ইরিনোটেকান ইনজেকশন কোলন বা রেকটামের মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রথম ধাপের থেরাপি হিসেবে 5-ফ্লুরোউরাসিল (5-FU) ও লিউকোভোরিন (LV)-এর সাথে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, যেসব রোগীর ক্যান্সার পূর্বের ফ্লুরোউরাসিল-ভিত্তিক চিকিৎসার পর পুনরায় দেখা দেয় বা বৃদ্ধি পায়, তাদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।
ইরিনোটেকান হাইড্রোক্লোরাইড
Generic Medicineফার্মাকোলজি
ইরিনোটেকান হলো ক্যাম্পটোথেসিনের একটি ডেরিভেটিভ। এটি টপোইসোমেরেজ I নামক এনজাইমের সাথে কাজ করে, যা ডিএনএ-তে সৃষ্ট টান কমাতে সাময়িক একক-স্ট্র্যান্ড ভাঙন সৃষ্টি করে। ইরিনোটেকান ও এর সক্রিয় মেটাবোলাইট SN-38 টপোইসোমেরেজ I-DNA কমপ্লেক্সের সাথে যুক্ত হয়ে এই ভাঙা অংশগুলো পুনরায় যুক্ত হতে বাধা দেয়। ফলে ডিএনএ প্রতিলিপি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের যৌথ রেজিমেন ১: Irinotecan ১২৫ mg/m শিরায় ৯০ মিনিট ধরে ইনফিউশন আকারে ১, ৮, ১৫,
২২ তম দিনে দেওয়া হয়, সাথে LV ২০ mg/m শিরায় বোলাস ইনফিউশন ১, ৮, ১৫, ২২ তম দিনে, এরপর ৫-FU শিরায় বোলাস
ইনফিউশন ১, ৮, ১৫, ২২ তম দিনে প্রতি ৬ সপ্তাহ অন্তর দেওয়া হয়।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের যৌথ রেজিমেন ২: Irinotecan ১৮০ mg/m² শিরায় ৯০ মিনিট ধরে ইনফিউশন আকারে ১, ১৫, ২৯ তম দিনে দেওয়া হয়, সাথে LV ২০০ mg/m শিরায় ২ ঘণ্টা ধরে ইনফিউশন ১, ২, ১৫, ১৬, ২৯, ৩০ তম দিনে, এরপর ৫-FU ৪০০ mg/m² শিরায় বোলাস ইনফিউশন ১, ২, ১৫, ১৬, ২৯, ৩০ তম দিনে এবং ৫-FU ৬০০ mg/m² শিরায় ২২ ঘণ্টা ধরে ইনফিউশন ১, ২, ১৫, ১৬, ২৯, ৩০ তম দিনে দেওয়া হয়।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের একক ওষুধ রেজিমেন ১: Irinotecan ১২৫ mg/m শিরায় ৯০ মিনিট ধরে ইনফিউশন আকারে ১,
৮, ১৫, ২২ তম দিনে দেওয়া হয়, এরপর ২ সপ্তাহ বিরতি।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের একক ওষুধ রেজিমেন ২: Irinotecan ৩৫০ mg/m শিরায় ৯০ মিনিট ধরে ইনফিউশন আকারে
১ম দিনে প্রতি ৩ সপ্তাহ অন্তর দেওয়া হয়।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
ডাইইউরেটিক ওষুধ বমি ও ডায়রিয়ার কারণে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বমি প্রতিরোধে ব্যবহৃত ডেক্সামেথাসোন লিম্ফোসাইটোপেনিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রোক্লোরপেরাজিন অ্যাকাথিসিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। অন্যান্য কেমোথেরাপি ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে মায়েলোসাপ্রেশন ও ডায়রিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে। হারবাল ওষুধ যেমন St. John’s wort এবং কেটোকোনাজল ইরিনোটেকানের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব রোগীর ইরিনোটেকান বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, মুখের ঘা (মিউকোসাইটিস), নিউট্রোপেনিয়া, লিউকোপেনিয়া (লিম্ফোসাইটোপেনিয়া সহ), অ্যানিমিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, দুর্বলতা, ব্যথা, জ্বর, সংক্রমণ, বিলিরুবিনের অস্বাভাবিকতা এবং চুল পড়া।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় (ক্যাটাগরি D) এই ওষুধ ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটি দ্রুত দুধে চলে যায় এবং রক্তের তুলনায় বেশি ঘনত্বে জমা হয়। মানুষের স্তন্যদুগ্ধে এটি নিঃসৃত হয় কিনা তা নিশ্চিত নয়।
