Loading...

নাইট্রোগ্লিসারিন

Generic Medicine
নির্দেশনা

নাইট্রোগ্লিসারিন করোনারি ধমনীজনিত রোগের কারণে সৃষ্ট এনজাইনা আক্রমণের দ্রুত উপশম বা প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয়।

বিস্তারিত

নাইট্রোগ্লিসারিন একটি অর্গানিক নাইট্রেট, যা ধমনী ও শিরা উভয়ের উপর প্রভাব ফেলে ভ্যাসোডাইলেটর হিসেবে কাজ করে। এটি মিটারড ডোজ স্প্রে আকারে পাওয়া যায়। প্রতিটি স্প্রে (প্রতি স্প্রে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম, মোট ২০০ স্প্রে) জিহ্বার নিচে স্প্রে আকারে প্রয়োগ করা হয়।

ফার্মাকোলজি

নাইট্রোগ্লিসারিন প্রধানত রক্তনালীর স্মুথ মাংসপেশি শিথিল করে কাজ করে, যার ফলে ধমনী ও শিরা উভয়ের প্রসারণ ঘটে, তবে শিরায় এর প্রভাব বেশি। পোস্ট-ক্যাপিলারি ভেসেল, বিশেষ করে বড় শিরাগুলোর প্রসারণের ফলে রক্ত পেরিফেরিতে জমা হয় এবং হৃদয়ে ভেনাস রিটার্ন কমে যায়, ফলে বাম ভেন্ট্রিকুলারের এন্ড-ডায়াস্টলিক চাপ (প্রিলোড) কমে। আর্টেরিওল শিথিল হওয়ার ফলে সিস্টেমিক ভাসকুলার রেজিস্ট্যান্স ও রক্তচাপ (আফটারলোড) কমে যায়।

নাইট্রোগ্লিসারিন থেকে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) উৎপন্ন হয়, যা গুয়ানাইলেট সাইক্লেজ সক্রিয় করে এবং স্মুথ মাংসপেশি ও অন্যান্য টিস্যুতে সাইক্লিক GMP (cGMP) বৃদ্ধি করে। এর ফলে মায়োসিন লাইট চেইনের ডিফসফরাইলেশন ঘটে, যা পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভ্যাসোডাইলেশন ঘটায়।

শোষণ (Absorption): নাইট্রোগ্লিসারিন দ্রুত শোষিত হয়, তাই এটি জরুরি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
বিতরণ (Distribution): এর বিতরণ ভলিউম প্রায় ৩ লিটার/কেজি।
বিপাক (Metabolism): এটি লিভারে দ্রুত বিপাক হয়ে ডাই-নাইট্রেট ও মনো-নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়।
নিষ্কাশন (Elimination): নাইট্রোগ্লিসারিন প্রধানত কিডনির মাধ্যমে ডাই-নাইট্রো মেটাবোলাইট হিসেবে নির্গত হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সাবলিঙ্গুয়াল ট্যাবলেট: তীব্র এনজাইনা আক্রমণের প্রথম লক্ষণে ১টি ট্যাবলেট (০.৫ মি.গ্রা.) জিহ্বার নিচে রাখতে হবে। উপশম না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৫ মিনিট পরপর ডোজ পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। ১৫ মিনিটের মধ্যে ৩টি ট্যাবলেট নেওয়ার পরও ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সাসটেইন্ড রিলিজ ট্যাবলেট: রোগীর অবস্থা ও এনজাইনার তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ডোজ নির্ধারণ করতে হবে।

  • ২.৬ মি.গ্রা.: প্রতিদিন ২ বার (সকাল ও দুপুরে) খাবারের আগে ১টি ট্যাবলেট। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে ডোজ বাড়িয়ে দিনে ২ বার ২–৩টি ট্যাবলেট করা যেতে পারে।
  • ৬.৪ মি.গ্রা.: প্রতিদিন ২ বার ১টি ট্যাবলেট অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

স্প্রে: এনজাইনা আক্রমণের শুরুতে জিহ্বার নিচে ১ বা ২টি স্প্রে দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতি ৫ মিনিট পরপর পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। ১৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ৩টি স্প্রে দেওয়া উচিত। ৩টি স্প্রে দেওয়ার পরও বুকে ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকলাপের ৫–১০ মিনিট আগে ব্যবহার করা যেতে পারে।

নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে প্রস্তুতকরণ (Priming): প্রথমবার ব্যবহারের আগে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে প্রস্তুত করতে হবে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • কন্টেইনারের প্লাস্টিক ক্যাপ খুলে ফেলুন।
  • কন্টেইনার সোজা ধরে নিজের ও অন্যদের থেকে দূরে রেখে গ্রুভযুক্ত বোতামটি ৫ বার চাপ দিন।
  • এখন স্প্রেটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
  • ৬ সপ্তাহ ব্যবহার না করলে ১ বার চাপ দিয়ে আবার প্রস্তুত করতে হবে।
  • ৩ মাস ব্যবহার না করলে সর্বোচ্চ ৫ বার চাপ দিয়ে পুনরায় প্রস্তুত করতে হবে।

নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে ব্যবহার পদ্ধতি:

  • বিশ্রাম অবস্থায়, সম্ভব হলে বসে স্প্রে ব্যবহার করুন।
  • কন্টেইনার সোজা ধরে তর্জনী আঙুল গ্রুভযুক্ত বোতামের উপর রাখুন।
  • মুখ খুলে স্প্রে মুখের কাছে আনুন।
  • বোতামটি চাপ দিয়ে জিহ্বার নিচে স্প্রে দিন।
  • বোতাম ছেড়ে দিয়ে সাথে সাথে মুখ বন্ধ করুন। সাথে সাথে গিলবেন না। ৫–১০ মিনিট পর্যন্ত মুখ ধোয়া বা থুতু ফেলা এড়িয়ে চলুন।
  • প্রয়োজন হলে একইভাবে আবার ডোজ দিন।
  • ব্যবহারের পর প্লাস্টিক ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন।

বিশেষ নির্দেশনা:

  • নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে শুধুমাত্র জিহ্বার নিচে ব্যবহারের জন্য। এটি শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করবেন না।
  • ১৫ মিনিটে ৩টির বেশি স্প্রে ব্যবহার করবেন না।
  • ৩টি স্প্রে দেওয়ার পরও বুকে ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
  • কন্টেইনার ঝাঁকাবেন না।
  • আগুনের কাছে স্প্রে করবেন না এবং আগুন থেকে দূরে রাখুন।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

যেসব রোগী অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধ, বিটা-ব্লকার, ফেনোথিয়াজিন বা নাইট্রেট গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্তচাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। নাইট্রেট ও অ্যালকোহল একসাথে গ্রহণ করলে মারাত্মক হাইপোটেনশন হতে পারে। অ্যাসপিরিনের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে নাইট্রোগ্লিসারিনের ভ্যাসোডাইলেটর ও হেমোডাইনামিক প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগী PDE5 ইনহিবিটর (যেমন Sildenafil, Vardenafil, Tadalafil) ব্যবহার করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া তীব্র রক্তস্বল্পতা, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধি, নাইট্রেট বা নাইট্রাইটে অ্যালার্জি এবং তীব্র রক্ত সঞ্চালন ব্যর্থতা বা শকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ত্বকে লালভাব (ফ্লাশিং) এবং রক্তচাপ কমে যাওয়া (হাইপোটেনশন)।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নাইট্রেটের নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাই গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র ব্যবহার করা উচিত। নাইট্রোগ্লিসারিন মানব দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

সতর্কতা

তীব্র এনজাইনা নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার সহনশীলতা (tolerance) তৈরি করতে পারে। যেসব রোগীর শরীরে তরল ঘাটতি রয়েছে বা আগে থেকেই রক্তচাপ কম, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করতে হবে।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

শিশুদের ক্ষেত্রে নাইট্রোগ্লিসারিনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মাত্রাধিকত্যা

অতিরিক্ত মাত্রায় (দুর্ঘটনাবশত বা ইচ্ছাকৃত) গ্রহণ করলে নাইট্রোগ্লিসারিন বিষক্রিয়ায় বমি, অস্থিরতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, নীলাভ বর্ণ (সায়ানোসিস), মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া (ট্যাকিকার্ডিয়া) এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (সিনকোপ) দেখা দিতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

নাইট্রেটস: করোনারি ভ্যাসোডাইলেটর

সংরক্ষণ

শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ২৫°সে-এর নিচে তাপমাত্রায় শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন এবং আলো থেকে রক্ষা করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

নাইট্রোগ্লিসারিন কিসের ওষুধ?

নাইট্রোগ্লিসারিন এর কাজ কি?

 নাইট্রোগ্লিসারিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?

 নাইট্রোগ্লিসারিন বেশি খেলে কি হয়?

 গর্ভাবস্থায় নাইট্রোগ্লিসারিন খাওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English