Loading...

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট

Generic Medicine
নির্দেশনা

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) জনিত অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়, যারা অন্তত চার মাস ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন।

এই ওষুধটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য নয়:

  • যেসব রোগীর অ্যানিমিয়া দ্রুত ঠিক করার জন্য রক্ত সঞ্চালনের (রেড ব্লাড সেল ট্রান্সফিউশন) প্রয়োজন, সেখানে এর পরিবর্তে ব্যবহার করা যাবে না।
  • যেসব ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রোগী ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন না, তাদের অ্যানিমিয়ার চিকিৎসার জন্য এটি ব্যবহার করা হয় না।
ফার্মাকোলজি

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট একটি হাইপোক্সিয়া-ইনডিউসিবল ফ্যাক্টর প্রোলাইল হাইড্রোক্সিলেজ ইনহিবিটার (HIF-PHI)। এটি HIF-PH এনজাইমের কার্যকারিতা বন্ধ করে কাজ করে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবে হাইপোক্সিয়া-ইনডিউসিবল ফ্যাক্টর (HIF)-এর ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করে। HIF একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের (এরিথ্রোপোয়েসিস) সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরে কম অক্সিজেন (হাইপোক্সিয়া) অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে HIF পথ সক্রিয় হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট HIF-PH এনজাইমকে সাময়িকভাবে বাধা দিয়ে একটি সমন্বিত রক্তকণিকা উৎপাদন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া এরিথ্রোপোয়েটিন (EPO) এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়, আয়রন পরিবহনকারী প্রোটিনগুলোর নিয়ন্ত্রণ হয় এবং হেপসিডিন (একটি আয়রন নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন, যা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে প্রদাহের সময় বেড়ে যায়) কমে যায়। এর ফলে আয়রনের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ে, হিমোগ্লোবিন (Hb) উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং লোহিত রক্তকণিকার মোট পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

চিকিৎসা শুরুর আগে এবং চলাকালীন অ্যানিমিয়া, আয়রন স্টোর এবং লিভার পরীক্ষার মূল্যায়ন

অ্যানিমিয়া ও আয়রন স্টোরের মূল্যায়ন: ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট শুরু করার আগে অ্যানিমিয়ার অন্যান্য কারণ (যেমন ভিটামিন ঘাটতি, মেটাবলিক বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত অবস্থা, রক্তক্ষরণ) ঠিক করতে এবং বাদ দিতে হবে। চিকিৎসা শুরুর আগে এবং চলাকালীন সকল রোগীর আয়রনের অবস্থা মূল্যায়ন করা উচিত।
যদি সিরাম ফেরিটিন ১০০ mcg/mL-এর কম হয় অথবা সিরাম ট্রান্সফেরিন স্যাচুরেশন ২০%-এর কম হয়, তাহলে অতিরিক্ত আয়রন থেরাপি দিতে হবে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) রোগীদের অধিকাংশেরই চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত আয়রনের প্রয়োজন হয়।

লিভার পরীক্ষা: ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট শুরু করার আগে সিরাম অ্যালানিন অ্যামিনোট্রান্সফারেজ (ALT), অ্যাসপার্টেট অ্যামিনোট্রান্সফারেজ (AST), অ্যালকালাইন ফসফাটেজ এবং মোট বিলিরুবিন পরীক্ষা করতে হবে।
চিকিৎসার সময় যদি রোগীর লিভার রোগের মতো কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে লিভার টেস্ট পুনরায় করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ ডোজ সম্পর্কিত তথ্য: ডোজ ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করতে হবে এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন কমাতে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করতে হবে। হিমোগ্লোবিন ১১ g/dL-এর বেশি লক্ষ্য করা উচিত নয়।
ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট খাবারের সাথে বা ছাড়া নেওয়া যায় এবং আয়রন বা ফসফেট বাইন্ডারের সাথে নেওয়ার সময় বিবেচনার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ গিলে খেতে হবে; ট্যাবলেট ভাঙা, চূর্ণ করা বা চিবানো যাবে না।
ডায়ালাইসিসের সময় বা ধরনের সাথে এর কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ক নেই। যদি কোনো ডোজ মিস হয়, তবে যত দ্রুত সম্ভব নিতে হবে, তবে যদি পরের ডোজের দিন হয় তাহলে মিসড ডোজ বাদ দিতে হবে। কখনোই ডাবল ডোজ নেওয়া যাবে না।

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাটের প্রাথমিক ডোজ (ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য): যারা অন্তত ৪ মাস ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন।

ESA না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে: যারা ESA (Erythropoiesis Stimulating Agent) ব্যবহার করছেন না, তাদের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন লেভেলের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক ডোজ নির্ধারণ করা হয়।
যদি রোগী CYP2C8 ইনহিবিটার বা মাঝারি মাত্রার লিভার সমস্যায় (hepatic impairment) আক্রান্ত হন, তাহলে ডোজ পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও ডোজ সমন্বয়: চিকিৎসা শুরুর পর এবং ডোজ পরিবর্তনের পর প্রথম মাসে প্রতি ২ সপ্তাহে এবং এরপর প্রতি ৪ সপ্তাহে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করতে হবে।

