ক্রনিক কিডনি বিকলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে আলফাক্যালসিডল ব্যবহৃত হয়—
- হাইপোক্যালসেমিয়া চিকিৎসায়
- সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণে
- রেনাল অস্টিওডিস্ট্রফি চিকিৎসায়
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করুন।
ক্রনিক কিডনি বিকলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে আলফাক্যালসিডল ব্যবহৃত হয়—
আলফাক্যালসিডল অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ বাড়ায় এবং হাড় ও সম্ভবত কিডনি থেকে ক্যালসিয়ামের পুনঃশোষণ বৃদ্ধি করে। চিকিৎসা শুরু করার ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসের মধ্যে অধিকাংশ রোগীর হাড়ের ব্যথা ও পেশির দুর্বলতা কমতে শুরু করে। এটি দ্রুত ক্যালসিয়াম শোষণের ঘাটতি ঠিক করে। নিয়মিত মুখে খাওয়ার চিকিৎসায়, অ্যালকালাইন ফসফাটেজ ও প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH)-এর মাত্রা সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে কমতে শুরু করে, তবে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। এই বিলম্ব চিকিৎসার ব্যর্থতা নির্দেশ করে না, বরং হাড়ে খনিজ জমার প্রক্রিয়া চলমান থাকার ইঙ্গিত দেয়। ইনট্রাভেনাস চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে PTH-এর মাত্রা আরও দ্রুত কমতে পারে, সাধারণত ৩ মাসের মধ্যেই।
প্রথম ২ মাসের জন্য প্রাথমিক ডোজ হিসেবে প্রতিদিন ০.২৫ মাইক্রোগ্রাম সুপারিশ করা হয়, যদি না হাইপারক্যালসেমিয়া (রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া) দেখা দেয়। যদি হাইপারক্যালসেমিয়া ঘটে, তবে ডোজ কমিয়ে এক দিন পরপর ০.২৫ মাইক্রোগ্রাম করতে হবে। যদি সিরাম ক্যালসিয়াম কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে থাকে, তবে প্রতি ২ মাস অন্তর ০.২৫ মাইক্রোগ্রাম/দিন করে ডোজ সমন্বয় করা যেতে পারে।
রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ: অধিকাংশ রোগীকে প্রতিদিন ০.৫ মাইক্রোগ্রাম ডোজে রাখা হয়। তবে সিরাম ক্যালসিয়াম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। সিরাম ক্যালসিয়াম এবং ফসফেটের মাত্রা প্রতি মাসে বা প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করা উচিত, বিশেষ করে যদি হাইপারক্যালসেমিয়া দেখা দেয়। চিকিৎসার সময় যেকোনো সময় হাইপারক্যালসেমিয়া হলে, আলফাক্যালসিডল-এর ডোজ ৫০% কমাতে হবে এবং ক্যালসিয়াম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বন্ধ রাখতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের মধ্যে Alfacalcidol-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
থিয়াজাইড ডিউরেটিকের সাথে ব্যবহার করলে হাইপারক্যালসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধ (যেমন carbamazepine, phenobarbital, phenytoin ও primidone) শরীরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা বাড়াতে পারে। এছাড়া rifampicin, isoniazid এবং corticosteroids ভিটামিন ডি-এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আলফাক্যালসিডল ব্যবহার করা উচিত নয়—
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে—
গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে আলফাক্যালসিডল ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি হলে ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। প্রাণী গবেষণায় প্রজননজনিত ক্ষতি, যেমন গর্ভধারণের হার কমে যাওয়া, বাচ্চার সংখ্যা কম হওয়া এবং কম ওজনের শিশু জন্মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আলফাক্যালসিডল দুধে নিঃসৃত হতে পারে, তাই চিকিৎসাকালীন বুকের দুধ খাওয়ানো এড়ানো উচিত।
গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, কিডনি রোগী, শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। যাদের হাইপারক্যালসিউরিয়া বা কিডনিতে পাথরের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। প্রোপিলিন গ্লাইকোলযুক্ত উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার এড়ানো উচিত।
হাড় গঠনে ব্যবহৃত ভিটামিন ডি প্রস্তুতি।
৩০°সে. এর নিচে তাপমাত্রায় শুষ্ক স্থানে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
আলফাক্যালসিডল কিসের ওষুধ?
আলফাক্যালসিডল এর কাজ কি?
আলফাক্যালসিডল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
আলফাক্যালসিডল বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় আলফাক্যালসিডল খাওয়া যাবে কি?