অ্যামলেক্সানক্স মুখের ঘা (অ্যাফথাস আলসার) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
অ্যামলেক্সানক্স
Generic Medicineফার্মাকোলজি
অ্যামলেক্সানক্স কীভাবে মুখের ঘা দ্রুত ভালো করে তা সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মাস্ট সেল, নিউট্রোফিল ও মনোনিউক্লিয়ার কোষ থেকে হিস্টামিন ও লিউকোট্রিনের মতো প্রদাহজনক পদার্থের সৃষ্টি ও নিঃসরণ কমাতে কার্যকর। প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যামলেক্সানক্সে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-অ্যালার্জিক গুণ রয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত উভয় ধরনের হাইপারসেন্সিটিভিটি প্রতিক্রিয়া দমন করতে পারে। তবে এই প্রভাবগুলো মুখের ঘায়ে কীভাবে কাজ করে তা পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। ১০০ মি.গ্রা. পেস্ট (যাতে ৫ মি.গ্রা. অ্যামলেক্সানক্স থাকে) একবার প্রয়োগের পর প্রায় ২.৪ ঘণ্টায় রক্তে সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া যায়। অধিকাংশ ওষুধ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হয় এবং অল্প অংশ সরাসরি আলসার থেকে শোষিত হয়। সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর অর্ধ-জীবন প্রায় ৩.৫ ± ১.১ ঘণ্টা।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- অ্যাফথাস আলসারের উপসর্গ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব পেস্টটি ব্যবহার করুন। প্রতিদিন চারবার ব্যবহার চালিয়ে যান, বিশেষ করে সকাল, দুপুর, রাতের খাবারের পর এবং ঘুমানোর আগে মুখের পরিচর্যার পর ব্যবহার করা উত্তম।
- নরম ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে চাপ দিয়ে আলসার শুকিয়ে নিন।
- প্রয়োগের আগে হাত ধুয়ে নিন।
- তর্জনী আঙুলের ডগা সামান্য ভিজিয়ে নিন।
- আঙুলের ডগায় প্রায় ¼ ইঞ্চি (০.৫ সেমি) পরিমাণ পেস্ট নিন।
- আলতোভাবে পেস্টটি আলসারের উপর লাগান। একাধিক আলসার থাকলে একই প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করুন।
- প্রয়োগের পর হাত ধুয়ে নিন।
- পেস্ট চোখে লাগলে দ্রুত চোখ ধুয়ে ফেলুন।
- আলসার সেরে না ওঠা পর্যন্ত পেস্ট ব্যবহার করুন। ১০ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা ব্যথা কম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব রোগীর অ্যামলেক্সানক্স বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
প্রায় ১–২% রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগস্থানে সাময়িক ব্যথা, জ্বালা বা পোড়া অনুভূতি হতে পারে। কম ক্ষেত্রে (<১%) কন্টাক্ট মিউকোসাইটিস, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়া দেখা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
US FDA অনুযায়ী এটি ক্যাটাগরি B ওষুধ। প্রাণী পরীক্ষায় মানুষের ডোজের তুলনায় ২০০–৬০০ গুণ বেশি মাত্রায় কোনো ভ্রূণের ক্ষতি দেখা যায়নি। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গবেষণা নেই, তাই প্রয়োজন হলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। এটি স্তন্যদানকারী প্রাণীর দুধে পাওয়া গেছে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
সতর্কতা
আঙুল দিয়ে সরাসরি আলসারে অ্যামলেক্সানক্স পেস্ট লাগানোর পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। যদি র্যাশ বা কন্টাক্ট মিউকোসাইটিস দেখা দেয়, তাহলে ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের জন্য অ্যামলেক্সানক্স ওরাল পেস্টের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মাত্রাধিকত্যা
৫ গ্রাম পেস্টের পুরো টিউব খেয়ে ফেললে শরীরে এর মাত্রা প্রাণীতে নির্ধারিত সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রার তুলনায় অনেক কম থাকে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণে ডায়রিয়া ও বমির মতো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
সংরক্ষণ
ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
অ্যামলেক্সানক্স কিসের ওষুধ?
অ্যামলেক্সানক্স এর কাজ কি?
অ্যামলেক্সানক্স এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
অ্যামলেক্সানক্স বেশি ব্যবহার করলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় অ্যামলেক্সানক্স ব্যবহার করা যাবে কি?