প্রাথমিক চিকিৎসা:রেবিস ভাইরাস দ্বারা দূষিত হতে পারে এমন কামড় বা আঁচড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংস্পর্শের পর কত সময় পেরিয়েছে তা বিবেচ্য নয়। ক্ষতস্থান ভালোভাবে সাবান, পানি, ডিটারজেন্ট বা ভাইরাস ধ্বংসকারী উপাদান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন প্রয়োগ করা উচিত।
প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্য প্রস্তাবিত ডোজ হলো ৪০ IU/কেজি দেহের ওজন। সম্ভব হলে ডোজের যতটা অংশ সম্ভব ক্ষতের ভিতরে ও চারপাশে ইনফিলট্রেট করতে হবে এবং অবশিষ্ট অংশ একবারে ইন্ট্রামাসকুলারভাবে (সাধারণত গ্লুটিয়াল অঞ্চলে) দিতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে একাধিক ক্ষত থাকলে, ডোজ ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে ২–৩ গুণ পর্যন্ত মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যাতে সব ক্ষতে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়। আঙুলের ডগার মতো সংবেদনশীল স্থানে ইনফিলট্রেশন সতর্কতার সাথে করতে হবে যাতে টিস্যুর উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
রেবিস প্রতিরোধে রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন ও ভ্যাকসিন একত্রে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন ইমিউনোগ্লোবুলিনের সাথে একই সময়ে দিতে হবে, তবে শরীরের ভিন্ন স্থানে। যদি ইমিউনোগ্লোবুলিন তখন পাওয়া না যায়, তবে প্রথম ভ্যাকসিন ডোজের ৭ম বা ৮ম দিনের মধ্যে দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি-টিটেনাস ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিৎসাও শুরু করতে হবে।
রেবিস সংক্রান্ত WHO বিশেষজ্ঞ কমিটি নিম্নোক্ত চিকিৎসা নির্দেশনা প্রদান করেছে:
সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত রেবিস আক্রান্ত গৃহপালিত বা বন্য প্রাণীর সাথে সংস্পর্শের ধরণ (বা পর্যবেক্ষণের জন্য উপলব্ধ নয় এমন প্রাণী) অনুযায়ী ক্যাটাগরি ভিত্তিক প্রস্তাবিত চিকিৎসা ব্যবস্থা:
- প্রাণীকে স্পর্শ করা বা খাওয়ানো, বা অক্ষত ত্বকে চাটা: নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থাকলে কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন নেই।
- সামান্য আঁচড়, ত্বকে কামড় কিন্তু রক্তপাত নেই, বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে চাটা: অবিলম্বে ০, ৩, ৭, ১৪ ও ২৮ দিনে রেবিস ভ্যাকসিন দিতে হবে। ১০ দিন পর্যবেক্ষণে প্রাণী সুস্থ থাকলে বা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে চিকিৎসা বন্ধ করা যেতে পারে।
এক বা একাধিক গভীর কামড় বা আঁচড় (বিশেষ করে মাথা, গলা, কাঁধ, হাত ইত্যাদিতে), বা মিউকাস মেমব্রেনে লালা লাগা: ০, ৩, ৭, ১৪ ও ২৮ দিনে রেবিস ভ্যাকসিনের সাথে ০ দিনে রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দিতে হবে। প্রাণী সুস্থ থাকলে বা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে চিকিৎসা বন্ধ করা যেতে পারে।