এই ইনফিউশনটি বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল অবস্থায় অ্যামিনো অ্যাসিডের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে রোগী পর্যাপ্ত পরিমাণে মুখে খাবার গ্রহণ করতে পারেন না বা মুখে খাবার দেওয়া উপযুক্ত নয়।
অ্যামিনো অ্যাসিড, ডেক্সট্রোজ এন্ড ইলেক্ট্রোলাইটস
Generic Medicineকম্পোজিশন
প্রতি ১০০ মি.লি.-তে রয়েছে:
প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড:
- এল-আইসোলিউসিন USP: ০.৬০০ গ্রাম
- এল-লিউসিন USP: ০.৭৩০ গ্রাম
- এল-লাইসিন (হাইড্রোক্লোরাইড হিসেবে) USP: ০.৫৮০ গ্রাম
- এল-মেথিওনিন USP: ০.৪০০ গ্রাম
- এল-ফেনাইলঅ্যালানিন USP: ০.৫৬০ গ্রাম
- এল-থ্রিওনিন USP: ০.৪২০ গ্রাম
- এল-ট্রিপটোফ্যান USP: ০.১৮০ গ্রাম
- এল-ভ্যালিন USP: ০.৫৮০ গ্রাম
- এল-হিস্টিডিন USP: ০.৪৮০ গ্রাম
অপ্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড:
- এল-আর্জিনিন USP: ১.১৫০ গ্রাম
- এল-অ্যালানিন USP: ২.০৭০ গ্রাম
- এল-টাইরোসিন USP: ০.০৪০ গ্রাম
- গ্লাইসিন (অ্যামিনোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড) USP: ১.০৩০ গ্রাম
- এল-প্রোলিন USP: ০.৬৮০ গ্রাম
- এল-সেরিন USP: ০.৫০০ গ্রাম
ইলেক্ট্রোলাইট:
- সোডিয়াম (Na⁺): ৭০.০
- পটাশিয়াম (K⁺): ৬০.০
- অ্যাসিটেট (CH₃COO⁻): ১৫০.০
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg²⁺): ১০.০
- ক্লোরাইড (Cl⁻): ৭০.০
- ফসফেট (HPO₄²⁻ হিসেবে): ৬০.০
কার্বোহাইড্রেট:
- অ্যানহাইড্রাস গ্লুকোজ (ডেক্সট্রোজ) BP: ২০.০০ গ্রাম
ফার্মাকোলজি
এটি একটি জীবাণুমুক্ত, হাইপারটনিক এবং নন-পাইরোজেনিক সলিউশন, যাতে অ্যামিনো অ্যাসিড, ইলেক্ট্রোলাইট এবং ডেক্সট্রোজ থাকে। পর্যাপ্ত ক্যালরির উৎস (যেমন ডেক্সট্রোজ, ফ্রুক্টোজ বা সর্বিটল) এর সাথে এটি ব্যবহার করলে নাইট্রোজেন ব্যালেন্স উন্নত হয়। শরীরের বিপাকীয় চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালরি সরবরাহ করলে নাইট্রোজেনের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়, যা সাধারণত কমপক্ষে ১৬৮ কিলোজুল/কেজি/দিন (প্রায় ৪০ কিলোক্যালরি/কেজি/দিন)।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এই সলিউশনের মোট দৈনিক ডোজ রোগীর বিপাকীয় চাহিদা এবং ক্লিনিক্যাল প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। এই ইনফিউশনের নাইট্রোজেন উপাদান এবং ক্যালোরির মান হলো-
- অ্যামিনো অ্যাসিড চেম্বার (২৫০ মি.লি.): ৪.২ গ্রাম
- ডেক্সট্রোজ চেম্বার (২৫০ মি.লি.): ৭১০ কিলোজুল (১৭০ কিলোক্যালরি)
প্রোটিনের প্রস্তাবিত দৈনিক চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শরীরের ওজন প্রতি কেজিতে প্রায় ০.৮ গ্রাম থেকে শিশুদের জন্য ২.২ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। দৈনিক অ্যামিনো অ্যাসিডের ডোজ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শরীরের ওজন প্রতি কেজিতে প্রায় ১.০ থেকে ১.৫ গ্রাম এবং শিশুদের জন্য ২ থেকে ৩ গ্রাম (যথেষ্ট ক্যালোরি থাকলে) সাধারণত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ এবং ইতিবাচক নাইট্রোজেন ভারসাম্য বজায় রাখতে যথেষ্ট।
যেসব রোগীর তরল গ্রহণ সীমিত (যেমন: কিডনি বিকলতা), তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক মোট প্রয়োগের পরিমাণ রোগীর তরল ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে হবে।
রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থার উপর নির্ভর করে ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৩ লিটার সলিউশন প্রয়োগ করা যেতে পারে। অপারেশনের পর ব্যবহার করলে, প্রথম পোস্ট-অপারেটিভ দিনে ১০০০ মি.লি. দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে, ডোজ বৃদ্ধি করে দৈনিক ৩০০০ মি.লি. পর্যন্ত করা যেতে পারে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
