Loading...

বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট + ফরমোটেরল ফিউমারেট

Generic Medicine
নির্দেশনা

এই কম্বিনেশন ইনহেলারটি অ্যাজমা এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

অ্যাজমা: যেসব রোগীর ক্ষেত্রে ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড (ICS) এবং দীর্ঘমেয়াদি β2-অ্যাগোনিস্ট (LABA) একসাথে ব্যবহার করা প্রয়োজন, তাদের নিয়মিত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।

COPD: যেসব গুরুতর COPD রোগীর নিয়মিত লং-অ্যাক্টিং ব্রংকোডাইলেটর ব্যবহারের পরও বারবার উপসর্গ বেড়ে যায় (exacerbation), তাদের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি

এই প্রিপারেশনটি বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট এবং ফরমোটেরল ফিউমারেট ডাইহাইড্রেটের সমন্বয়ে তৈরি একটি HFA (হাইড্রোফ্লুরোঅ্যালকেন) ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব ইনহেলার, যা ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) মুক্ত এবং ওজোন স্তরের ক্ষতি করে না। বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি কর্টিকোস্টেরয়েড, যা ইনহেলেশনের মাধ্যমে ফুসফুসে সরাসরি কাজ করে এবং প্রদাহ কমায়, ফলে সিস্টেমিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। ফরমোটেরল ফিউমারেট ডাইহাইড্রেট একটি দীর্ঘমেয়াদি β2-অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট, যার দ্রুত কার্যকারিতা রয়েছে। এটি ব্রংকিয়াল স্মুথ মাসল শিথিল করে শ্বাসনালী প্রসারিত করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করে। ইনহেলারের মাধ্যমে ওষুধ সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে, ফলে লক্ষ্যভিত্তিক কার্যকারিতা পাওয়া যায় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে প্রভাব কম পড়ে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

অ্যাজমা: রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে এলে ডোজ ধীরে ধীরে কমিয়ে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজে আনতে হবে।

মেইনটেন্যান্স থেরাপি: প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর (১৮ বছর বা তার বেশি): দিনে দুইবার ১ বা ২ ইনহেলেশন। সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ ৪ ইনহেলেশন।

মেইনটেন্যান্স ও রিলিভার থেরাপি: রোগী উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজনমতো এই ইনহেলারের দৈনিক মেইনটেন্যান্স ডোজ গ্রহণ করবে। রোগীকে সবসময় রেসকিউ ব্যবহারের জন্য ইনহেলার সাথে রাখার পরামর্শ দিতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর (১৮ বছর বা তার বেশি): দিনে দুইবার ১ ইনহেলেশন। কয়েক মিনিট পরেও উপসর্গ থাকলে অতিরিক্ত ১ ইনহেলেশন নেওয়া যেতে পারে। সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ ৮ ইনহেলেশন।

COPD: দিনে দুইবার ২ ইনহেলেশন।

প্রয়োগ পদ্ধতি:

ইনহেলার ব্যবহার সহজ মনে হলেও অধিকাংশ রোগী সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। ভুলভাবে ব্যবহার করলে ফুসফুসে কম ওষুধ পৌঁছায়। সঠিক ও নিয়মিত ব্যবহার অ্যাজমা অ্যাটাক প্রতিরোধ বা এর তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।

নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করলে ইনহেলার কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় (Asthma Association কর্তৃক প্রকাশিত "National Asthma Guidelines for Medical Practitioners" অনুযায়ী):