সতর্কতা
ডায়রিয়া ও কোলিনার্জিক প্রতিক্রিয়া: ইরিনোটেকান ইনফিউশনের সময় বা অল্প সময়ের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক ডায়রিয়া সাধারণত সাময়িক এবং খুব কম ক্ষেত্রে গুরুতর হয়। এটি কোলিনার্জিক উপসর্গ যেমন রাইনাইটিস, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, মায়োসিস, চোখ দিয়ে পানি পড়া, ঘাম, ফ্লাশিং এবং অন্ত্রের অতিরিক্ত গতিশীলতা (যার ফলে পেট ব্যথা হতে পারে) এর সাথে দেখা দিতে পারে। ব্র্যাডিকার্ডিয়াও হতে পারে। প্রাথমিক ডায়রিয়া ও এসব উপসর্গ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায়। প্রয়োজনে এট্রোপিন (০.২৫–১ মি.গ্রা. IV বা সাবকিউটেনিয়াস) ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি কোনো বাধা না থাকে। উচ্চ ডোজে এসব উপসর্গ বেশি দেখা যায়। দেরিতে হওয়া ডায়রিয়া (২৪ ঘণ্টার বেশি পরে) গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ডিহাইড্রেশন, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা বা সেপসিসের কারণ হতে পারে। সাপ্তাহিক ডোজে ২৩–৩১% রোগীর মধ্যে গ্রেড ৩–৪ দেরি ডায়রিয়া দেখা গেছে।
মাইলোসাপ্রেশন: ইরিনোটেকান ব্যবহারে গুরুতর নিউট্রোপেনিয়ার পর সেপসিসজনিত মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। সাপ্তাহিক ডোজের ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে প্রায় ৩% রোগীর নিউট্রোপেনিক জ্বর হয়েছে এবং ৬% রোগীকে G-CSF দেওয়া হয়েছে। নিউট্রোপেনিক জ্বর হলে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
UGT1A1 কার্যকারিতা কম থাকা রোগী: যেসব রোগীর UGT1A128 অ্যালিলের জন্য হোমোজাইগাস (UGT1A17/7 জিনোটাইপ), তাদের ইরিনোটেকান শুরু করার পর নিউট্রোপেনিয়ার ঝুঁকি বেশি।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের মধ্যে ইরিনোটেকানের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও দেরি ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকায় ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য প্রতি ৩ সপ্তাহে একবার ডোজের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক ডোজ ৩০০ মি.গ্রা./মি²।
কিডনি অকার্যকারিতা: কিডনি সমস্যায় ইরিনোটেকানের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই এসব রোগীর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা সুপারিশ করা হয় না।
যকৃতের অকার্যকারিতা: যকৃতের সমস্যা থাকলে ইরিনোটেকানের ক্লিয়ারেন্স কমে যায় এবং এর সক্রিয় মেটাবোলাইট SN-38 এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা স্বাভাবিক যকৃতের রোগীদের তুলনায় বেশি।
থেরাপিউটিক ক্লাস
সাইটোটক্সিক কেমোথেরাপি
সংরক্ষণ
১৫° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগে পর্যন্ত ভায়ালটি মূল প্যাকেটে সংরক্ষণ করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ইরিনোটেকান হাইড্রোক্লোরাইড এর কাজ কি?
ইরিনোটেকান হাইড্রোক্লোরাইড এর ব্যবহার?
ইরিনোটেকান হাইড্রোক্লোরাইড কিভাবে সেবন করতে হয়?
ইরিনোটেকান হাইড্রোক্লোরাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?
ইরিনোটেকান হাইড্রোক্লোরাইড কি ডায়রিয়া সৃষ্টি করে?
No available drugs found