এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন ২ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্কদের জাপানিজ এনসেফালাইটিস প্রতিরোধের জন্য সক্রিয় টিকাদানে ব্যবহার করা হয়। এটি বিশেষভাবে তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা ভ্রমণের কারণে বা পেশাগত কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।
এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন
Generic Medicineফার্মাকোলজি
জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করে তা সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভ্যাকসিন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে এবং জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা সুরক্ষা প্রদান করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব ইঁদুরের শরীরে কমপক্ষে ১:১০ মাত্রার নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি ছিল, তারা মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত ছিল।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ থেকে ≤ ৬৫ বছর): প্রাথমিক টিকাদান সিরিজে প্রতিটি ০.৫ মি.লি. করে দুটি আলাদা ডোজ দেওয়া হয়, নিম্নলিখিত সাধারণ সূচি অনুযায়ী:
- প্রথম ডোজ: দিন ০।
- দ্বিতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের ২৮ দিন পরে।
দ্রুত সূচি: ১৮ থেকে ≤ ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত দ্রুত সূচিতে টিকা দেওয়া যেতে পারে:
- প্রথম ডোজ: দিন ০।
- দ্বিতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের ৭ দিন পরে।
উভয় সূচির ক্ষেত্রেই, জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাস (JEV)-এর সম্ভাব্য সংস্পর্শের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে প্রাথমিক টিকাদান সম্পন্ন করা উচিত। যেসব ব্যক্তি এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাদের একই ভ্যাকসিন দিয়ে ২ ডোজের পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি দুইটি ইনজেকশনের প্রাথমিক টিকাদান সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে রোগের বিরুদ্ধে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া নাও যেতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ডোজের ১১ মাস পর্যন্ত দেরিতে দেওয়া দ্বিতীয় ডোজও উচ্চ সেরোকনভার্শন হার তৈরি করতে পারে।
বুস্টার ডোজ: প্রাথমিক টিকাদানের পর দ্বিতীয় বছরের মধ্যে (অর্থাৎ ১২–২৪ মাসের মধ্যে) সম্ভাব্য পুনরায় সংস্পর্শের আগে একটি বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ডোজ) দেওয়া উচিত। যারা দীর্ঘ সময় ধরে জাপানিজ এনসেফালাইটিসের ঝুঁকিতে থাকেন (যেমন ল্যাবরেটরি কর্মী বা এন্ডেমিক এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি), তাদের প্রাথমিক টিকাদানের ১২ মাস পর একটি বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত। ১২–২৪ মাস পর প্রথম বুস্টার নেওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সংস্পর্শের আগে প্রথম বুস্টারের ১০ বছর পর দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ দেওয়া উচিত।
বয়স্ক (>৬৫ বছর): প্রাথমিক টিকাদান সিরিজে প্রতিটি ০.৫ মি.লি. করে দুটি আলাদা ডোজ দেওয়া হয়, নিম্নলিখিত সাধারণ সূচি অনুযায়ী:
- প্রথম ডোজ: দিন ০।
- দ্বিতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের ২৮ দিন পরে।
শিশু ও কিশোর: ৩ বছর থেকে <১৮ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক টিকাদান সিরিজে প্রতিটি ০.৫ মি.লি. করে দুটি ডোজ দেওয়া হয়, নিম্নলিখিত সূচি অনুযায়ী:
- প্রথম ডোজ: দিন ০।
- দ্বিতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের ২৮ দিন পরে।
২ মাস থেকে <৩ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক টিকাদান সিরিজে প্রতিটি ০.২৫ মি.লি. করে দুটি ডোজ দেওয়া হয়, নিম্নলিখিত সূচি অনুযায়ী:
- প্রথম ডোজ: দিন ০।
- দ্বিতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের ২৮ দিন পরে।
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন: ভ্যাকসিনটি ডেল্টয়েড পেশিতে ইনট্রামাসকুলার (পেশির ভেতরে) ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রদান করা উচিত। শিশুদের ক্ষেত্রে উরুর সামনের-পার্শ্ববর্তী অংশ ইনজেকশনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন কখনোই রক্তনালীর ভেতরে (ইনট্রাভাসকুলার) ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। যদি এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন অন্য ইনজেকশনযোগ্য ভ্যাকসিনের সাথে একসাথে দেওয়া হয়, তাহলে সেগুলো আলাদা সিরিঞ্জ ব্যবহার করে শরীরের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দেওয়া উচিত। বিশেষ ক্ষেত্রে, যেসব রোগীর থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বা রক্তক্ষরণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন সাবকিউটেনিয়াস (ত্বকের নিচে) দেওয়া যেতে পারে, কারণ ইনট্রামাসকুলার ইনজেকশনের পর রক্তক্ষরণ হতে পারে। তবে সাবকিউটেনিয়াসভাবে দিলে ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়া বা কার্যকারিতা কম হতে পারে। এছাড়া, সাবকিউটেনিয়াস পদ্ধতিতে দেওয়ার পক্ষে কোনো ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতা সংক্রান্ত তথ্য বর্তমানে নেই।
প্রতিনির্দেশনা
যাদের এই ভ্যাকসিনের সক্রিয় উপাদান, সহায়ক উপাদান বা অবশিষ্ট উপাদান যেমন প্রোটামিন সালফেট, ফরমালডিহাইড, বোভাইন সিরাম অ্যালবুমিন, হোস্ট সেল DNA, সোডিয়াম মেটাবাইসালফাইট বা হোস্ট সেল প্রোটিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যাবে না। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর যদি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তাহলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া উচিত নয়। তীব্র জ্বর বা গুরুতর অসুস্থতা থাকলে টিকা দেওয়া স্থগিত রাখতে হবে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
খুব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে : মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা ও সংবেদনশীলতা এবং ক্লান্তি।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে: বমিভাব, ফ্লু-এর মতো উপসর্গ, জ্বর এবং ইনজেকশনের স্থানে লালভাব, ফোলা, শক্ত হওয়া বা চুলকানি থাকতে পারে।
কম দেখা যায় এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে: বমি, ত্বকে র্যাশ, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, মাইগ্রেন, মাথা ঘোরা, ভার্টিগো, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, চুলকানি, শীত শীত লাগা, অসুস্থ লাগা, জয়েন্ট বা পেশীর শক্তভাব, দুর্বলতা এবং লিভারের পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফলাফল থাকতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের তথ্য সীমিত। প্রাণী গবেষণায় কিছু ফলাফল পাওয়া গেছে, তবে এর ক্লিনিক্যাল গুরুত্ব স্পষ্ট নয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
স্তন্যদান: এই ভ্যাকসিন মায়ের দুধে নিঃসৃত হয় কি না তা জানা যায়নি। যদিও শিশুর ওপর বড় ধরনের প্রভাব আশা করা হয় না, তবুও তথ্যের অভাবে স্তন্যদানকালীন ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রজননক্ষমতা: প্রাণী গবেষণায় নারীর প্রজনন ক্ষমতা, ভ্রূণের বৃদ্ধি বা সন্তানের বেঁচে থাকার উপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়নি।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
২ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ভ্যাকসিন, অ্যান্টিসেরা ও ইমিউনোগ্লোবুলিন।
সংরক্ষণ
২°C থেকে ৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। জমাট বাঁধানো যাবে না। আলো থেকে সুরক্ষার জন্য মূল প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন কিসের জন্য?
এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন এর কাজ কি?
এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন বেশি নিলে কি হয়?
এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?
No available drugs found