প্রতি ০.৫ মি.লি. ডোজে নিম্নোক্ত ২৩টি নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড সেরোটাইপের প্রতিটির ২৫ মাইক্রোগ্রাম থাকে: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬B, ৭F, ৮, ৯N, ৯V, ১০A, ১১A, ১২F, ১৪, ১৫B, ১৭F, ১৮C, ১৯F, ১৯A, ২০, ২২F, ২৩F, ৩৩F। এই ভ্যাকসিনটি ২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের নিউমোকক্কাল রোগের বিরুদ্ধে সক্রিয় রোগ প্রতিরোধের জন্য নির্দেশিত।
পলিস্যাকারাইড নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন
Generic Medicineফার্মাকোলজি
এই ভ্যাকসিনটি ২৩টি সেরোটাইপ থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত নিউমোকক্কাল ক্যাপসুলার পলিস্যাকারাইড অ্যান্টিজেন দ্বারা প্রস্তুত, যা প্রায় ৯০% আক্রমণাত্মক নিউমোকক্কাল রোগের জন্য দায়ী। অন্তর্ভুক্ত সেরোটাইপগুলো হলো: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬B, ৭F, ৮, ৯N, ৯V, ১০A, ১১A, ১২F, ১৪, ১৫B, ১৭F, ১৮C, ১৯F, ১৯A, ২০, ২২F, ২৩F, ৩৩F।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাথমিক টিকাদান:
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী শিশু: ০.৫ মি.লি. একক ডোজ ইন্ট্রামাসকুলার বা সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই ভ্যাকসিন সুপারিশ করা হয় না, কারণ এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয় এবং প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দুর্বল হতে পারে।
বিশেষ ডোজিং:
- ইলেকটিভ স্প্লেনেকটমি বা কেমোথেরাপি/ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা শুরুর অন্তত দুই সপ্তাহ আগে ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির সময় টিকাদান এড়ানো উচিত।
- ক্যান্সারজনিত চিকিৎসা (কেমোথেরাপি/রেডিওথেরাপি) শেষ হওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া কম থাকতে পারে। তাই চিকিৎসা শেষ হওয়ার কমপক্ষে তিন মাস পর ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি বা তীব্র চিকিৎসা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।
- উপসর্গযুক্ত বা উপসর্গহীন HIV আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব টিকাদান করা উচিত।
পুনঃটিকাদান:
- ০.৫ মি.লি. একক ডোজ ইন্ট্রামাসকুলার বা সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশন হিসেবে প্রদান করা হয়।
- পুনঃটিকাদানের সময় ও প্রয়োজনীয়তা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।
- তিন বছরের কম ব্যবধানে পুনঃটিকাদান সুপারিশ করা হয় না, কারণ এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পুনঃটিকাদান করলে স্থানীয় ও সিস্টেমিক প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যেতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক: সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত পুনঃটিকাদান প্রয়োজন নেই। তবে গুরুতর নিউমোকক্কাল সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা বা যাদের অ্যান্টিবডির মাত্রা দ্রুত কমে যায়, তাদের ক্ষেত্রে পুনঃটিকাদান বিবেচনা করা যেতে পারে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে (যেমন স্প্লিন না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে) ৩ বছর পর পুনঃটিকাদান করা যেতে পারে।
শিশু: সুস্থ শিশুদের নিয়মিত পুনঃটিকাদান প্রয়োজন নেই।
১০ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশু: প্রাপ্তবয়স্কদের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃটিকাদান বিবেচনা করা যেতে পারে।
২ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু: উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে (যেমন নেফ্রোটিক সিনড্রোম, স্প্লিন না থাকা বা সিকল সেল রোগ) ৩ বছর পর পুনঃটিকাদান বিবেচনা করা যেতে পারে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের সাথে একই সময়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে আলাদা সিরিঞ্জ এবং ভিন্ন ইনজেকশন স্থানে প্রয়োগ করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
এই ভ্যাকসিন নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত নয়:
- ভ্যাকসিনের কোনো উপাদানের প্রতি পরিচিত অ্যালার্জি বা অতিসংবেদনশীলতা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
