অ্যামিসালপ্রাইড তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি স্কিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি পজিটিভ লক্ষণ যেমন ভ্রান্ত ধারণা, হ্যালুসিনেশন ও চিন্তার অস্বাভাবিকতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর, পাশাপাশি নেগেটিভ লক্ষণ যেমন অনুভূতির অভাব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও আগ্রহহীনতা উন্নত করতেও সাহায্য করে। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে নেগেটিভ লক্ষণ বেশি, তাদের জন্যও এটি উপযোগী।
অ্যামিসালপ্রাইড
Generic Medicineফার্মাকোলজি
অ্যামিসালপ্রাইড একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ, যা স্কিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ডোপামিন D2 ও D3 রিসেপ্টরের সাথে নির্বাচিতভাবে যুক্ত হয় এবং D4 ও D5 রিসেপ্টরের প্রতি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ দেখায় না। অন্যান্য অনেক অ্যান্টিসাইকোটিকের তুলনায় এটি সেরোটোনিন, আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক, হিস্টামিন, মুসকারিনিক ও সিগমা রিসেপ্টরের সাথে কম মাত্রায় প্রতিক্রিয়া করে। এটি সাধারণত ক্যাটালেপসি সৃষ্টি করে না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে ডোপামিন রিসেপ্টরের অতিসংবেদনশীলতা তৈরি করে না। এছাড়া এটি প্রি-সিন্যাপটিক D2/D3 রিসেপ্টর ব্লক করে, ফলে ডোপামিন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা নেগেটিভ লক্ষণ উন্নত করতে সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মৌখিক ডোজ: তীব্র সাইকোটিক এপিসোডের ক্ষেত্রে, ব্যক্তিভেদে দৈনিক ৪০০ মি.গ্রা. থেকে ৮০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত ডোজ সুপারিশ করা হয়। দৈনিক ডোজ সর্বোচ্চ ১২০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। ৮০০ মি.গ্রা. এর বেশি ডোজ কম ডোজের তুলনায় বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। Amisulpride দিয়ে চিকিৎসা শুরু করার সময় নির্দিষ্ট টাইট্রেশন প্রয়োজন হয় না। রোগীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ডোজ সমন্বয় করতে হবে। ডোজ খাবারের আগে গ্রহণ করা উত্তম। যেসব রোগীর পজিটিভ ও নেগেটিভ উভয় উপসর্গ আছে, তাদের ক্ষেত্রে পজিটিভ উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডোজ সমন্বয় করতে হবে। মেইনটেন্যান্স চিকিৎসা সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ দিয়ে ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করতে হবে। যেসব রোগীর প্রধানত নেগেটিভ উপসর্গ থাকে, তাদের জন্য দৈনিক ৫০ মি.গ্রা. থেকে ৩০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত ডোজ সুপারিশ করা হয়। ডোজ ব্যক্তিভেদে সমন্বয় করতে হবে।
ইনজেক্টেবল ডোজ: নির্দেশনা অনুযায়ী Amisulpride-এর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ইনজেক্টেবল ডোজ এবং ইনফিউশনের হার নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে:
- অপারেশনের পর বমি বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধ: অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার সময় ১ থেকে ২ মিনিটে ৫ মি.গ্রা. একবারে শিরায় ইনজেকশন হিসেবে প্রদান।
- অপারেশনের পর বমি বমি ভাব ও বমির চিকিৎসা: অস্ত্রোপচারের পর বমি বমি ভাব এবং/অথবা বমি হলে ১ থেকে ২ মিনিটে ১০ মি.গ্রা. একবারে শিরায় ইনজেকশন হিসেবে প্রদান।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
ওষুধের সাথে: অ্যামিসালপ্রাইড গ্রহণের সময় অ্যালকোহল সেবন করলে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম (CNS) ডিপ্রেশন হতে পারে, যার ফলে বিভ্রান্তি, মনোযোগের অভাব, উদ্বেগ ও ঘুমভাব দেখা দিতে পারে। তাই এই ওষুধ গ্রহণকালে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। ডিলটিয়াজেম, প্রেগাবালিন, ট্রামাডল, অ্যামিওডারোন, কুইনিডিন, ব্রোমোক্রিপটিন ও রোপিনিরোলের সাথে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। অন্যান্য অ্যান্টিসাইকোটিকের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে নিউরোলেপ্টিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম (NMS) এর ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্লোজাপিনের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে অ্যামিসালপ্রাইডের রক্তমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি নিম্নলিখিত ওষুধগুলোর প্রভাব বাড়াতে পারে:
- CNS ডিপ্রেসেন্ট (যেমন নারকোটিক, অ্যানেস্থেটিক, ব্যথানাশক, সেডেটিভ অ্যান্টিহিস্টামিন, বারবিচুরেট, বেঞ্জোডায়াজেপিন ও অন্যান্য উদ্বেগনাশক)
- ক্লোনিডিন ও এর ডেরিভেটিভ
- উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ ও অন্যান্য হাইপোটেনসিভ ওষুধ
খাদ্য ও অন্যান্য: খাবারের সাথে বা খালি পেটে গ্রহণ করা যায়, এতে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে না।
প্রতিনির্দেশনা
