এই ওষুধটি congestive heart failure, লিভার সিরোসিস, premenstrual tension এবং কিডনি রোগ যেমন nephrotic syndrome, acute glomerulonephritis ও chronic renal failure-জনিত edema চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য একা বা অন্যান্য antihypertensive ওষুধের সাথে ব্যবহার করা হয়।
হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড
Generic Medicineফার্মাকোলজি
Hydrochlorothiazide-এর মতো thiazide diuretic শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করতে সাহায্য করে, ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। এটি কিডনির distal convoluted tubule-এ sodium ও chloride-এর পুনঃশোষণ বাধা দেয়। এর ফলে পানি নির্গমন বাড়ে এবং সাথে সাথে পটাশিয়াম কমে যেতে পারে এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়। যদিও এই ওষুধ উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, এর রক্তচাপ কমানোর প্রভাব শুধুমাত্র ডাইইউরেটিক কার্যকারিতার কারণে নয়। এটি উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা ও মৃত্যুহার কমাতে সাহায্য করে, যদিও এর সম্পূর্ণ কার্যপ্রক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া thiazide ওষুধ রক্তনালীর মসৃণ পেশীতে calcium-sensitive potassium channel সক্রিয় করে এবং কিছু carbonic anhydrase এনজাইমকে বাধা দিয়ে রক্তনালী প্রসারিত করে, ফলে রক্তচাপ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শোথ: প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৫০ মি.গ্রা., সম্ভব হলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হ্রাস করতে হবে; সর্বোচ্চ প্রতিদিন ১০০ মি.গ্রা.।
উচ্চ রক্তচাপ: প্রতিদিন ২৫ মি.গ্রা., প্রয়োজন হলে প্রতিদিন ৫০ মি.গ্রা.-এ বৃদ্ধি করতে হবে।
বয়স্ক: কিছু রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১২.৫ মি.গ্রা.-এর প্রাথমিক ডোজ যথেষ্ট হতে পারে।
শিশু: শিশুদের জন্য প্রাথমিক ডোজ হল দেহের ওজনের প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ মি.গ্রা. ২টি বিভক্ত ডোজে। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের প্রতিদিন প্রতি কেজিতে ৩ মি.গ্রা. পর্যন্ত ডোজের প্রয়োজন হতে পারে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অ্যালকোহল, বারবিচুরেট বা নারকোটিক: একসাথে ব্যবহার করলে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। মুখে খাওয়ার বা ইনজেকশনের ডায়াবেটিসের ওষুধের ডোজ সমন্বয় করতে হতে পারে। অন্যান্য উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে প্রভাব যোগ হতে পারে। ACE inhibitor শুরু করার আগে ২–৩ দিন ডায়ুরেটিক বন্ধ করলে প্রথম ডোজে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। sympathectomy করা রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের প্রভাব বেশি হতে পারে।
কোলেস্টিরামিন ও কোলেস্টিপল রেজিন: এগুলো হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইডের শোষণ কমিয়ে দেয়। একক ডোজে যথাক্রমে ৮৫% ও ৪৩% পর্যন্ত শোষণ কমাতে পারে।
কর্টিকোস্টেরয়েড বা ACTH: থায়াজাইডজনিত ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতি (বিশেষ করে পটাশিয়াম কমে যাওয়া) বাড়াতে পারে।
প্রেসর অ্যামাইন (যেমন অ্যাড্রেনালিন): রক্তচাপ বাড়ানোর কার্যকারিতা কিছুটা কমতে পারে, তবে ব্যবহারযোগ্য থাকে।
নন-ডিপোলারাইজিং মাসল রিল্যাক্স্যান্ট (যেমন টিউবোকিউরারিন): পেশী শিথিলকরণ প্রভাব বাড়াতে পারে।
NSAIDs: ডায়ুরেটিক ও রক্তচাপ কমানোর প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।
ল্যাব টেস্ট: থায়াজাইড ক্যালসিয়াম বিপাক প্রভাবিত করে, ফলে প্যারাথাইরয়েড পরীক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
প্রস্রাব না হওয়া (Anuria), হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইড বা সালফোনামাইডে অ্যালার্জি, গুরুতর কিডনি বা লিভার ব্যর্থতা, অ্যাডিসন’স রোগ, রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকা, লিথিয়াম একসাথে ব্যবহার।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
পরিপাকতন্ত্র: ক্ষুধামন্দা, পেটের জ্বালা, বমি বমি ভাব, বমি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, জন্ডিস, প্যানক্রিয়াটাইটিস, লালাগ্রন্থির প্রদাহ
স্নায়ুতন্ত্র: মাথা ঘোরা, ভার্টিগো, ঝিনঝিনি অনুভূতি, মাথাব্যথা, হলুদাভ দৃষ্টি
রক্তসংক্রান্ত: লিউকোপেনিয়া, অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া
হৃদ্রোগ সংক্রান্ত: রক্তচাপ কমে যাওয়া (বিশেষ করে দাঁড়ালে)
অ্যালার্জি: ত্বকে দাগ, সূর্যের আলোতে সংবেদনশীলতা, র্যাশ, চুলকানি, ভাসকুলাইটিস, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, গুরুতর অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া
বিপাকীয়: রক্তে শর্করা বৃদ্ধি, প্রস্রাবে গ্লুকোজ, ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি, সোডিয়াম ও পটাশিয়াম কমে যাওয়া