- জ্বর, তীব্র সংক্রমণ বা সক্রিয় পর্যায়ে থাকা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
- নিয়ন্ত্রণহীন মৃগী বা স্নায়ুতন্ত্রের অগ্রগতিশীল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
- স্পষ্ট প্রয়োজন না থাকলে ৩ বছরের মধ্যে পুনঃটিকাদান করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন গ্রহণের পর ১০% এর বেশি ব্যক্তির মধ্যে যে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা গেছে, সেগুলো হলো: ইনজেকশন স্থানে ব্যথা বা স্পর্শকাতরতা (৬০.০%), ফোলা বা শক্ত হয়ে যাওয়া (২০.৩%), মাথাব্যথা (১৭.৬%), ইনজেকশন স্থানে লালচে ভাব (১৬.৪%), ক্লান্তি ও দুর্বলতা (১৩.২%) এবং পেশী ব্যথা (১১.৯%)।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রজননজনিত বিষক্রিয়ার উপর প্রভাব নির্ধারণের জন্য প্রাণীভিত্তিক গবেষণা পর্যাপ্ত নয়। গর্ভাবস্থায় ভ্যাকসিনটি ব্যবহার করা উচিত নয়, যদি না তা অত্যাবশ্যক হয় এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। এই ভ্যাকসিন মানব দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা নেই। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করা উচিত। উর্বরতা সংক্রান্ত গবেষণায় এই ভ্যাকসিন মূল্যায়ন করা হয়নি।
সতর্কতা
উচ্চ মাত্রার জ্বর, সক্রিয় সংক্রমণ বা এমন কোনো অবস্থায় যেখানে সিস্টেমিক প্রতিক্রিয়া গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, সে ক্ষেত্রে টিকাদান বিলম্বিত করা উচিত—যদি না বিলম্ব করলে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ভ্যাকসিন কখনোই রক্তনালীর ভেতরে (ইন্ট্রাভাসকুলার) প্রয়োগ করা যাবে না এবং নিশ্চিত করতে হবে যে সূঁচটি রক্তনালীতে প্রবেশ না করে। ইন্ট্রাডার্মালভাবে প্রয়োগও এড়ানো উচিত, কারণ এতে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে। যেসব ব্যক্তি রোগ বা চিকিৎসা (যেমন কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি) এর কারণে ইমিউনো-কমপ্রোমাইজড, তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর প্রত্যাশিত অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া কম হতে পারে। ফলে তারা সুস্থ ব্যক্তিদের মতো সম্পূর্ণ সুরক্ষা নাও পেতে পারেন। ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপির পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সময়কাল রোগ ও চিকিৎসার উপর নির্ভর করে। সাধারণত চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া উন্নত হতে দেখা যায়, বিশেষ করে চিকিৎসা শেষ হওয়া ও টিকাদানের মধ্যে ব্যবধান বেশি হলে।
অন্যান্য ভ্যাকসিনের মতো, সম্ভাব্য অ্যানাফাইল্যাক্টিক প্রতিক্রিয়া মোকাবিলার জন্য ইপিনেফ্রিন (অ্যাড্রেনালিন)সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা উচিত। নিউমোকক্কাল সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি টিকাদানের পর বন্ধ করা উচিত নয়। গুরুতর নিউমোকক্কাল সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের (যেমন স্প্লিন না থাকা বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপি গ্রহণকারী) হঠাৎ তীব্র জ্বর দেখা দিলে দ্রুত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে—এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া উচিত। বেসিলার স্কাল ফ্র্যাকচার বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের সাথে বাহ্যিক যোগাযোগজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিন কার্যকর নাও হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ভ্যাকসিন, অ্যান্টি-সেরা ও ইমিউনোগ্লোবুলিন
সংরক্ষণ
২°C থেকে ৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। ভায়ালকে আলো থেকে সুরক্ষিত রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
পলিস্যাকারাইড নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন কিসের ওষুধ?
পলিস্যাকারাইড নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন এর কাজ কি?
পলিস্যাকারাইড নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?
পলিস্যাকারাইড নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন বেশি নিলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় পলিস্যাকারাইড নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে কি?