অ্যাপ্রেমিলাস্ট প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের সক্রিয় সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস এবং মাঝারি থেকে গুরুতর প্লাক সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যারা ফোটোথেরাপি বা সিস্টেমিক চিকিৎসার উপযুক্ত।
অ্যাপ্রেমিলাস্ট
Generic Medicineফার্মাকোলজি
অ্যাপ্রেমিলাস্ট একটি মুখে খাওয়ার উপযোগী PDE-4 ইনহিবিটার। এই এনজাইমটি মূলত প্রদাহজনিত কোষে থাকে এবং cAMP ভেঙে ফেলে। PDE-4 ইনহিবিশনের মাধ্যমে অ্যাপ্রেমিলাস্ট কোষের ভেতরে cAMP এর মাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে TNF-alpha, ইন্টারলিউকিন, ইন্টারফেরন-গামা, লিউকোট্রিন এবং নাইট্রিক অক্সাইড সিন্থেজের মতো প্রদাহজনক উপাদানের উৎপাদন কমে যায়। এর মাধ্যমে শরীরে প্রদাহজনিত ও প্রতিপ্রদাহজনিত সিগনালের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এপ্রেমিলাস্টের প্রাথমিক ডোজ টাইট্রেশন Day 1 থেকে Day 5 পর্যন্ত নিচে দেওয়া হলো। ৫ দিনের টাইট্রেশনের পর Day 6 থেকে দিনে দুইবার ৩০ মি.গ্রা. মেইনটেন্যান্স ডোজ মুখে গ্রহণ করতে হবে। এই টাইট্রেশন প্রাথমিক থেরাপির সাথে সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য করা হয়। এপ্রেমিলাস্ট খাবারের সাথে বা ছাড়া গ্রহণ করা যেতে পারে।
Day 1: সকালে ১০ মি.গ্রা.
Day 2: সকালে ১০ মি.গ্রা. এবং সন্ধ্যায় ১০ মি.গ্রা.
Day 3: সকালে ১০ মি.গ্রা. এবং সন্ধ্যায় ২০ মি.গ্রা.
Day 4: সকালে ২০ মি.গ্রা. এবং সন্ধ্যায় ২০ মি.গ্রা.
Day 5: সকালে ২০ মি.গ্রা. এবং সন্ধ্যায় ৩০ মি.গ্রা.
Day 6: দিনে দুইবার ৩০ মি.গ্রা.
গুরুতর কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ সমন্বয়: গুরুতর কিডনি সমস্যায় এপ্রেমিলাস্টের ডোজ কমিয়ে দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. করতে হবে। প্রাথমিক ডোজ টাইট্রেশনের সময় শুধুমাত্র সকালের ডোজ ব্যবহার করার এবং সন্ধ্যার ডোজ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অ্যাপ্রেমিলাস্ট শক্তিশালী CYP450 এনজাইম ইনডিউসার যেমন রিফ্যাম্পিনের সাথে ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। তাই রিফ্যাম্পিন, ফেনোবারবিটাল, কার্বামাজেপিন, ফেনাইটয়েনের মতো ওষুধের সাথে একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব রোগীর অ্যাপ্রেমিলাস্ট বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ও মাথাব্যথা। এছাড়া শ্বাসনালীর সংক্রমণ, বমি, ন্যাসোফ্যারিঞ্জাইটিস, পেট ব্যথা, অ্যালার্জি, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, কাশি, ফুসকুড়ি ও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় এটি ক্যাটাগরি C। এটি মায়ের দুধে যায় কিনা জানা যায়নি, তবে প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। তাই স্তন্যদানকালে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
অ্যাপ্রেমিলাস্ট ব্যবহারে ডিপ্রেশন ও মানসিক পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকতে পারে। রোগী ও পরিবারের সদস্যদের এসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শরীরের ওজন ৫–১০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে, তাই এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনো নিশ্চিত নয়।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ডিজিজ-মডিফাইং অ্যান্টিরিউম্যাটিক ড্রাগ (DMARD)।
সংরক্ষণ
শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
অ্যাপ্রেমিলাস্ট কিসের ওষুধ?
অ্যাপ্রেমিলাস্ট এর কাজ কি?
অ্যাপ্রেমিলাস্ট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
অ্যাপ্রেমিলাস্ট বেশি খেলে কি হয় ?
গর্ভাবস্থায় অ্যাপ্রেমিলাস্ট খাওয়া যাবে কি?
No available drugs found