  • ক্যাপ খুলে ফেলুন।
  • প্রতিবার ব্যবহারের আগে ইনহেলারটি কমপক্ষে ছয়বার ভালোভাবে ঝাঁকান।
  • ইনহেলারটি নতুন হলে বা এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ব্যবহার না করা হলে, ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে বাতাসে একবার স্প্রে করুন যাতে এটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা বোঝা যায়।
  • যতটা সম্ভব শ্বাস ছেড়ে দিন এবং ইনহেলারটি সোজা ধরে রাখুন।
  • মাউথপিস দাঁতের মাঝে রেখে ঠোঁট দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করুন।
  • মুখ দিয়ে ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নিতে নিতে ক্যানিস্টারটি জোরে চাপ দিন যাতে ওষুধ বের হয়।
  • মুখ থেকে ইনহেলার সরিয়ে অন্তত ১০ সেকেন্ড বা যতক্ষণ আরামদায়ক লাগে শ্বাস ধরে রাখুন।
  • একাধিক ইনহেলেশন নির্ধারিত থাকলে প্রতিটির মধ্যে ১ মিনিট বিরতি দিন।
  • ইনহেলারটি আবার ঝাঁকিয়ে ৪ থেকে ৭ নম্বর ধাপ পুনরাবৃত্তি করুন।
  • ব্যবহারের পর ক্যাপ লাগিয়ে দিন এবং প্রতিবার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে মুখ কুলি করুন।
  • মাঝে মাঝে আয়নার সামনে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করুন। ইনহেলেশনের সময় সাদা ধোঁয়া দেখা গেলে বুঝতে হবে পদ্ধতিতে ভুল হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ৪ নম্বর ধাপ থেকে আবার সঠিকভাবে অনুসরণ করুন।

ইনহেলার পরিষ্কার করার নিয়ম: সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। ক্যানিস্টার খুলে প্লাস্টিক অংশ ও ক্যাপ গরম পানিতে ধুয়ে নিন, তবে ধাতব ক্যানিস্টার পানিতে দেবেন না। ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে পুনরায় বসিয়ে দিন এবং ক্যাপ লাগান।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ওষুধের সাথে: বিটা-অ্যাড্রেনার্জিক ওষুধ, কুইনিডিন, ডিসোপাইরামাইড, প্রোকাইনামাইড, ফেনোথিয়াজিন, অ্যান্টিহিস্টামিন, MAO ইনহিবিটর এবং ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সাথে একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে হৃদরোগজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

খাবার ও অন্যান্য: এই ওষুধের সাথে খাবারের কোনো উল্লেখযোগ্য পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট, ফরমোটেরল ফিউমারেট বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • হাইপোক্যালেমিয়া (পটাশিয়াম কমে যাওয়া)
  • মাথাব্যথা
  • কাঁপুনি
  • হৃদকম্পন
  • কাশি
  • পেশির খিঁচুনি
  • QT interval বৃদ্ধি

বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • র‍্যাশ
  • আর্টিকারিয়া
  • চুলকানি
  • লালচে ভাব (এরিথেমা)
  • চোখ, মুখ, ঠোঁট বা গলায় ফোলা
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এই ইনহেলার শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন মায়ের উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়।

সতর্কতা

এই কম্বিনেশনটি তীব্র অ্যাজমা অ্যাটাক বা দ্রুত খারাপ হওয়া অ্যাজমার চিকিৎসা শুরু করার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

রেসপিরেটরি কর্টিকোস্টেরয়েডস

সংরক্ষণ

প্রেসারযুক্ত ক্যানিস্টার খালি হলেও ছিদ্র করা, ভাঙা বা আগুনে পোড়ানো যাবে না। ৩০° সেলসিয়াসের নিচে, শুষ্ক স্থানে, তাপ ও সরাসরি সূর্যালোক থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। চোখের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট + ফরমোটেরল ফিউমারেট কিসের ওষুধ?

বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট + ফরমোটেরল ফিউমারেট এর কাজ কি?

বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট + ফরমোটেরল ফিউমারেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট + ফরমোটেরল ফিউমারেট বেশি ব্যবহার করলে কি হয় ?

গর্ভাবস্থায় বেক্লোমিথাসোন ডিপ্রোপিওনেট + ফরমোটেরল ফিউমারেট ব্যবহার করা যাবে কি?

No available drugs found

  View in English