Loading...

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন

Generic Medicine
নির্দেশনা

যেসব ব্যক্তির রেবিস ভাইরাসে সংক্রমণের সন্দেহ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রেবিস প্রতিরোধে (প্যাসিভ ইমিউনাইজেশন বা অ্যান্টিবডি সরবরাহের মাধ্যমে) এটি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে গুরুতর এক্সপোজারের ক্ষেত্রে, যেমন—

  • একাধিক গভীর কামড় বা আঁচড়

  • লালার মাধ্যমে মিউকাস মেমব্রেন (চোখ, মুখ ইত্যাদি) দূষিত হওয়া

  • মুখ, মাথা, ঘাড় বা হাতে গুরুতর কামড়

  • গৃহপালিত বা বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ, যাকে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, অথবা রেবিস আক্রান্ত/সন্দেহভাজন

  • ছোট শিশুদের কামড়ের ক্ষেত্রে

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন আক্রান্ত বা সম্ভাব্য আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শের পর তাৎক্ষণিক সুরক্ষা প্রদান করে। তবে এটি সবসময় রেবিস ভ্যাকসিনের সাথে একসাথে দিতে হবে। এটি ভ্যাকসিনের বিকল্প নয় এবং একক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাথমিক চিকিৎসা:রেবিস ভাইরাস দ্বারা দূষিত হতে পারে এমন কামড় বা আঁচড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংস্পর্শের পর কত সময় পেরিয়েছে তা বিবেচ্য নয়। ক্ষতস্থান ভালোভাবে সাবান, পানি, ডিটারজেন্ট বা ভাইরাস ধ্বংসকারী উপাদান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন প্রয়োগ করা উচিত।

প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্য প্রস্তাবিত ডোজ হলো ৪০ IU/কেজি দেহের ওজন। সম্ভব হলে ডোজের যতটা অংশ সম্ভব ক্ষতের ভিতরে ও চারপাশে ইনফিলট্রেট করতে হবে এবং অবশিষ্ট অংশ একবারে ইন্ট্রামাসকুলারভাবে (সাধারণত গ্লুটিয়াল অঞ্চলে) দিতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে একাধিক ক্ষত থাকলে, ডোজ ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে ২–৩ গুণ পর্যন্ত মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যাতে সব ক্ষতে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়। আঙুলের ডগার মতো সংবেদনশীল স্থানে ইনফিলট্রেশন সতর্কতার সাথে করতে হবে যাতে টিস্যুর উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

রেবিস প্রতিরোধে রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন ও ভ্যাকসিন একত্রে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন ইমিউনোগ্লোবুলিনের সাথে একই সময়ে দিতে হবে, তবে শরীরের ভিন্ন স্থানে। যদি ইমিউনোগ্লোবুলিন তখন পাওয়া না যায়, তবে প্রথম ভ্যাকসিন ডোজের ৭ম বা ৮ম দিনের মধ্যে দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি-টিটেনাস ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিৎসাও শুরু করতে হবে।

রেবিস সংক্রান্ত WHO বিশেষজ্ঞ কমিটি নিম্নোক্ত চিকিৎসা নির্দেশনা প্রদান করেছে:
সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত রেবিস আক্রান্ত গৃহপালিত বা বন্য প্রাণীর সাথে সংস্পর্শের ধরণ (বা পর্যবেক্ষণের জন্য উপলব্ধ নয় এমন প্রাণী) অনুযায়ী ক্যাটাগরি ভিত্তিক প্রস্তাবিত চিকিৎসা ব্যবস্থা:

  • প্রাণীকে স্পর্শ করা বা খাওয়ানো, বা অক্ষত ত্বকে চাটা: নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থাকলে কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন নেই।
  • সামান্য আঁচড়, ত্বকে কামড় কিন্তু রক্তপাত নেই, বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে চাটা: অবিলম্বে ০, ৩, ৭, ১৪ ও ২৮ দিনে রেবিস ভ্যাকসিন দিতে হবে। ১০ দিন পর্যবেক্ষণে প্রাণী সুস্থ থাকলে বা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে চিকিৎসা বন্ধ করা যেতে পারে।

এক বা একাধিক গভীর কামড় বা আঁচড় (বিশেষ করে মাথা, গলা, কাঁধ, হাত ইত্যাদিতে), বা মিউকাস মেমব্রেনে লালা লাগা: ০, ৩, ৭, ১৪ ও ২৮ দিনে রেবিস ভ্যাকসিনের সাথে ০ দিনে রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দিতে হবে। প্রাণী সুস্থ থাকলে বা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে চিকিৎসা বন্ধ করা যেতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ঘোড়ার প্রোটিনের প্রতি অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে এটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তবে রেবিসের প্রাণঘাতী ঝুঁকির কারণে এই নিষেধাজ্ঞা সবসময় প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন প্রয়োগের পর তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত অতিসংবেদনশীলতার প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নিম্ন রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট এবং আর্টিকারিয়া থাকতে পারে। বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে প্রদাহ, জ্বর, চুলকানি, র‍্যাশ বা আর্টিকারিয়া, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া (অ্যাডেনোপ্যাথি) এবং জয়েন্টে ব্যথা (আর্থ্রালজিয়া) অন্তর্ভুক্ত।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিনের নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল তথ্য নেই। তবে রেবিসের মারাত্মক ঝুঁকির কারণে সংস্পর্শের পর গর্ভাবস্থা ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কারণ নয়।

সতর্কতা

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন কখনোই শিরার মধ্যে (ইন্ট্রাভেনাস) দেওয়া যাবে না, কারণ এতে শকের (হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া) ঝুঁকি রয়েছে। নিশ্চিত করতে হবে যে সূঁচ রক্তনালীতে প্রবেশ না করে। টিকাদান শুরু হওয়ার পর পুনরায় ডোজ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ব্যবহারের আগে হালকা করে ঝাঁকান; জোরে ঝাঁকানো যাবে না।

মাত্রাধিকত্যা

প্রস্তাবিত মাত্রা অনুসরণ না করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ভ্যাকসিন, অ্যান্টিসেরা ও ইমিউনোগ্লোবুলিন

সংরক্ষণ

শিশুদের নাগালের বাইরে এবং দৃষ্টির বাইরে রাখুন। ২°C থেকে ৮°C তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। পরিবহনকালেও একই তাপমাত্রা বজায় রাখতে হবে। আলো থেকে সুরক্ষিত রাখুন। জমিয়ে রাখবেন না।

সাধারণ প্রশ্ন

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন কিসের ওষুধ?

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন এর কাজ কি?

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?

রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন বেশি দিলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন নেওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English