কিডনি: কিডনি সমস্যা, নেফ্রাইটিস, কিডনি ফেইলিউর
অন্যান্য: পেশী খিঁচুনি, দুর্বলতা, অস্থিরতা, অস্থায়ী দৃষ্টি ঝাপসা, যৌন দুর্বলতা
গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ডোজ কমানো বা চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার: থায়াজাইড প্লাসেন্টা অতিক্রম করে এবং ভ্রূণের রক্তে পৌঁছে। তাই ব্যবহার করার আগে উপকার ও ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি: নবজাতকের জন্ডিস, প্লেটলেট কমে যাওয়া ইত্যাদি। সুস্থ গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না।
দুগ্ধদানকালীন ব্যবহার: থায়াজাইড দুধে যায়। প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার করলে স্তন্যদান বন্ধ করতে হবে।
সতর্কতা
রোগীদের শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ যেমন হাইপোন্যাট্রেমিয়া, হাইপোক্লোরেমিক অ্যালকালোসিস, হাইপোক্যালেমিয়া ও হাইপোম্যাগনেসেমিয়া সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অতিরিক্ত বমি বা ইনজেকশনের মাধ্যমে তরল গ্রহণ করলে রক্ত ও প্রস্রাবের ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা করা জরুরি। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, তৃষ্ণা, দুর্বলতা, অবসাদ, তন্দ্রা, অস্থিরতা, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, পেশীতে ব্যথা বা খিঁচুনি, পেশীর ক্লান্তি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্রস্রাব কম হওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং বমি বমি ভাব বা বমি। হাইপোক্যালেমিয়া হতে পারে, বিশেষ করে বেশি ডায়ুরেসিস, গুরুতর লিভার সিরোসিস বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এটি হৃদযন্ত্রকে ডিজিটালিসের বিষাক্ত প্রভাবে বেশি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। অ্যালার্জি বা অ্যাজমা থাকুক বা না থাকুক, সংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হাইপোক্যালেমিয়া প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যামিলোরাইড, পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া যেতে পারে। ডায়ুরেটিকজনিত হাইপোন্যাট্রেমিয়া সাধারণত মৃদু এবং লক্ষণহীন। গরম আবহাওয়ায় ফোলা রোগীদের ক্ষেত্রে dilutional hyponatraemia হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পানি সীমিত করাই যথেষ্ট। থায়াজাইড থাইরয়েডে সমস্যা না করেও serum protein-bound iodine কমাতে পারে। এটি প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম কমায় এবং কখনও রক্তে ক্যালসিয়াম সামান্য বাড়াতে পারে। প্যারাথাইরয়েড পরীক্ষা করার আগে ওষুধ বন্ধ করতে হবে। ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ ml/min এর নিচে নামলে থায়াজাইড কার্যকর থাকে না। কিডনি সমস্যা থাকলে ইউরেমিয়া বাড়তে পারে। ইউরেমিয়া বা প্রস্রাব কমে গেলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে। লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে, কারণ ইলেক্ট্রোলাইটের সামান্য পরিবর্তনও হেপাটিক কোমা ঘটাতে পারে। থায়াজাইড ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে গাউট সৃষ্টি করতে পারে। এটি গ্লুকোজ সহনশীলতা কমাতে পারে এবং কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়াতে পারে। সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাসের অবনতি বা সক্রিয় হওয়ার রিপোর্ট রয়েছে। লুকানো ডায়াবেটিস প্রকাশ পেতে পারে।
মাত্রাধিকত্যা
অতিরিক্ত মাত্রায় সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি (হাইপোক্যালেমিয়া, হাইপোক্লোরেমিয়া, হাইপোন্যাট্রেমিয়া) এবং অতিরিক্ত প্রস্রাবের কারণে পানিশূন্যতা। ডিজিটালিস ব্যবহার করলে হাইপোক্যালেমিয়া হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় চিকিৎসা হবে উপসর্গভিত্তিক। সাম্প্রতিক গ্রহণ হলে বমি করানো বা পাকস্থলী পরিষ্কার করা যেতে পারে। পানিশূন্যতা, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, হেপাটিক কোমা ও নিম্ন রক্তচাপ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন বা কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
থায়াজাইড মূত্রবর্ধক ও সম্পর্কিত ওষুধ
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে রাখুন, আলো ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করুন, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন
সাধারণ প্রশ্ন
হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড কিসের ওষুধ?
হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড এর কাজ কি?
হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?
গর্ভাবস্থায় হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড খাওয়া যাবে কি?
হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?
No available drugs found