ভ্রূণ-ভিত্তিক বিষক্রিয়া (Embryo-Fetal Toxicity): থ্যালিডোমাইড একটি শক্তিশালী টেরাটোজেন, যা একটি মাত্র ডোজেই গুরুতর এবং জীবননাশক জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৪০% জন্মের সময় বা অল্প সময়ের মধ্যে মারা যেতে পারে।
প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তখনই এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত, যখন অন্য কোনো উপযুক্ত বিকল্প নেই এবং গর্ভধারণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে। ত্বকের সংস্পর্শ বা শ্বাসের মাধ্যমে ঝুঁকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নেই, তাই প্রজননক্ষম নারীদের থ্যালিডোমাইড ক্যাপসুলের সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো উচিত।
যদি ভাঙা ক্যাপসুল বা পাউডারের সংস্পর্শে আসে, তাহলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। রোগীর শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে স্বাস্থ্যকর্মী বা পরিচর্যাকারীদেরও ধোয়া উচিত। ত্বকের সংস্পর্শ কমাতে গ্লাভস ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবহার করা উচিত।
রক্তদান (Blood Donation): চিকিৎসাকালীন এবং থ্যালিডোমাইড বন্ধ করার পর অন্তত ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত রোগীরা রক্তদান করতে পারবেন না।
ভেনাস ও আর্টেরিয়াল থ্রম্বোএম্বোলিজম (Venous and Arterial Thromboembolism):
মাল্টিপল মায়েলোমা রোগীদের ক্ষেত্রে থ্যালিডোমাইড ব্যবহারে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যেমন ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস ও পালমোনারি এম্বোলিজম। ডেক্সামেথাসোনের মতো কেমোথেরাপি ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। রোগীর ঝুঁকি অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia):
থ্যালিডোমাইড প্লাটিলেট কমিয়ে দিতে পারে, যা গুরুতর হতে পারে। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ডোজ কমানো, বিলম্ব করা বা বন্ধ করা হতে পারে। রক্তপাতের লক্ষণ যেমন ত্বকে লাল দাগ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা অন্ত্র থেকে রক্তপাত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
ঘুমভাব (Drowsiness and Somnolence): এই ওষুধ ঘুমভাব সৃষ্টি করে। রোগীদের গাড়ি চালানো বা মেশিন চালানোর মতো কাজ এড়ানো উচিত।
পারিফেরাল নিউরোপ্যাথি (Peripheral Neuropathy): থ্যালিডোমাইড স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে। এটি সাধারণ এবং গুরুতর হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে বেশি দেখা যায়, তবে স্বল্প সময়েও হতে পারে।
মাথা ঘোরা ও দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া (Dizziness & Orthostatic Hypotension): মাথা ঘোরা বা দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। তাই ধীরে ধীরে উঠা উচিত।
নিউট্রোপেনিয়া (Neutropenia): এই ওষুধ শ্বেত রক্তকণিকা কমিয়ে দিতে পারে। যদি ANC ৭৫০/mm³ এর নিচে থাকে, তাহলে চিকিৎসা শুরু করা উচিত নয়। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। চিকিৎসার সময় ANC কমে গেলে ওষুধ বন্ধ বা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে।