Loading...

অ্যামলোডিপিন বেসিলেট + বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড

Generic Medicine
নির্দেশনা

এই যৌগিক ওষুধটি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে নতুন রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

ফার্মাকোলজি

অ্যামলোডিপিন ও বেনাজেপ্রিলের এই যৌগিক ওষুধটি ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজ করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। বেনাজেপ্রিল এবং এর সক্রিয় মেটাবোলাইট বেনাজেপ্রিল্যাট ACE (অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম) ব্লক করে, যার ফলে অ্যাঞ্জিওটেনসিন II উৎপাদন কমে যায়। এর ফলে রক্তনালী সংকোচন ও অ্যালডোস্টেরন নিঃসরণ হ্রাস পায়। যদিও এটি মূলত রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন সিস্টেম দমন করে কাজ করে, তবুও কম রেনিনযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি রক্তচাপ কমাতে সক্ষম। অ্যামলোডিপিন একটি ডাইহাইড্রোপাইরিডিন ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, যা রক্তনালীর মসৃণ পেশী ও হৃদপেশীতে ক্যালসিয়াম প্রবেশ কমায়। এটি প্রধানত রক্তনালীর পেশীতে কাজ করে এবং ভাসোডাইলেশন ঘটিয়ে রক্তনালীর প্রতিরোধ কমায়, ফলে রক্তচাপ হ্রাস পায়।

এই যৌগিক ওষুধ থেকে বেনাজেপ্রিল ও অ্যামলোডিপিনের শোষণ পৃথক ওষুধের মতোই হয়। মুখে গ্রহণের পর বেনাজেপ্রিল ০.৫–২ ঘণ্টার মধ্যে এবং অ্যামলোডিপিন ৬–১২ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ রক্তমাত্রায় পৌঁছে। অ্যামলোডিপিনের শোষণ প্রায় ৬৪–৯০%। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে একবার এই ওষুধ গ্রহণ করলে ১ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে এবং ২–৮ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রভাব দেখা যায়। এর প্রভাব প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

অ্যামলোডিপিন উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় দিনে একবার ২.৫-১০ মি.গ্রা. ডোজে কার্যকর, আর বেনাজেপ্রিল ১০-৮০ মি.গ্রা. ডোজে কার্যকর।

এই ক্যাপসুল দিয়ে চিকিৎসা সাধারণত তখনই শুরু করা উচিত যখন

  • রোগী একক ওষুধে কাঙ্ক্ষিত অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ
  • ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয় অথবা অ্যামলোডিপিন এককভাবে ব্যবহার করলে পর্যাপ্ত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ফোলা (এডিমা) তৈরি হয়।

ক্লিনিক্যাল প্রভাব অনুযায়ী ডোজ সমন্বয়: যেসব রোগীর রক্তচাপ শুধুমাত্র অ্যামলোডিপিন (বা অন্য ডাইহাইড্রোপাইরিডিন) বা শুধুমাত্র বেনাজেপ্রিল (বা অন্য ACE ইনহিবিটার) দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আসে না, তাদের এই ক্যাপসুলের সমন্বিত থেরাপিতে পরিবর্তন করা যেতে পারে। সব রোগীই অ্যামলোডিপিনজনিত এডিমা কমার সুবিধা পেতে পারেন। ডোজ ক্লিনিক্যাল প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে; বেনাজেপ্রিল ও অ্যামলোডিপিনের স্থিতিশীল মাত্রা যথাক্রমে প্রায় ২ ও ৭ দিনের মধ্যে অর্জিত হয়।

যেসব রোগীর রক্তচাপ অ্যামলোডিপিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হলেও অসহনীয় এডিমা হয়, তাদের ক্ষেত্রে সমন্বিত থেরাপি এডিমা ছাড়াই সমান বা ভালো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে। বিশেষ করে নন-ব্ল্যাক রোগীদের ক্ষেত্রে, বেনাজেপ্রিল যুক্ত করার সময় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে অ্যামলোডিপিনের ডোজ কমানো যুক্তিযুক্ত হতে পারে।

বিকল্প থেরাপি: সুবিধার জন্য, যারা আলাদা ট্যাবলেটে অ্যামলোডিপিন ও বেনাজেপ্রিল গ্রহণ করছেন, তারা একই উপাদানের ডোজযুক্ত এই ক্যাপসুল গ্রহণ করতে পারেন। ছোট গঠনের, বয়স্ক বা যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, একক থেরাপি বা সমন্বিত থেরাপির অংশ হিসেবে অ্যামলোডিপিনের প্রাথমিক প্রস্তাবিত ডোজ ২.৫ মি.গ্রা।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ডায়ুরেটিকস: যেসব রোগী ডায়ুরেটিক ব্যবহার করছেন, বিশেষ করে নতুনভাবে শুরু করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে Benazepril/Amlodipine শুরু করলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।

পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট ও পটাশিয়াম-সংরক্ষণকারী ডায়ুরেটিকস: বেনাজেপ্রিল থায়াজাইড ডায়ুরেটিকের কারণে পটাশিয়াম ক্ষয় কমাতে পারে। তবে স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, ট্রাইঅ্যামটারিন ইত্যাদি বা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাথে ব্যবহার করলে হাইপারকালেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই একসাথে ব্যবহার করলে নিয়মিত পটাশিয়াম পরীক্ষা করতে হবে।

অন্যান্য: বেনাজেপ্রিল অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, বিটা-ব্লকার, ক্যালসিয়াম ব্লকার, সিমেটিডিন, ডায়ুরেটিক, ডিগক্সিন, হাইড্রালাজিন এবং ন্যাপ্রোক্সেনের সাথে উল্লেখযোগ্য সমস্যা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।