  • ডোজ সমন্বয়ের সময় হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির গতি, হ্রাসের গতি এবং পরিবর্তনশীলতা বিবেচনা করতে হবে।
  • প্রতি ৪ সপ্তাহের মধ্যে একবারের বেশি ডোজ বৃদ্ধি করা যাবে না।
  • ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে একবারে এক ধাপ করে বাড়ানো বা কমানো হবে।
  • যদি হিমোগ্লোবিন দ্রুত বেড়ে যায় (যেমন ২ সপ্তাহে ১ g/dL-এর বেশি বা ৪ সপ্তাহে ২ g/dL-এর বেশি) অথবা ১১ g/dL-এর বেশি হয়, তাহলে ডোজ কমাতে হবে।
  • যদি হিমোগ্লোবিন ১২ g/dL-এর বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হবে। লক্ষ্য সীমার মধ্যে এলে এক ধাপ কম ডোজে পুনরায় শুরু করা যেতে পারে। যদি ২৪ সপ্তাহের মধ্যে হিমোগ্লোবিনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হয়, তাহলে ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। পুনরায় শুরু করার আগে অন্যান্য কারণ খুঁজে চিকিৎসা করতে হবে।

লিভার সমস্যায় ডোজ পরিবর্তন: মাঝারি লিভার সমস্যা (Child-Pugh Class B) থাকলে প্রাথমিক ডোজ অর্ধেক করতে হবে, তবে যদি ডোজ ইতিমধ্যে ১ mg হয়, তাহলে পরিবর্তন লাগবে না।
গুরুতর লিভার সমস্যা (Child-Pugh Class C) থাকলে ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না।

CYP2C8 ইনহিবিটার ব্যবহারে ডোজ পরিবর্তন: যদি রোগী ক্লোপিডোগ্রেল বা মাঝারি CYP2C8 ইনহিবিটার ব্যবহার করেন, তাহলে প্রাথমিক ডোজ অর্ধেক করতে হবে (যদি ১ mg না হয়)। চিকিৎসার সময় এই ওষুধ শুরু বা বন্ধ করলে হিমোগ্লোবিন পর্যবেক্ষণ করে ডোজ সমন্বয় করতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

CYP2C8 ইনহিবিটারস: ড্যাপ্রোডুস্ট্যাটের সাথে শক্তিশালী CYP2C8 ইনহিবিটার (যেমন জেমফাইব্রোজিল) একসাথে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, কারণ এতে শরীরে ড্যাপ্রোডুস্ট্যাটের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

CYP2C8 ইনডিউসারস: CYP2C8 এনজাইম ইনডিউসার (যেমন রিফ্যাম্পিন) ড্যাপ্রোডুস্ট্যাটের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, কারণ এতে শরীরে ওষুধের পরিমাণ কমে যায় এবং চিকিৎসার ফল কম কার্যকর হতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা
  • যারা শক্তিশালী CYP2C8 ইনহিবিটার (যেমন জেমফাইব্রোজিল) গ্রহণ করছেন।
  • যাদের উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) নিয়ন্ত্রণে নেই।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
  • হার্ট ফেইলিউরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) বেড়ে যেতে পারে।
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের (জিআই ট্র্যাক্ট) ভেতরের আস্তরণে ক্ষতি বা ক্ষয় হতে পারে, যার মধ্যে পাকস্থলী, খাদ্যনালী (ইসোফেগাস) এবং অন্ত্র অন্তর্ভুক্ত।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। শেষ ডোজ গ্রহণের অন্তত এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত স্তন্যদান (ব্রেস্টফিডিং) সুপারিশ করা হয় না।

সতর্কতা
  • মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি, হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন), স্ট্রোক, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা (ভেনাস থ্রম্বোএম্বোলিজম) এবং ভাসকুলার অ্যাক্সেসে রক্ত জমাট (থ্রম্বোসিস)
  • হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের আস্তরণের ক্ষয়
  • ডায়ালাইসিস না নেওয়া ক্রনিক কিডনি ডিজিজজনিত অ্যানিমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • ক্যান্সার (ম্যালিগন্যান্সি) হওয়ার ঝুঁকি
স্পেশিয়াল পপুলেশন

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশুদের মধ্যে ড্যাপ্রোস্ট্যাট নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

মাত্রাধিকত্যা

তীব্র ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট ওভারডোজের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন বমিভাব) দেখা দিতে পারে। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট) নেই। উচ্চ মাত্রায় প্রোটিনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে হেমোডায়ালাইসিস ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট শরীর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে অপসারণ করতে পারে না।

সংরক্ষণ

৩০°C-এর নিচে তাপমাত্রায় ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে সুরক্ষিত রাখুন। সকল ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট কী জন্য ব্যবহার হয়?

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট কী কাজ করে?

ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

অতিরিক্ত ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট খেলে কী হয়?

গর্ভাবস্থায় কি ড্যাপ্রোডুস্ট্যাট নেওয়া যায়?

No available drugs found

  View in English