোনো উপযুক্ত চিকিৎসা না থাকে, তাহলে চিকিৎসাকালীন হৃদযন্ত্রের নিবিড় পর্যবেক্ষণ (cardiac monitoring) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সোফোসবুভিরের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯০ জন রোগীর উপর সোফোসবুভির ব্যবহার করা হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া তরুণ রোগীদের মতোই ছিল। তাই বয়স্ক রোগীদের জন্য সোফোসবুভিরের ডোজ সাধারণত পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় না।

মাত্রাধিকত্যা

সোফোসবুভিরের ক্ষেত্রে গবেষণায় সর্বোচ্চ যে ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো একবারে ১২০০ মি.গ্রা.। সোফোসবুভির অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসা হিসেবে সাধারণ সহায়ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেমন রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণ (vital signs) পর্যবেক্ষণ করা এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

থেরাপিউটিক ক্লাস

হেপাটিক ভাইরাল সংক্রমণ (হেপাটাইটিস সি)

সংরক্ষণ

সোফোসবুভির শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। এটি ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করুন এবং আলো থেকে রক্ষা করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

সোফোসবুভির কিভাবে কাজ করে?

সোফোসবুভির কি জন্য ব্যবহৃত হয়?

সোফোসবুভির কি লিভারের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে?

সোফোসবুভির কি কিডনির রোগীদের ব্যবহৃত হতে পারে?

সোফোসবুভির এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?

No available drugs found

  View in English