Loading...

ফ্লুভাস্টাটিন

Generic Medicine
নির্দেশনা

ফ্লুভাস্টাটিন একটি HMG-CoA রিডাক্টেজ ইনহিবিটার (স্ট্যাটিন), যা খাদ্য নিয়ন্ত্রণের সাথে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়:

  • প্রাথমিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া ও মিশ্র ডিসলিপিডেমিয়ায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মোট কোলেস্টেরল (TC), LDL-C, Apo B ও ট্রাইগ্লিসারাইড (TG) কমাতে এবং HDL-C বৃদ্ধি করতে
  • ১০–১৬ বছর বয়সী ছেলে ও ঋতুমতী কিশোরীদের হেটেরোজাইগাস ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট সাড়া না পেলে TC, LDL-C ও Apo B কমাতে
  • ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত করোনারি হার্ট ডিজিজ (CHD) রোগীদের ক্ষেত্রে রিভাসকুলারাইজেশন প্রক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে
  • CHD রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের অগ্রগতি ধীর করতে
ফার্মাকোলজি

ফ্লুভাস্টাটিন প্রতিযোগিতামূলকভাবে HMG-CoA রিডাক্টেজ এনজাইমকে প্রতিরোধ করে, যা কোলেস্টেরল সংশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি রক্তে মোট কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, LDL ও VLDL-এর মাত্রা কমায় এবং HDL-এর মাত্রা বৃদ্ধি করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সাধারণ ডোজ নির্দেশনা: ফ্লুভাস্টাটিন প্রতিদিন ২০ মি.গ্রা. থেকে ৮০ মি.গ্রা. পর্যন্ত দেওয়া হয়। এটি মুখে একবারে নেওয়া যায়, খাবারের সাথে বা ছাড়াও। ক্যাপসুল ভাঙা, গুঁড়ো করা, চিবানো বা খোলা উচিত নয়। একসাথে দুইটি ৪০ মি.গ্রা. ক্যাপসুল নেওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৪ সপ্তাহের মধ্যে ডোজের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা দেখা যায়, তাই এই সময়ে লিপিড পরীক্ষা করে রোগীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ডোজ সমন্বয় করা উচিত।

প্রাপ্তবয়স্ক রোগী (হেটেরোজাইগাস ফ্যামিলিয়াল ও নন-ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া এবং মিশ্র ডিসলিপিডেমিয়া): প্রাথমিক ডোজ হিসেবে সন্ধ্যায় ৪০ মি.গ্রা. একবার বা দিনে দুইবার ৪০ মি.গ্রা. দেওয়া হয়। একসাথে দুইটি ৪০ মি.গ্রা. ক্যাপসুল নেওয়া যাবে না। বিকল্পভাবে, ৮০ মি.গ্রা. একবারে দিনে যেকোনো সময় গ্রহণ করা যেতে পারে।

শিশু (১০–১৬ বছর) হেটেরোজাইগাস ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া রোগী: সাধারণত ২০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার দিয়ে শুরু করা হয়। প্রতি ৬ সপ্তাহ অন্তর ডোজ সমন্বয় করা যেতে পারে, সর্বোচ্চ ৪০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার বা ৮০ মি.গ্রা. দিনে একবার পর্যন্ত। চিকিৎসার লক্ষ্য অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
  • সাইক্লোসপোরিন: একসাথে ব্যবহার করলে ফ্লুভাস্টাটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়; ডোজ ২০ মি.গ্রা.-তে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
  • ফ্লুকোনাজল: একসাথে ব্যবহার করলে ফ্লুভাস্টাটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়; ডোজ ২০ মি.গ্রা.-তে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
  • অন্যান্য লিপিড কমানোর ওষুধ: ফাইব্রেট বা উচ্চমাত্রার নিয়াসিন (≥১ গ্রাম/দিন) এর সাথে ব্যবহার করলে পেশীজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • গ্লাইবিউরাইড: ফ্লুভাস্টাটিনের ডোজ পরিবর্তনের সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
  • ফেনিটয়িন: ফ্লুভাস্টাটিন শুরু বা ডোজ পরিবর্তনের সময় ফেনিটয়িনের রক্তের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
  • ওয়ারফারিন ও কুমারিনজাত ওষুধ: ফ্লুভাস্টাটিন শুরু, বন্ধ বা ডোজ পরিবর্তনের সময় প্রোথ্রম্বিন টাইম পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
প্রতিনির্দেশনা
  • এই ওষুধের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা
  • সক্রিয় লিভারের রোগ বা অজানা কারণে দীর্ঘস্থায়ী সিরাম ট্রান্সঅ্যামিনেজ বৃদ্ধি
  • গর্ভবতী নারী বা যারা গর্ভধারণ করতে পারেন
  • স্তন্যদানকারী মা
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (≥২% এবং প্লাসেবোর তুলনায় বেশি) হলো মাথাব্যথা, অজীর্ণতা, পেশীতে ব্যথা (মায়ালজিয়া), পেটব্যথা এবং বমিভাব।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: ফ্লুভাস্টাটিন গর্ভবতী নারী বা যারা গর্ভধারণ করতে পারেন তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য এগুলো প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায় ফ্লুভাস্টাটিন ব্যবহার করলে ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ হওয়ায়, গর্ভাবস্থায় লিপিড কমানোর ওষুধ বন্ধ রাখলে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রে ফ্লুভাস্টাটিন তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। চিকিৎসাকালীন গর্ভধারণ হলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে এবং ভ্রূণের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে রোগীকে জানাতে হবে।

স্তন্যদানকারী মা: ফ্লুভাস্টাটিন প্রাণীর দুধে নিঃসৃত হয়। যেহেতু HMG-CoA রিডাক্টেজ ইনহিবিটার নবজাতকের জন্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তাই যারা ফ্লুভাস্টাটিন গ্রহণ করছেন তাদের স্তন্যদান করা উচিত নয়।

সতর্কতা

পেশীজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন মায়োপ্যাথি ও র্যাবডোমায়োলাইসিস): ৬৫ বছরের বেশি বয়সী রোগী, অনিয়ন্ত্রিত হাইপোথাইরয়ডিজম, কিডনি সমস্যা বা সাইক্লোসপোরিন অথবা জেমফাইব্রোজিলের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

রোগীদের মায়োপ্যাথির যেকোনো উপসর্গ দ্রুত জানানোর পরামর্শ দিতে হবে। মায়োপ্যাথি শনাক্ত বা সন্দেহ হলে চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে।

লিভার এনজাইমের অস্বাভাবিকতা: লিভারের ট্রান্সঅ্যামিনেজের মাত্রা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। চিকিৎসা শুরু করার আগে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

অন্যান্য অ্যান্টি-অ্যাঞ্জাইনাল ও অ্যান্টি-ইসকেমিক ওষুধ, স্ট্যাটিন

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

 ফ্লুভাস্ট্যাটিন কীভাবে কাজ করে?

ফ্লুভাস্ট্যাটিন কেন ব্যবহার করা হয়

 ফ্লুভাস্ট্যাটিনের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?

ফ্লুভাস্ট্যাটিনের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?

ফ্লুভাস্ট্যাটিনের স্বাভাবিক ডোজ কত?

No available drugs found

  View in English