অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহৃত হয়—
- বিষণ্নতা, বিশেষ করে যেখানে সেডেটিভ প্রভাব প্রয়োজন
- শিশুদের নক্টার্নাল এনিউরেসিস (রাতে বিছানা ভেজানো)
- মাইগ্রেন প্রতিরোধে
- টেনশন টাইপ মাথাব্যথা
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা
অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহৃত হয়—
অ্যামিট্রিপটাইলিন একটি ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, যার অ্যান্টিকোলিনার্জিক ও সেডেটিভ প্রভাব উল্লেখযোগ্য। এটি স্নায়ুর প্রান্তে নরএপিনেফ্রিন ও সেরোটোনিনের পুনঃশোষণ বাধা দেয়। মুখে গ্রহণের পর এটি দ্রুত পরিপাকতন্ত্র থেকে শোষিত হয় এবং ২–১২ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে। এটি প্রধানত মূত্রের মাধ্যমে মেটাবোলাইট আকারে বের হয়।
অ্যামিট্রিপটাইলিনের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে জানা যায়নি। ধারণা করা হয় যে এটি নরএপিনেফ্রিন ও সেরোটোনিনের পুনঃশোষণ বাধা দিয়ে মস্তিষ্কের সিন্যাপটিক ক্লেফটে এদের পরিমাণ বাড়ায়। এই নিউরোট্রান্সমিটারগুলো মুড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মোনোঅ্যামিন হাইপোথিসিস অনুযায়ী, মস্তিষ্কে সেরোটোনিন বা নরএপিনেফ্রিনের ঘাটতি বিষণ্নতার কারণ হতে পারে। অ্যামিট্রিপটাইলিন এই ভারসাম্য ঠিক করতে সাহায্য করে এবং বিষণ্নতার লক্ষণ উন্নত করে। এর ব্যথা উপশমকারী প্রভাবটি এর অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট কার্যকারিতার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বা অন্য কোনো জটিল ফার্মাকোলজিক্যাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করতে পারে, যা সম্পূর্ণরূপে নির্ধারিত নয়।
ডিপ্রেশন: শুরুতে দৈনিক ৭৫ মি.গ্রা. (বয়স্ক ও কিশোরদের জন্য ৩০-৭৫ মি.গ্রা.) ভাগ করে বা রাতে একবারে গ্রহণ করা যায়; প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে ১৫০-২০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে; ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ডিপ্রেশনে সুপারিশকৃত নয়।
নকটার্নাল এনিউরেসিস (রাতে বিছানা ভেজানো): শিশু ৭-১০ বছর: ১০-২০ মি.গ্রা., ১১-১৬ বছর: ২৫-৫০ মি.গ্রা. রাতে; চিকিৎসার সর্বোচ্চ সময়কাল (ধীরে ধীরে বন্ধসহ) ৩ মাস—পরবর্তী কোর্সের আগে সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
মাইগ্রেন প্রতিরোধ: দৈনিক ১০০ মি.গ্রা.
টেনশন হেডেক: দিনে ৩ বার ১০-২৫ মি.গ্রা.
ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (TCA) অ্যালকোহল ও অপিওয়েড ব্যথানাশকের সেডেটিভ প্রভাব বাড়িয়ে দেয়। মক্সিফ্লক্সাসিন বা টারফেনাডিনের সাথে ব্যবহার করলে ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিথমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডিসালফিরাম ও সিমেটিডিন অ্যামিট্রিপটাইলিনের বিপাক প্রক্রিয়া কমিয়ে এর রক্তমাত্রা বাড়াতে পারে। ডায়ুরেটিকের সাথে ব্যবহার করলে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়ার (postural hypotension) ঝুঁকি বাড়ে।
সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (বিশেষ করে হার্ট ব্লক), ম্যানিয়া এবং গুরুতর লিভারের রোগে অ্যামিট্রিপটাইলিন ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রাথমিকভাবে সেডেশন হওয়ায় গাড়ি চালানো বা যন্ত্র পরিচালনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় এটি ক্যাটাগরি C ওষুধ। এটি প্লাসেন্টা অতিক্রম করে। তাই মায়ের উপকার ভ্রূণের ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে তবেই ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে নিঃসৃত হয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী স্তন্যদান বন্ধ করা বা ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এপিলেপসি, গ্লুকোমা, প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা, থাইরয়েড রোগ, চোখের চাপ বৃদ্ধি এবং সাইকোসিসে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে (ম্যানিয়া বাড়তে পারে)।
ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট
৩০°সে. এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন।
অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড কিসের ওষুধ?
অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড এর কাজ কি?
অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় অ্যামিট্রিপটাইলিন হাইড্রোক্লোরাইড খাওয়া যাবে কি?
No available drugs found