অ্যামিসালপ্রাইডের সক্রিয় উপাদান বা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। প্রোল্যাকটিন-নির্ভর টিউমার (যেমন পিটুইটারি প্রোল্যাকটিনোমা বা স্তন ক্যান্সার), ফিওক্রোমোসাইটোমা, বয়ঃসন্ধির আগের শিশু, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। নিম্নলিখিত ওষুধগুলোর সাথে একত্রে ব্যবহার করা যাবে না:
- ক্লাস I অ্যান্টিআ্যারিথমিক (যেমন কুইনিডিন, ডিসোপাইরামাইড)
- ক্লাস II অ্যান্টিআ্যারিথমিক (যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল)
- অন্যান্য ওষুধ যেমন বেপ্রিডিল, সিসাপ্রাইড, সুলটোপ্রাইড, থিওরিডাজিন, মেথাডোন, IV এরিথ্রোমাইসিন, IV ভিনকামিন, হ্যালোফ্যানট্রিন, পেন্টামিডিন, স্পারফ্লক্সাসিন ও লেভোডোপা লিভারের সমস্যায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ার কারণে এটি ব্যবহার এড়ানো উচিত।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ: কাঁপুনি, পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি, ধীর গতির চলাফেরা, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, অস্থিরতা, অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া (বিশেষ করে মাথা, ঘাড়, চোয়াল বা চোখ), অনিদ্রা, উদ্বেগ, ঘুমভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, মুখ শুকানো, ওজন বৃদ্ধি, নিম্ন রক্তচাপ, মাথা ঘোরা, যৌন সমস্যার সৃষ্টি, দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব এবং প্রোল্যাকটিন বৃদ্ধি।
বিরল: মুখ বা জিহ্বার অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, অস্টিওপোরোসিস বা হাড় দুর্বল হওয়া এবং অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় অ্যামিসালপ্রাইডের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে এবং ঝুঁকি বিবেচনা করে ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে সর্বনিম্ন ডোজ ও স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। এটি বুকের দুধে নিঃসৃত হয়, তাই স্তন্যদানকালে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
সতর্কতা
নিউরোলেপ্টিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম (NMS) একটি বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী অবস্থা, যা অ্যামিসালপ্রাইডসহ অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের সাথে সম্পর্কিত। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া, অটোনমিক অস্থিরতা এবং CPK বৃদ্ধি। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে—বিশেষ করে উচ্চ ডোজে—অ্যামিসালপ্রাইডসহ সব অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ বন্ধ করতে হবে। অ্যামিসালপ্রাইড খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই যাদের খিঁচুনির ইতিহাস আছে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। হঠাৎ করে উচ্চ ডোজ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে। এছাড়া আকাথিসিয়া, ডিস্টোনিয়া ও ডিসকাইনেশিয়ার মতো অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া দেখা দিতে পারে, তাই ধীরে ধীরে ডোজ কমানো উচিত। এটি রক্তে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, ফলে দুধ নিঃসরণ, মাসিক বন্ধ হওয়া, স্তন বৃদ্ধি, স্তনে ব্যথা, যৌন সমস্যা ও অক্ষমতা হতে পারে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
বয়স্কদের ক্ষেত্রে: রক্তচাপ কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুমভাবের ঝুঁকির কারণে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে: ১৮ বছরের নিচে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়। প্রয়োজন হলে ১৫–১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
লিভারের সমস্যায়: এটি খুব কম মাত্রায় মেটাবলাইজ হয়, তাই সাধারণত ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।
কিডনি সমস্যায়: অ্যামিসালপ্রাইড প্রধানত কিডনির মাধ্যমে বের হয়, তাই ডোজ কমাতে হয়। ক্রিয়াটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০–৬০ mL/min হলে অর্ধেক এবং ১০–৩০ mL/min হলে এক-তৃতীয়াংশ ডোজ দিতে হবে। গুরুতর কিডনি সমস্যায় (CRCL <10 mL/min) বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
মাত্রাধিকত্যা
অ্যামিসালপ্রাইড অতিরিক্ত গ্রহণের তথ্য সীমিত। অতিরিক্ত ডোজে এর স্বাভাবিক প্রভাব বেড়ে যেতে পারে, যেমন অতিরিক্ত ঘুমভাব, সেডেশন, নিম্ন রক্তচাপ, এক্সট্রাপিরামিডাল লক্ষণ এবং কোমা। অন্যান্য মানসিক ওষুধের সাথে একত্রে গ্রহণ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
এটিপিক্যাল নিউরোলেপ্টিক ওষুধ
সংরক্ষণ
৩০°সে. এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
অ্যামিসালপ্রাইড কিসের ওষুধ?
অ্যামিসালপ্রাইড এর কাজ কি?
অ্যামিসালপ্রাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
অ্যামিসালপ্রাইড বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় অ্যামিসালপ্রাইড খাওয়া যাবে কি?