প্রস্তাবিত ডোজে অ্যামিনো অ্যাসিড সলিউশনের কোনো ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব নেই এবং এটি সাধারণত অন্যান্য ওষুধের সাথে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া করে না।
প্রতিনির্দেশনা
- তীব্র কিডনি বিকলতা
- গুরুতর লিভারের রোগ বা হেপাটিক কোমা
- এক বা একাধিক অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রতি অ্যালার্জি
- জন্মগত অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকজনিত সমস্যা
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
প্যারেন্টারাল পুষ্টি দেওয়ার সময় সংক্রমণের (সেপসিস) ঝুঁকি থাকে। দূষিত দ্রবণ বা ইনফিউশন যন্ত্র সংক্রমণের উৎস হতে পারে, তাই প্রস্তুতি ও ক্যাথেটার স্থাপন অবশ্যই জীবাণুমুক্ত পদ্ধতিতে করতে হবে। জ্বর দেখা দিলে দ্রবণ, ইনফিউশন সিস্টেম এবং ক্যাথেটার পরিবর্তন করতে হবে। অ্যামিনো অ্যাসিড/ডেক্সট্রোজ মিশ্রণ দ্রুত ব্যবহার করা উচিত এবং প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। সম্ভাব্য বিপাকীয় সমস্যা যেমন— মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস, অ্যালকালোসিস, হাইপোফসফাটেমিয়া, হাইপারগ্লাইসেমিয়া, গ্লাইকোসুরিয়া, অমোটিক ডাইউরেসিস, ডিহাইড্রেশন, রিবাউন্ড হাইপোগ্লাইসেমিয়া, লিভার এনজাইম বৃদ্ধি, ভিটামিনের ভারসাম্যহীনতা, ইলেক্ট্রোলাইটের সমস্যা এবং হাইপারঅ্যামোনেমিয়া দেখা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
অ্যামিনো অ্যাসিড ইনজেকশনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রাণী গবেষণা করা হয়নি। এটি ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে কিনা বা প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে কিনা তা জানা নেই। তাই গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
- এই ইনজেকশন ব্যবহারে তরল, ইলেক্ট্রোলাইট ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার সঠিক জ্ঞান প্রয়োজন
- দ্রুত ইনফিউশনে তরল অতিরিক্ত হওয়া বা অস্বাভাবিক অসমোলার অবস্থা তৈরি হতে পারে
- লিভারের রোগে অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হবে
- কিডনি সমস্যায় ইলেক্ট্রোলাইট জমার ঝুঁকির কারণে সতর্কতা প্রয়োজন
- একই লাইনে রক্তের সাথে একসাথে ইনফিউশন দেওয়া যাবে না
- রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে
- হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে
- ডায়াবেটিস বা গ্লুকোজ অসহিষ্ণুতায় সতর্ক থাকতে হবে
- লিভারের রোগে গ্লুকোজ বিপাক ব্যাহত হতে পারে
- কর্টিকোস্টেরয়েড বা কর্টিকোট্রপিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন
থেরাপিউটিক ক্লাস
প্যারেন্টারাল পুষ্টি প্রস্তুতি
সংরক্ষণ
৩০°সে. এর নিচে সংরক্ষণ করুন। সূর্যালোক থেকে দূরে রাখুন। জমিয়ে রাখবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্রস্তুত দ্রবণ দ্রুত ব্যবহার করতে হবে অথবা ২–৮°সে. তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের আগে পর্যন্ত বাইরের মোড়ক খুলবেন না। এটি অক্সিজেন ও UV রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ভেতরের ব্যাগ দ্রবণের জীবাণুমুক্ততা বজায় রাখে।
সাধারণ প্রশ্ন
অ্যামিনো অ্যাসিড, ডেক্সট্রোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটস কিসের ওষুধ?
অ্যামিনো অ্যাসিড, ডেক্সট্রোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটস এর কাজ কি?
অ্যামিনো অ্যাসিড, ডেক্সট্রোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটস এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
অ্যামিনো অ্যাসিড, ডেক্সট্রোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটস বেশি দিলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় অ্যামিনো অ্যাসিড, ডেক্সট্রোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটস ব্যবহার করা যাবে কি?
No available drugs found