অ্যামলোডিপিনও থায়াজাইড ডায়ুরেটিক, বিটা-ব্লকার, ACE ইনহিবিটর, নাইট্রেট, সাবলিঙ্গুয়াল নাইট্রোগ্লিসারিন, ডিগক্সিন, ওয়ারফারিন, NSAIDs, অ্যান্টিবায়োটিক এবং ওরাল অ্যান্টিডায়াবেটিকের সাথে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর বেনাজেপ্রিল, অন্যান্য ACE ইনহিবিটর বা অ্যামলোডিপিনে অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Benazepril/Amlodipine উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে সাধারণত নিরাপদ ও সহনীয়। অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হালকা ও সাময়িক এবং বয়স, লিঙ্গ বা চিকিৎসার সময়কাল অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় না। অল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে কাশি ও শরীর ফোলা (এডিমা)-এর কারণে ওষুধ বন্ধ করতে হয়েছে। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে কাশি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং পা ফুলে যাওয়া।

এডিমা সাধারণত অ্যামলোডিপিন এককভাবে ব্যবহারে বেশি দেখা যায় এবং মহিলাদের মধ্যে বেশি হতে পারে। বেনাজেপ্রিল যুক্ত করলে এডিমার ঝুঁকি কিছুটা কমে।

বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অ্যাঞ্জিওএডিমা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, অনিদ্রা, উদ্বেগ, কাঁপুনি, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, ফ্লাশিং, ত্বকের র‍্যাশ, ডার্মাটাইটিস, মুখ শুকানো, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, হজমের সমস্যা, ইসোফেজাইটিস, হাইপোক্যালেমিয়া এবং ফ্যারিঞ্জাইটিস।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

এই ওষুধটি গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে ক্যাটাগরি C এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ক্যাটাগরি D এর অন্তর্ভুক্ত। ACE ইনহিবিটর গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করলে ভ্রূণ ও নবজাতকের জন্য মারাত্মক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এ ধরনের বহু ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। গর্ভাবস্থা শনাক্ত হলে দ্রুত এই ওষুধ বন্ধ করতে হবে।

বেনাজেপ্রিল ও এর সক্রিয় মেটাবোলাইট অল্প পরিমাণে মায়ের দুধে নিঃসৃত হয়, তবে শিশুর শরীরে প্রবেশের পরিমাণ মায়ের ডোজের ০.১% এর কম। অ্যামলোডিপিন বুকের দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। তাই নিরাপত্তার অভাবে এই ওষুধ গ্রহণকালে স্তন্যদান বন্ধ রাখা উচিত।

সতর্কতা

কিডনি সমস্যা: গুরুতর কিডনি রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

হাইপারকালেমিয়া: রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যেতে পারে, তবে সাধারণত এটি উল্টানো সম্ভব।

লিভারের সমস্যা: অ্যামলোডিপিন লিভারে ব্যাপকভাবে বিপাক হয় এবং লিভার রোগে এর অর্ধ-জীবন বেড়ে যেতে পারে, তাই গুরুতর লিভার রোগে সতর্কতা প্রয়োজন।

কাশি: ACE ইনহিবিটর ব্যবহারে দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে, যা বিবেচনায় রাখতে হবে।

অপারেশন/অ্যানেস্থেসিয়া: অপারেশনের সময় বা অ্যানেস্থেসিয়ার ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, যা প্রয়োজনে তরল (fluid) দিয়ে ঠিক করা যায়।

ক্যান্সার/মিউটেশন/প্রজনন: এই ওষুধে ক্যান্সার সৃষ্টি, জিনগত পরিবর্তন বা প্রজননক্ষমতার ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক ও তরুণ রোগীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ায় বড় পার্থক্য দেখা যায়নি, তবে কিছু বয়স্ক রোগী বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন।

শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

মাত্রাধিকত্যা

এই নির্দিষ্ট যৌগিক ওষুধের অতিরিক্ত ডোজের কোনো রিপোর্ট নেই। বেনাজেপ্রিল বা অন্যান্য ACE ইনহিবিটরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোজে মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল।

থেরাপিউটিক ক্লাস

মন্বিত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ

সংরক্ষণ

২৫°সে. এর নিচে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

অ্যামলোডিপিন বেসিলেট + বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড কিসের ওষুধ?

অ্যামলোডিপিন বেসিলেট + বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড এর কাজ কি?

অ্যামলোডিপিন বেসিলেট + বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

অ্যামলোডিপিন বেসিলেট + বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড বেশি খেলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় অ্যামলোডিপিন বেসিলেট + বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড খাওয়া যাবে কি?

Capsule
Amlozep
Capsule
25 mg+10 mg
Beacon Pharmaceuticals PLC
Unit Price: ৳ 6.04
Capsule
Amocal-BZ
Capsule
25 mg+10 mg
Opsonin Pharma Ltd.
Unit Price: ৳ 6.02
Capsule
Benadip
Capsule
25 mg+10 mg
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Unit Price: ৳ 6.00
Tablet
Benadip
Tablet
10 mg+20 mg
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Unit Price: ৳ 10.00
Capsule
Benadip
Capsule
5 mg+20 mg
Incepta Pharmaceuticals Ltd.
Unit Price: ৳ 8.00
Tablet
Camlopril
Tablet
2.5 mg+10 mg
Square Pharmaceuticals PLC
Unit Price: ৳ 4.03
Capsule
Camlopril
Capsule
5 mg+10 mg
Square Pharmaceuticals PLC
Unit Price: ৳ 6.04
Capsule
Camlopril
Capsule
5 mg+20 mg
Square Pharmaceuticals PLC
Unit Price: ৳ 8.06
Capsule
Camlopril
Capsule
10 mg+20 mg
Square Pharmaceuticals PLC
Unit Price: ৳ 10.07
  View in English